। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে, অতঃপর সে যত সত্বর শাস্তি ভোগ করে, সেটাই তার অপরাধের কাফফারা অন্যথায় তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোর্পদ হয়।
। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন পাপ কাজ করার পর সেজন্য সে শাস্তি ভোগ করলে আল্লাহ তা‘আলা তার সেই বান্দাকে পুনর্বার (একই অপরাধের) শাস্তি দেয়ার বিষয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ। কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে পাপকাজ করার পর আল্লাহ তা গোপন করে রাখলেন। আল্লাহ যা উপেক্ষা করেছেন তার জন্য পুনরায় গ্রেফতার করার ব্যাপারে অধিক দয়াপরবশ।
হাদিস 2605 — Sunan Ibn Majah 20:73
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَدِينِيُّ أَبُو عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَجِدُ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . قَالَ سَعْدٌ بَلَى وَالَّذِي أَكْرَمَكَ بِالْحَقِّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْمَعُوا مَا يَقُولُ سَيِّدُكُمْ " .
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সাদ ইবনে উবাদা আল-আনসারী (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ব্যক্তি বেগানা পুরুষ লোককে তার স্ত্রীর সাথে (অবৈধ কাজে লিপ্ত) পেলে সে কি তাকে হত্যা করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না। সাদ (রাঃ) বলেনঃ হাঁ, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দীন দান করে সম্মানিত করেছেন (সে তাকে অবশ্যই হত্যা করবে)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের নেতা যা বলেন তা শোনো।
। সালামা ইবনুল মুহাবিবক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হদ্দ সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলে তীক্ষ্ণ আত্মমর্যাদাবোধের অধিকারী আবূ সাবিত সাদ ইবনে উবাদা (রাঃ) কে বলা হলো, তোমার স্ত্রীর সাথে বেগানা কোন পুরুষ লোককে পেলে তুমি কী করবে? তিনি বলেন, আমি তাদের উভয়কে তরবারির আঘাতে হত্যা করবো। আমার দ্বারা এটা সম্ভব হবে না যে, আমি এই অপকর্মের চারজন সাক্ষী তালাশ করবো এবং সাক্ষী নিয়ে আসতে আসতে সে তার অপকর্ম শেষ করবে অথবা আমি তোমাদের সামনে এসে বলবো যে, আমি এরূপ এরূপ দেখেছি এবং তোমরা আমাকে যেনার অপবাদের শাস্তি দিবে এবং আর কখনো আমার সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। রাবী বলেন, বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আলোচনা করা হলে তিনি বলেনঃ তরবারিই সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট, অতঃপর তিনি বলেনঃ না (এ অনুমতি দেয়া যায় না)। আমি আশঙ্কা করছি যে, উন্মাদ ও আত্মমর্যাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি তাই করে বসবে। ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ইবনে মাজা (রাঃ) বলেন, আমি আবূ যুরআ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এটা হলো আলী ইবনে মুহাম্মাদ আত-তানাফিসী বর্ণিত হাদীস, যার অংশবিশেষ আমার স্মরণ নাই।
হাদিস 2607 — Sunan Ibn Majah 20:75
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، جَمِيعًا عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مَرَّ بِي خَالِي - سَمَّاهُ هُشَيْمٌ فِي حَدِيثِهِ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو - وَقَدْ عَقَدَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِوَاءً فَقُلْتُ لَهُ أَيْنَ تُرِيدُ فَقَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ مِنْ بَعْدِهِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ .
। আল-বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মামা আমাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। অধস্তন রাবী হুশাইম তার রিওয়ায়াতে তার জন্য একটি পতাকা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছেন, যে তার পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন তাকে হত্যা করি।
। মুআবিয়া ইবনে কুররা (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার জন্য তার সমস্ত মালপত্র নিয়ে নেয়ার জন্য আমাকে পাঠান।
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্যের সাথে জন্মসূত্র স্থাপন করে অথবা নিজের মনিব ব্যতীত অন্যকে মনিব বানায়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।
। আবূ উসমান আন-নাহ্দী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাদ (রাঃ) ও আবূ বাকরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি এবং তাদের প্রত্যেকেই বলেছেন, আমার উভয় কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুখস্থ রেখেছে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সজ্ঞানে নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য লোককে বাপ বলে পরিচয় দেয়, জান্নাত তার জন্য হারাম।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অপর ব্যক্তিকে বাপ বলে পরিচয় দেয়, সে জান্নাতের সুবাসটুকুও পাবে না। অথচ পাঁচ শত বছরের দূরত্ব থেকে জান্নাতের সুবাস পাওয়া যাবে।
। আশআছ ইবনে কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কিনদা গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তারা (কিনদা গোত্র) আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে করতো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনারা কি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নন? তিনি বলেনঃ আমরা বানূ নাযর ইবনে কিনানার বংশধর। আমরা আমাদের মাতার প্রতি অপবাদ আরোপ করি না এবং আমাদের পিতৃপুরুষ থেকেও পৃথক হই না। রাবী বলেন, (এরপর থেকে) আশআছ ইবনে কায়েস (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি কুরায়শ গোত্রের কোন লোককে নাযর ইবনে কিনানা গোত্রভুক্ত নয় বলে দাবি করবে, আমি অবশ্যই তাকে কাযাফ-এর শাস্তি দিবো।