حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَصَابَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَصَاصَةٌ فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا فَخَرَجَ يَلْتَمِسُ عَمَلاً يُصِيبُ فِيهِ شَيْئًا لِيُغِيثَ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى بُسْتَانًا لِرَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ فَاسْتَقَى لَهُ سَبْعَةَ عَشَرَ دَلْوًا كُلُّ دَلْوٍ بِتَمْرَةٍ فَخَيَّرَهُ الْيَهُودِيُّ مِنْ تَمْرِهِ سَبْعَ عَشَرَةَ عَجْوَةً فَجَاءَ بِهَا إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যাভাবে পতিত হলেন। ‘আলী (রাঃ) তা জানতে পেরে কাজের সন্ধানে বের হলেন, যাতে কিছু রোজগার করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদ্যাভাব দূর করতে পারেন। তিনি এক ইহূদীর খেজুর বাগানে পৌঁছে প্রতি বালতি পানির বিনিময়ে একটি করে খেজুরের শর্তে (কূপ থেকে) সতের বালতি পানি উঠালেন। ইহূদী তাকে সতেরটি উত্তম খেজুর বেছে নেয়ার এখতিয়ার দিলো। তিনি খেজুরসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট উপস্থিত হলেন।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার সম্প্রদায়ের এক সাহাবী এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কী ব্যাপার, আমি আপনাকে বিবর্ণ দেখছি। তিনি বলেনঃ ক্ষুধার কারণে। অতএব আনসারী নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেন, কিন্তু বাড়িতে কিছু না পেয়ে কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি এক ইহূদীকে খেজুর বাগানে পানি সেচ করতে দেখলেন। আনসারী ইহূদীকে বললেন, আমি কি তোমার বাগানে পানি সেচে দিবো? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেন, প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর। আনসারী আরও শর্ত লাগান যে, কালো খেজুর, শুষ্ক খেজুর ও নিকৃষ্ট খেজুর নিবো না, বরং উত্তম খেজুর নিবো। অতঃপর তিনি পানি সেচ করে দু’ সা‘ পরিমাণ খেজুর পেলেন এবং তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে হাজির হলেন।
। রাফে ইবনে খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা ও মুযাবানা পদ্ধতির লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি জমি চাষাবাদ করবে। (১) যার জমি আছে সে তা চাষাবাদ করবে, (২) যাকে ধারে জমি দান করা হয়েছে সে তার চাষাবাদ করবে এবং (৩) যে ব্যক্তি নগদ অর্থে জমি ভাড়া দেয়।
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মুখাবারা (ভাগচাষ) করতাম এবং তা দূষণীয় মনে করতাম না। এক পর্যায়ে আমরা রাফে ইবনে খাদীজ (রাঃ)-কে বলতে শুনলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাগচাষ নিষেধ করেছেন। তখন আমরা তার কথায় এটা ত্যাগ করলাম।
। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কতক লোকের উদ্বৃত্ত জমি ছিল। তারা তা এক-তৃতীয়াংশ ও এক-চতুর্থাংশ ফসলের চুক্তিতে বর্গা দিতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার উদ্বৃত্ত জমি আছে সে যেন নিজে তা চাষাবাদ করে অথবা তার ভাইকে চাষাবাদ করতে দেয়। সে তাতে সম্মত না হলে তার জমি পতিত রাখুক।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার জমি আছে সে যেন তা নিজে চাষাবাদ করে অথবা তার অপর ভাইকে কোনরূপ বিনিময় ছাড়াই চাষাবাদ করতে দেয়। সে তাতে সম্মত না হলে তার জমি পতিত রাখুক।
হাদিস 2453 — Sunan Ibn Majah 16:18
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَأَبُو أُسَامَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، - أَوْ قَالَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يُكْرِي أَرْضًا لَهُ مَزَارِعًا فَأَتَاهُ إِنْسَانٌ فَأَخْبَرَهُ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ كِرَاءِ الْمَزَارِعِ فَذَهَبَ ابْنُ عُمَرَ وَذَهَبْتُ مَعَهُ حَتَّى أَتَاهُ بِالْبَلاَطِ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ كِرَاءِ الْمَزَارِعِ فَتَرَكَ عَبْدُ اللَّهِ كِرَاءَهَا .
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার জমি বর্গা পদ্ধতিতে ভাড়া দিতেন। তার নিকট এক ব্যক্তি এসে তাকে ইবনে খাদীজ (রাঃ) -এর বরাতে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। তখন ইবনে উমর (রাঃ) তার কাছে গেলেন এবং আমিও তার সাথে গেলাম। বালাত নামক স্থানে তিনি তার সাক্ষাত পেয়ে এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্গাচাষ নিষিদ্ধ করেছেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) জমি বর্গা দেয়া ত্যাগ করেন।
। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ যার জমি আছে সে যেন তা নিজে চাষাবাদ করে অথবা অন্যকে চাষাবাদ করতে ধার দেয়, কিন্তু যেন ইজারা (বর্গা) না দেয়।