। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, ‘‘হে আত্মা! আমি কি দেখছি না যে, তুমি জান্নাতকে অপছন্দ করছো! আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমাকে অবশ্যই জান্নাতে যেতে হবে আনন্দে হোক বা নিরানন্দে’’।
। আমর ইবনে আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ জিহাদ উত্তম? তিনি বলেনঃ যে যুদ্ধে মুজাহিদের রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তার ঘোড়াও আহত হয়।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর পথে আহত ব্যক্তি, আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে আহত হয়, কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার ক্ষতস্থান আহত হওয়ার দিনের মত দগদগে তাজা থাকবে, তার রং হবে রক্তিম বর্ণ এবং তার ঘ্রাণ হবে কস্ত্তরীর মত সুগন্ধে ভরপুর।
। আবদুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের বাহিনীসমুহকে বদদোয়া করে বলেনঃ ‘‘হে কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! আপনি বাহিনীসমূহকে পরাস্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের ভীত-কম্পিত করুন’’।
। সাহল ইবনে হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে সত্যিকারভাবে আল্লাহর নিকট শাহাদাত কামনা করবে, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে তার বিছানায় মারা যায়।
হাদিস 2798 — Sunan Ibn Majah 24:46
Very DaifVery DaifদাঈফIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذُكِرَ الشُّهَدَاءُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ تَجِفُّ الأَرْضُ مِنْ دَمِ الشَّهِيدِ حَتَّى تَبْتَدِرَهُ زَوْجَتَاهُ كَأَنَّهُمَا ظِئْرَانِ أَضَلَّتَا فَصِيلَيْهِمَا فِي بَرَاحٍ مِنَ الأَرْضِ وَفِي يَدِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا حُلَّةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا " .
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শহীদদের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ শহীদের রক্ত মাটিতে শুকিয়ে যাবার আগেই তার দু’জন স্ত্রী (জান্নাতের হূর) এসে তাকে এমনভাবে তুলে নেয়, যেন তারা স্তন্যদানকারিণী, যারা তাদের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে জঙ্গলে হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দু’জনের প্রত্যেকের হাতে থাকবে একটি করে চাদর যা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।
। মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। (১) তার দেহের রক্তের প্রথম ফোঁটাটি বের হতেই তিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়, (২) কবরের আযাব থেকে তাকে রক্ষা করা হয়, (৩) (কিয়ামতের) ভয়ংকর ত্রাস থেকে সে নিরাপদ থাকবে; (৪) তাকে ঈমানের চাদর পরানো হবে; (৫) আয়তলোচনা হুরের সাথে তার বিবাহ দেয়া হবে এবং (৬) তার নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে সত্তরজনের পক্ষে তাকে শাফা‘আত করার অনুমতি দেয়া হবে।
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে হারাম (রাঃ) শহীদ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে জাবির! মহামহিম আল্লাহ তোমার পিতাকে যা বলেছেন তা কি আমি তোমাকে অবহিত করবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা যার সাথেই কথা বলেছেন, পর্দার অন্তরাল থেকে বলেছেন, কিন্তু তোমার পিতার সাথে সামনা সামনি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, হে আমার বান্দা! তুমি আকাক্ষা করো, আমি তোমাকে দিবো। সে বললো, হে প্রভু! আমাকে জীবিত করুন আমি পুনরায় আপনার রাস্তায় শহীদ হবো। তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই এটা সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, এখানে আসার পর তারা আর প্রত্যাবর্তন করবে না। সে বললো, প্রভু! আমার পক্ষ থেকে আমার পশ্চাতের (পৃথিবীর) লোকেদের সুসংবাদ পৌঁছে দিন। তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ): ‘‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে তোমরা কখনও মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত ....’’ (সূরা আল ইমরানঃ ১৬৯-১৭১)।
। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী সম্পর্কে বর্ণিতঃ ‘‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে তোমরা কখনো মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তারা রিযিকপ্রাপ্ত’’ (সূরা আল ইমরানঃ ১৬৯)। তিনি বলেন, আমরা উক্ত আয়াতের তাৎপর্য জিজ্ঞেস করলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শহীদগণের রূহ সবুজ পাখির ন্যায় স্বাধীনভাবে জান্নাতে যত্রতত্র উড়ে বেড়ায় এবং আরশের সাথে ঝুলন্ত ফানুসের মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ করে। একদা তাদের রূহসমূহ ঐ অবস্থায় থাকাকালে তোমার প্রতিপালক তাদের নিকট উদ্ভাসিত হয়ে বলেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমার নিকট চাও। তারা বললো, আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার নিকট আর কি চাবো! আমরা তো স্বাধীনভাবে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াই। তারা যখন দেখলো যে, কিছু না চাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছাড়া হচ্ছে না, তখন তারা বললো, আমরা আপনার নিকট চাই যে, আপনি আমাদের দেহে আমাদের রূহ ফেরত দিয়ে আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠাবেন, যাতে আমরা আপনার রাস্তায় জিহাদ করতে পারি। আল্লাহ যখন দেখলেন যে, তারা কেবল এটাই চাচ্ছে, তখন তাদেরকে (স্ব স্ব অবস্থায়) ত্যাগ করা হলো।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদ ব্যক্তি নিহত হওয়ার সময় কোন কষ্টই অনুভব করে না, শুধু এতটুকু যে, তোমাদের কাউকে পিঁপড়ায় দংশন করলে সে যতটকু ব্যথা অনুভব করে।