। যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) ইয়ামান থাকাকালে তার সামনে মীমাংসার জন্য এই মর্মে একটি বিষয় উত্থাপিত হয় যে, তিন ব্যক্তি একই তুহরে এক নারীর সাথে সংগম করে (ফলে তার একটি সন্তান হয়)। আলী (রাঃ) দু’জনকে জিজ্ঞেস করেন (তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখিয়ে) তোমরা কি সন্তানটি এই ব্যক্তির বলে স্বীকার করো? তারা বললো, না। তিনি আবার দু’জনকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি সন্তানটি এই ব্যক্তির বলে স্বীকার করো? তারা বললো, না। তিনি যখনই দু’জনকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি সন্তানটি তার বলে স্বীকার করো, তখনই তারা বলে, না। অতঃপর আলী (রাঃ) তাদের মধ্যে লটারীর ব্যবস্থা করেন এবং লটারীতে যার নাম উঠে, তিনি তাকে সন্তানটি দিলেন এবং তার উপর দু’-তৃতীয়াংশ দিয়াত ধার্য করেন। এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বলা হলে তিনি এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত প্রকাশ পেলো।
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রফুল্ল মনে ঘরে প্রবেশ করে বলতে লাগলেনঃ হে আয়েশা! তুমি কি দেখোনি যে, মুজাযযায আল-মুদলিজী আমার ঘরে প্রবেশ করে উসামা ও যায়েদকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে তাদের মাথা ঢাকা ও পা বের করা অবস্থায় ঘুমন্ত দেখতে পেলো। সে বললো, এই পান্ডলোর কতক অপর কতক থেকে।
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কুরাইশগণ এক জ্যোতিষী নারীর কাছে গিয়ে তাকে বললো, আমাদের মধ্যে মাকামে ইবরাহীমের মালিকের (ইবরাহীম আ) সাথে কার অধিক সদৃশ্য তা বলে দিন। সে বললো, তোমরা যদি এই নরম মাটির উপর দিয়ে একটি চাদর টেনে দেয়ার পর উক্ত মাটির উপর দিয়ে (নগ্নপদে) হেঁটে যাও তবে আমি তোমাদের তা বলতে পারবো। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর তারা একটি চাদ টেনে নেয়ার পর ঐ মাটির উপর দিয়ে হেঁটে গেলো। অতঃপর সেই নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পদচিহৃ দেখিয়ে বললো, তোমাদের মধ্যে ইনিই তাঁর (ইবরাহীমের) সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ঘটনার পর তারা আল্লাহর মর্জি বিশ বছর বা ততোধিক অপেক্ষা করলো। শেষে আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নবুয়াত দান করেন।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুকে তার পিতা ও মাতার মধ্যে (যাকে ইচ্ছা গ্রহণ করার) এখতিয়ার দিয়ে বলেনঃ হে বৎস! এই তোমার মা এবং এই তোমার বাপ।
। আবদুল হামীদ ইবনে সালামা (রাঃ) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তার পিতা-মাতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (সন্তানের তত্তাবধানের ব্যাপারে) বিবাদ পেশ করে। তাদের একজন ছিল কাফের এবং অপরজন মুসলিম। তিনি সন্তানকে এখতিয়ার দিলে সে কাফেরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে হেদায়াত দান করুন। অতঃপর সে মুসলিমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। অতএব তিনি তাকে মুসলিমের সাথে থাকার ফয়সালা দেন।
। আমর ইবনে আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মুসলিমদের মধ্যে সন্ধি ও সমঝোতা স্থাপন করা জায়েয, তবে হালালকে হারামকারী এবং হারমকে হালালকারী সন্ধি ব্যতীত।
হাদিস 2354 — Sunan Ibn Majah 13:47
সহিহ Hadithসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، كَانَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عُقْدَتِهِ ضَعْفٌ وَكَانَ يُبَايِعُ وَأَنَّ أَهْلَهُ أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ احْجُرْ عَلَيْهِ . فَدَعَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَهَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لاَ أَصْبِرُ عَنِ الْبَيْعِ . فَقَالَ " إِذَا بَايَعْتَ فَقُلْ هَا وَلاَ خِلاَبَةَ " .
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি করতে গিয়ে (বুদ্ধির) দুর্বলতার কারণে ঠকে যেতো। তার পরিবারের লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার উপর প্রতিবন্ধকতা আরোপ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে নিয়ে ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হতে নিষেধ করলেন। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করে ধৈর্য ধারণ করতে পারবো না। তিনি বলেনঃ তুমি ক্রয়-বিক্রয় করাকালে বলো, নগদ আদান-প্রদান হবে এবং যেন প্রতারণা করা না হয়।
। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনকিয ইবনে আমর হলেন আমার নানা। তার মাথায় একটি প্রচন্ড আঘাত লাগার ফলে তার জিহবা আড়ষ্ট হয়ে গেলো। এতদসত্ত্বেও তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করা ত্যাগ করেননি। তিনি প্রায়ই ঠকে যেতেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে জানান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি যখন ক্রয়-বিক্রয় করবে তাখন বলো, যেন প্রতারণা করা না হয়। অতঃপর তুমি যে পণ্যই ক্রয় করবে, তিন দিনের এখতিয়ার পাবে। তুমি সন্তুষ্ট হতে পারলে পণ্য রেখে দিবে এবং অসন্তুষ্ট হলে তা তার মালিককে ফেরত দিবে।
হাদিস 2356 — Sunan Ibn Majah 13:49
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا فَكَثُرَ دَيْنُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ " . فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ وَلَيْسَ لَكُمْ إِلاَّ ذَلِكَ " . يَعْنِي الْغُرَمَاءَ .
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক ব্যক্তি ফলের বাগান ক্রয় করে লোকসানের শিকার হয় এবং মারাত্মকভাবে ঋনগ্রস্ত হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের বলেনঃ তোমরা তাকে দান-খয়রাত করো। অতএব লোকজন তাকে দান-খয়রাত করলো কিন্তু তাতেও তার ঋণ শোধ হলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাওনাদারদের বলেনঃ তোমরা যা পেয়েছো তাই নিয়ে নাও, এর বেশী আর পাবে না।
হাদিস 2357 — Sunan Ibn Majah 13:50
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزٍ، عَنْ سَلَمَةَ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلَعَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ مِنْ غُرَمَائِهِ ثُمَّ اسْتَعْمَلَهُ عَلَى الْيَمَنِ فَقَالَ مُعَاذٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَخْلَصَنِي بِمَالِي ثُمَّ اسْتَعْمَلَنِي .
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) কে তার পাওনাদারদের থেকে নিষ্কৃতি দেন, তারপর তাকে ইয়ামানের শাসক নিয়োগ করেন। মুআয (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাল দ্বারা আমাকে ঋণমুক্ত করেন, অতঃপর আমাকে শাসক নিয়োগ করেন।