। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ পাঁচ ‘ওয়াসাক’-এর কম পরিমাণ খেজুরে, পাঁচ ‘উকিয়া’-এর কম পরিমাণ মুদ্রায় এবং পাঁচের কম সংখ্যক উটে যাকাত নেই।
হাদিস 1794 — Sunan Ibn Majah 8:12
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسَاقٍ صَدَقَةٌ " .
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উটের সংখ্যা পাঁচের কম হলে তাতে যাকাত নেই, পাঁচ ‘উকিয়া’-এর কম মুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাক-এর কম ফসলে যাকাত নেই।
হাদিস 1795 — Sunan Ibn Majah 8:13
হাসানহাসানদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ حُجَيَّةَ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ الْعَبَّاسَ، سَأَلَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ فَرَخَّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ .
। ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আব্বাস (রাঃ) তার মালের বর্ষপূর্তির পূর্বে যাকাত প্রদানের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন।
হাদিস 1796 — Sunan Ibn Majah 8:14
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا أَتَاهُ الرَّجُلُ بِصَدَقَةِ مَالِهِ صَلَّى عَلَيْهِ فَأَتَيْتُهُ بِصَدَقَةِ مَالِي فَقَالَ " اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى " .
। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার মালের যাকাত নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি তার জন্য দু‘আ করতেন। আমি আমার মালের যাকাত নিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি দু‘আ করলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আপনি আবূ আওফার পরিবারের প্রতি দয়া করুন’’।
হাদিস 1797 — Sunan Ibn Majah 8:15
MawduMawduদাঈফ
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْبَخْتَرِيِّ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِذَا أَعْطَيْتُمُ الزَّكَاةَ فَلاَ تَنْسَوْا ثَوَابَهَا أَنْ تَقُولُوا اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا مَغْنَمًا وَلاَ تَجْعَلْهَا مَغْرَمًا " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন যাকাত দিবে তখন তার সওয়াবের কথা ভুলে যেও না এবং এ দু‘আ করোঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আপনি এই যাকাতকে তওবা কবুলের উসীলা বানিয়ে দিন এবং একে ঋণ পরিশোধের (বা জরিমানার) পর্যায়ভুক্ত না করুন’’।
। ‘আবদুল্লাহ্ বিন ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, সালেম (রহ.) আমাকে একটি পত্র পড়ে শোনান, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইনতিকালের পূর্বে যাকাত সম্পর্কে লিখেছিলেন। আমি তাতে যে তথ্য পাই তা হলোঃ পাঁচ উটের যাকাত একটি বকরি, দশ উটে দু’টি বকরি, পনের উটে তিনটি বকরি, বিশ উটে চারটি বকরি এবং পচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ উটে একটি ‘‘বিনতে মাখাদ’’ (পূর্ণ এক বছর বয়সের উষ্ট্রী), আর ‘‘বিনতে মাখাদ না পাওয়া গেলে একটি ইবনু লাবূন (পূর্ণ দু’ বছর বয়সের উট)। উটের সংখ্যা পঁয়ত্রিশ থেকে একটি বেশি হলে পঁয়তাল্লিশ সংখ্যক পর্যন্ত একটি ‘বিনতে লাবূন’। উটের সংখ্যা পঁয়তাল্লিশ-এর একটি বেশি হলে ষাট সংখ্যক পর্যন্ত একটি ‘হিক্কাহ’ (পূর্ণ তিন বছর বয়সের উষ্ট্রী)। উটের সংখ্যা ষাট-এর একটি বেশি হলে পঁচাত্তর সংখ্যক পর্যন্ত একটি ‘‘জাযাআহ’’ (পূর্ণ চার বছর বয়সের উষ্ট্রি)। উটের সংখ্যা পঁচাত্তরের চেয়ে একটি বেশি হলে, নব্বই সংখ্যক পর্যন্ত দু’টি ‘‘বিনতে লাবূন’’। উটের সংখ্যা নব্বই থেকে একটি বেশি হলে এক শত বিশ সংখ্যক পর্যন্ত দু’টি হিক্কাহ্ যাকাত স্বরূপ দিতে হবে। এক শত বিশের অধিক প্রতি পঞ্চশ উটে একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশ উটে একটি ‘বিনতে লাবূন’’।