মালিক (রহঃ) কয়েকজন বিশিষ্ট আলিম হইতে শ্রবণ করিয়াছেন, তাহারা বলিতেন, যদি মৃত্যুর মুহূর্তে নিহত ব্যক্তি হন্তাকে ক্ষমা করিয়া দেয়, তবে ইহা ইচ্ছাকৃত হত্যায় বৈধ হইবে। কেননা ওয়ারিসদের চেয়ে নিহত ব্যক্তির নিজের রক্তের উপর অধিক অধিকার রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি হত্যাকারীকে তাহার ইচ্ছাকৃত হত্যা ক্ষমা করিয়া দেয়, তবে হত্যাকারীর উপর দিয়াতের বোঝা থাকিবে না। হ্যাঁ, যদি কিসাস ক্ষমা করিয়া দিয়াত সাব্যস্ত করিয়া লয়, তবে তাহা ভিন্ন কথা। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়, আর সাক্ষীদের দ্বারা হত্যা সাব্যস্তও হয় এবং নিহতের ছেলে ও কন্যা থাকে, ছেলেরা তো ক্ষমা করিয়া দেয়, কিন্তু কন্যাগণ ক্ষমা না করে, তবে কোন অসুবিধা থাকিবে না। খুন মাফ হইয়া যাইবে। কেননা ছেলেরা থাকিতে কন্যাগণ ধর্তব্য নহে।
রেওয়ায়ত ১০. আমর ইবন শুআয়েব (রহঃ) বনী মদলজের এক ব্যক্তি, যাহার নাম ছিল কাতাদা, নিজের ছেলেকে তলোয়ারে আঘাত করিল, যাহাতে ঐ ছেলের পায়ে আঘাত লাগিল। ক্ষতস্থান হইতে রক্ত বন্ধ না হইয়া ছেলেটি মারা গেল। সুরাকা ইবন জাশাম উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া ঘটনা বর্ণনা করিল। উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, আমার কাদীদের কূপের নিকট আসা পর্যন্ত ১শত ২০টি উট যোগাড় করিয়া রাখ। যখন তিনি তথায় আসিলেন ঐ উটের ৩০ হক্কা, ২০টি জাযআ, ৪০টি গর্ভবতী উটনী লইলেন এবং বলিলেনঃ নিহত ব্যক্তির ভাই কোথায়? সে বলিল, আমি উপস্থিত আছি। তিনি বলিলেন, তুমি এই উট লইয়া যাও। হত্যাকারী মীরাস পায় না। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল, যদি কেহ হারাম মাসসমূহে কাহাকেও হত্যা করে তবে তাহার দিয়াতের ব্যাপারে কি কঠোরতা অবলম্বন করা হইবে? তিনি বলিলেন, না, বরং ঐ সকল মাস হারাম মাস হওয়ার দরুন দিয়াত বাড়াইয়া লওয়া হইবে। অতঃপর সাঈদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হইল, যদি কেহ এই মাসে কাহাকেও ক্ষত করিয়া দেয়, তবু সেই হত্যার মতো উহার দিয়াতও বৃদ্ধি পাইবে? সাঈদ বললেনঃ হ্যাঁ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় বাড়াইয়া দেওয়ারও উহাই উদ্দেশ্য যেমন মদলজীর দিয়াত উমর (রাঃ) করিয়াছেন যখন সে তাহার ছেলেকে মারিয়াছিল।
রেওয়ায়ত ১১. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক আনসার ব্যক্তি ছিলেন। তাহার নাম ছিল উহায়হা ইবন জুলাহ। উহায়হার একজন চাচা ছিল। সে উহায়হা হইতে বয়সে ছোট ছিল। সে তাহার নানার বাড়িতে বাস করিত। উহায়হা তাহাকে ধরিয়া মারিয়া ফেলিল (হত্যা করিল)। তাহার মামারা বলিলঃ আমরা তাহাকে লালন-পালন করিয়াছি, যখন সে জওয়ান হইল তখন তাহার ভাতিজা আমাদের উপর বিজয়ী হইল এবং সে দিয়াত লইয়া ফেলিল। উরওয়া বলেনঃ এইজন্যই হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হয় না।[1]মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত বিধান যে, ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হয় না। দিয়াত হউক বা অন্য কোন মাল হউক, এমন কি সে কোন ওয়ারিসকে বঞ্চিতও করিতে পারে। ভুলবশত হত্যায়ও হত্যাকারীর দিয়াতের ওয়ারিস হয় না। আমার মতে অন্যান্য মালের ওয়ারিস হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিধান রহিয়াছে যে, যদি কোন ব্যক্তি কাহারও হাত অথবা পা কাটিয়া ফেলে, তবে তাহার উপর কিসাস ওয়াজিব হইবে, দিয়াত নহে। মালিক (রহঃ) বলেন, সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিসাস লওয়া হইবে না। এখন যদি ক্ষতকারীর যখমও ভাল হইয়া যাহাকে ক্ষত করা হইয়াছে তাহার মতো হইয়া যায় তবে ভালই, আর যদি যে ক্ষত করিয়াছে তাহার ক্ষত বাড়িয়া যায় আর এই ক্ষতের দরুন তাহার মৃত্যু ঘটে, তবে যাহাকে যখম করা হইয়াছে তাহার ক্ষতিপূরণ দিতে হইবে না। যদি ক্ষতকারীর ক্ষত একেবারে ভাল হইয়া যায় আর যাহাকে ক্ষত করা হইয়াছে তাহার হাত একেবারে বেকার হইয়া যায় বা উহাতে অন্য কোন ক্রটি থাকিয়া যায়, তবে ক্ষত যে করিয়াছে তাহার নিকট হইতে দ্বিতীয়বার কিসাস লওয়া হইবে না। হ্যাঁ, ক্ষতি অনুসারে দিয়াত লওয়া যাইতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে স্বীয় স্ত্রীর চক্ষু নষ্ট করিয়া দিল বা হাত ভাঙ্গিয়া দিল বা অঙ্গুলি কাটিয়া ফেলিল তবে তাহার নিকট হইতে কিসাস লওয়া হইবে। যদি তাহাকে সতর্ক করার জন্য রশি অথবা কোড়া দ্বারা প্রহার করা হয় এবং অনিচ্ছায় কোন স্থানে লাগিয়া ক্ষত কিংবা অন্য কোন ক্ষতি হইল তবে দিয়াত ওয়াজিব হইবে, কিসাস ওয়াজিব হইবে না।
রেওয়ায়ত ১৪. মুহাম্মাদ ইবন আবদির রহমান ইবন সা’দ ইবন যুরারাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ) এক দাসীকে হত্যা করাইয়াছিলেন, যে দাসী তাঁহার উপর যাদু করিয়াছিল। ইহার পূর্বে তিনি উহাকে মুদাব্বার করিয়াছিলেন। পরে তাহাকে হত্যা করাইলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, যে যাদু জানে এবং জাদু করে তাহাকে হত্যা করাই উচিত।