রেওয়ায়ত ১২. কা’কা ইবনে হাকীম (রহঃ) বলেন, কাবে আহবার (রহঃ) [তিনি ইহুদীদের বড় আলিম ছিলেন। পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।] বলিয়াছেন যে, যদি আমি কয়েকটি শব্দ (কলেমা) পাঠ না করিতাম, তাহা হইলে ইহুদীগণ (যাদু করিয়া) আমাকে গাধা বানাইয়া দিত। তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল যে, সেই শব্দগুলি কি? তিনি বলিলেনঃ أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ الَّذِي لَيْسَ شَىْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ وَبِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لاَ يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلاَ فَاجِرٌ وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَأَ আমি সেই আল্লাহর মহান সত্তার আশ্রয় প্রর্থনা করিতেছি যাহার চাইতে কোন বস্তুই বড় নয়। আর তাহার পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি যাহার আগে কোন ভাল কিংবা মদ যাইতে পারে না, আর তাহার সমুদয় সুন্দর নামের আশ্রয় প্রর্থনা করিতেছি যাহা আমার জানা আছে এবং যাহা আমার জানা নাই; সেই সৃষ্টির অপকারিত হইতে, যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন এবং বিস্তৃত করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ১৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসে বলিবেন, সেই সমস্ত মানুষ কোথায়, যাহারা আমার বুযুর্গীর জন্য পম্পর পরস্পরকে ভালবাসিত? আজ আমি তাহাদেরকে (আমার আরশের) ছায়াতলে স্থান দান করিব। আজকার দিনটা এমন যে, আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোথাও কোন ছায়া নাই।
রেওয়ায়ত ১৪. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) অথবা আবু হুরায়রা (রাঃ)[1] হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যেই দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকিবে না, সেই দিন আল্লাহ তা’আলা সাত প্রকারের মানুষকে তাহার ছায়াতলে স্থান দান করিবেন-(১) ন্যায় বিচারক ইমাম (শাসনকর্তা), (২) ঐ যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের ভিতর দিয়া লালিত-পালিত হইয়াছে, (৩) ঐ ব্যক্তি, যে নামায পড়িয়া মসজিদ হইতে বাহির হইলে পর আবার মসজিদে কখন যাইবে, এই চিন্তায় তাহার মন মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে অর্থাৎ আবার কখন মসজিদে যাইবে এই কথা বার বার তাহার মনে জাগে, (৪) সেই দুই ব্যক্তি, যাহারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য ভালবাসে, তাহারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর জন্যই পৃথক হয়, (৫) যেই ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আল্লাহর ভয়ে তাহার দুই চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়, (৬) সেই ব্যক্তি, যাহাকে কোন সম্ভ্রান্ত পরিবারের রূপসী রমণী (স্বীয় কামভাব চরিতার্থ করার নিমিত্ত) আহবান করে, তবে সে এই বলিয়া (উক্ত আহবান) প্রত্যাখ্যান করে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৭) সেই ব্যক্তি, যে (আন্তরিকতা সহকারে) কিছু সদকা এমনভাবে গোপনে করিয়াছে যে, তাহার ডান হস্ত কি সদকা করিয়াছে উহা তাহার বাম হস্ত পর্যন্ত জানিতে পারে নাই।
রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহ্ যখন তাহার কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন জিবরীলকে বলেন, হে জিবরীল! আমি আমার অমুক বান্দাকে ভালবাসি। অতএব তুমিও তাহাকে ভালবাস। তখন জিবরীলও তাহাকে ভালবাসেন এবং আসমানের অধিবাসীদের (ফিরিশতাগণের) মধ্যে ঘোষণা করেন যে, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ্ পাক ভালবাসেন, অতএব তোমরাও তাহাকে ভালবাস। সুতরাং আসমানের অধিবাসিগণও তাহাকে ভালবাসেন এবং তাহার জন্য যমিনে জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করা হয় (ফলে সে ব্যক্তি জনপ্রিয় হয়) আর যখন আল্লাহ তা’আলা কাহারও প্রতি রাগান্বিত হন; মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয় সেই অবস্থাতেও এই প্রকার কিছু সংঘটিত হয় বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে।
রেওয়ায়ত ১৬. আবু ইদরীস খাওলানী (রহঃ) বলেন, আমি দামিশকের মসজিদে প্রবেশ করিলাম। সেখানে জনৈক যুবককে দেখিলাম, তাহার দাঁতগুলি অতি উজ্জ্বল সাদা (মুক্তার মতো)। তাহার সঙ্গে অনেক মানুষ ছিল। যখনই কোন ব্যাপারে মতবিরোধ হইত, উক্ত যুবকের কথাকেই সনদ (নির্ভরযোগ্য) বলিয়া গণ্য করা হইত এবং তাহার কথার উপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হইত। আমি (আবু ইদরীস) লোকের কাছে জিজ্ঞাসা করিলাম, এই যুবকটি কে? তাহারা বলিল, ইনি হইলেন মুআয ইবনে জবল (রাঃ)। পরদিন প্রাতঃকালে আমি (মসজিদে) যাইয়া দেখি যে, তিনি (মু'আয ইবনে জাবাল) আমার আগেই সেখানে পৌছিয়াছেন এবং নামায পড়িতেছেন। আমি অপেক্ষা করিতে লাগিলাম। তিনি নামায পড়িয়া শেষ করিলে পর আমি তাহার সম্মুখে গিয়া পৌছিলাম। অতঃপর তাহাকে সালাম করিয়া বলিলাম, আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি। তিনি বলিলেন, আল্লাহরই জন্য? আমি বলিলাম, হ্যাঁ, আল্লাহর জন্যই। তিনি (পুনরায়) বললেন, আল্লাহরই জন্য? আমি বলিলাম, হ্যাঁ, আল্লাহরই জন্য। অতঃপর তিনি আমার চাদরের এক কোণা ধরিয়া (আমাকে) নিজের দিকে টানিলেন এবং বলিলেন, আনন্দিত হও! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনিয়াছি, তিনি বলিতেছিলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার ভালবাসা সেই সমস্ত লোকের জন্য ওয়াজিব হইয়াছে যাহারা আমার (সন্তুষ্টির) জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসে, আমারই জন্য একত্রে বলে, আমারই জন্য একে অন্যকে দেয় এবং আমারই জন্য একে অন্যের জন্য খরচ করে।