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উটের সংখ্যা পাঁচ-এর কম হলে কোন যাকাত নাই। পাঁচ থেকে নয় পর্যন্ত উটে একটি বকরি, দশ থেকে চৌদ্দ পর্যন্ত উটে দু’টি বকরি, পনের থেকে উনিশ পর্যন্ত উটে তিনটি বকরি, বিশ থেকে চবিবশ পর্যন্ত উটে চারটি বকরি, পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত উটে একটি বিনতে মাখাদ। যদি বিনতে মাখাদ না পাওয়া যায়, তবে একটি ইবনু লাবূন আদায় করতে হবে। উটের সংখ্যা বেড়ে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত পৌঁছলে এতে একটি বিনতে লাবূন। উটের সংখ্যা বেড়ে পঁচাত্তর পৌঁছলে এতে দু’টি বিনতে লাবূন। উটের সংখ্যা বেড়ে এক শত বিশ পর্যন্ত পৌঁছলে এতে দু’টি হিক্কাহ। উটের সংখ্যা বেড়ে একশত বিশের অধিক হলে প্রতি পঞ্চাশ উটে একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশ উটে একটি বিনতে লাবূন আদায় করতে হবে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) তাকে লিখে পাঠানঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। এটি যাকাতের বিধান, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে মুসলিমদের জন্য ফরয করেছেন। উটের যত সংখ্যকে (যাকাত বাবদ) বকরি প্রদান করতে হয়, তারপর থেকে তার নিকট একটি জাযাআহ যাকাত বাবদ প্রদানের সম-সংখ্যক উট আছে, কিন্তু জাযাআহ নাই, তবে হিক্কাহ্ আছে, তার নিকট থেকে হিক্কাহ্ গ্রহণ করা হবে, উপরন্তু সহজলভ্য হলে তার থেকে দু’টি বকরি অথবা বিশ দিরহাম নেয়া হবে। যার উটের সংখ্যা একটি হিক্কাহ্ প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিন্তু তার নিকট হিক্কাহ্ নাই, তবে বিনতে লাবূন আছে, তার নিকট থেকে (যাকাত স্বরূপ) বিনতে লাবূন গ্রহণ করা হবে, উপরন্তু তার থেকে সহজলভ্য হলে দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম আদায় করা হবে। যার উটের সংখ্যা একটি বিনতে লাবূন প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিন্তু তার নিকট বিনতে লাবূন নাই, তবে হিক্কাহ্ আছে, তার নিকট থেকে হিক্কাহ্ গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে দু’টি বকরি অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যার যাকাত বিনতে লাবূন প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে কিন্তু তার নিকট বিনতে লাবূন নাই, তবে বিনতে মাখাদ আছে, তার থেকে বিনতে মাখাদ গ্রহণ করা হবে, উপরন্তু তার থেকে দু’টি বকরি অথবা বিশ দিরহাম উসূল করা হবে। যার যাকাত বিনতে মাখাদ প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিন্তু তার নিকট বিনতে মাখাদ নাই, তবে বিনতে লাবূন আছে, তার থেকে বিনতে লাবূন গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে দু’টি বকরি অথবা বিশ দিরহাম ফেরত দিবে। বিনতে মাখাদ ফরয হওয়ার ক্ষেত্রে তা না থাকলে এবং বিনতে লাবূন থাকলে তাই গ্রহণ করা হবে এবং যাকাতদাতাকে অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে না।
হাদিস 1801 — Sunan Ibn Majah 8:19
হাসানহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ، عَنْ أَبِي لَيْلَى الْكِنْدِيِّ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ جَاءَنَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَقَرَأْتُ فِي عَهْدِهِ لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ . فَأَتَاهُ رَجُلٌ بِنَاقَةٍ عَظِيمَةٍ مُلَمْلَمَةٍ فَأَبَى أَنْ يَأْخُذَهَا فَأَتَاهُ بِأُخْرَى دُونَهَا فَأَخَذَهَا وَقَالَ أَىُّ أَرْضٍ تُقِلُّنِي وَأَىُّ سَمَاءٍ تُظِلُّنِي إِذَا أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَقَدْ أَخَذْتُ خِيَارَ إِبِلِ رَجُلٍ مُسْلِمٍ .
। সুয়াইদ ইবনু গাফালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যাকাত আদায়কারী কর্মচারি আমাদের নিকট আসলে আমি তার হাত ধরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই নির্দেশ পাঠ করে শুনালামঃ ‘‘যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্ন মালকেক একত্র করা এবং একত্রিত মালকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না’’। ইতোমধ্যে এক ব্যক্তি তার একটি বিরাট ও মোটাতাজা উষ্ট্রী নিয়ে আসলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এরপর লোকটি আগেরটির চাইতে কম হৃষ্টপুষ্ট উট নিয়ে আসলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং বলেনঃ কোন্ মাটি আমাকে বহন করবে এবং কোন্ আকাশ আমাকে ছায়া দান করবে, যখন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন মুসলিম ব্যক্তির উৎকৃষ্ট উট নিয়ে হাজির হবো।
হাদিস 1802 — Sunan Ibn Majah 8:20
সহিহসহিহদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ يَرْجِعُ الْمُصَدِّقُ إِلاَّ عَنْ رِضًا " .
। জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী যেন সন্তুষ্ট চিত্তে ফিরে আসে।