রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, উসমান (রাঃ)-এর নিকট একটি স্ত্রীলোককে আনা হইয়াছিল, ছয় মাসেই যাহার সন্তান প্রসব হইয়াছে। উসমান (রাঃ) তাহাকে প্রস্তরাঘাত করার আদেশ দিয়া দিলেন। আলী (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তাহার উপর প্রস্তরাঘাত করা যাইবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা (وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاَثُونَ شَهْرًا) “সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থান এবং মাতৃস্তন ছাড়াইবার সময় ৩০ মাস।” অন্য আয়াতে বলা হইয়াছেঃ “মা তাহার সন্তানকে পূর্ণ দুই বৎসর দুধ দান করিবে। (অতএব ৩০ মাস হইতে ২৪ মাস বাদ দিলে ৬ মাস থাকে) তাহা হইলে সন্তানের মাতৃউদরে অবস্থানকাল ৬ মাস হইল। অতএব তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা যাইতে পারে না। ইহা শুনিয়া উসমান (রাঃ) তাহার নিকট লোক পাঠাইয়া দিলেন। তাহারা যাইয়া দেখিল, ততক্ষণে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইয়াছে। আলী (রাঃ)-এর এই ইজতিহাদ দ্বারা সন্তানের মাতৃউদরে অবস্থান সর্বদা ছয় মাস অনিবার্য হইয়া পড়ে, অথচ তাহা হইল সর্বনিম্ন সময়, বরং এই আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, পৌনে দুই বৎসর স্তন দানের এবং নয় মাস উদরে অবস্থানের সময় যে উহা পূর্ণ করিতে চায়। কেননা স্তন দান দুই বৎসরের অতিরিক্ত হওয়া প্রমাণিত নহে। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাবকে জিজ্ঞাসা করিলেন, পুং মৈথুন করিলে তাহার শাস্তি কি? তিনি বলিলেন, তাহাকেও প্রস্তরাঘাত করিতে হইবে, সে বিবাহিত হউক বা অবিবাহিত।
হাদিস 1511 — Muwatta Malik 41:12
দাঈফ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ رَجُلاً، اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَوْطٍ فَأُتِيَ بِسَوْطٍ مَكْسُورٍ فَقَالَ " فَوْقَ هَذَا " . فَأُتِيَ بِسَوْطٍ جَدِيدٍ لَمْ تُقْطَعْ ثَمَرَتُهُ فَقَالَ " دُونَ هَذَا " . فَأُتِيَ بِسَوْطٍ قَدْ رُكِبَ بِهِ وَلاَنَ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجُلِدَ ثُمَّ قَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ آنَ لَكُمْ أَنْ تَنْتَهُوا عَنْ حُدُودِ اللَّهِ مَنْ أَصَابَ مِنْ هَذِهِ الْقَاذُورَاتِ شَيْئًا فَلْيَسْتَتِرْ بِسِتْرِ اللَّهِ فَإِنَّهُ مَنْ يُبْدِي لَنَا صَفْحَتَهُ نُقِمْ عَلَيْهِ كِتَابَ اللَّهِ " .
রেওয়ায়ত ১২. যায়দ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে বলিয়া স্বীকার করিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার জন্য একটি বেত্র আনাইতে চাহিলে তাহার নিকট একটি নূতন বেত্র আনা হইল যাহার মাথা এখনও কাটা হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ ইহা হইতে নরম একটি লও। অতঃপর একটি ভাঙ্গা বেত্র আনা হইল। তিনি বলিলেনঃ ইহা হইতে শক্ত একটি বেত্র আনয়ন কর। অতঃপর এমন একটি বেত্র আনা হইল যাহা বাহনে ব্যবহার করা হইয়াছে তজ্জন্য নরম হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তাহার আদেশে তাহাকে বেত্ৰাঘাত করা হইল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এখন সময় আসিয়াছে তোমরা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা হইতে ফিরিয়া আসিবে। যদি কেহ এইরূপ কোন কিছু করিয়া বসে তবে তাহাকে আল্লাহর পর্দার আড়ালে লুকাইয়া থাকা উচিত। যে ব্যক্তি স্বীয় পর্দা উন্মোচন করিবে তবে আমরা তাহার উপর আল্লাহর কিতাবের নির্ধারিত শাস্তি জারি করিব।
রেওয়ায়ত ১৩. সফীয়া বিনত আবূ উরায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হইল। সে একটি কুমারী বালিকার সহিত ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়া তাহাকে গর্ভবতী করিয়াছিল। অতঃপর সে ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। সে বিবাহিত ছিল না। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে কোড়া লাগাইবার আদেশ করিলেন। ইহার পর ঐ লোকটি ফিদক নামক স্থানে চলিয়া গেল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি ব্যভিচারের কথা স্বীকার করার পর আবার অস্বীকার করিয়া বলে যে, আমি ব্যভিচার করি নাই, তাহা হইলে তাহা হইতে শাস্তি রহিত হইয়া যাইবে। কেননা ব্যভিচারের শাস্তির জন্য হয় চারিজন উপযুক্ত সাক্ষী হইবে, না হয় তাহার স্বীকারোক্তি হইতে হইবে যাহার উপর সে শাস্তির সময় পর্যন্ত স্থির থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার দেশের উলামার মত হইল যে, যদি গোলাম ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাহাকে দেশান্তরিত করা হইবে না।
রেওয়ায়ত ১৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) বলেনঃ কেহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবিবাহিতা দাসী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিল যে, যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাহার বিধান কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তাহাকে বেত্ৰাঘাত করিতে হইবে। তিনবার তিনি এইরূপ বললেন। অতঃপর তাহাকে বিক্রয় করিয়া ফেল, যদি তাহার মূল্য একটি রশির তুল্যও হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব বলেন, তিনি কি তিনবারের পর এ কথা বলিয়াছেন, না চারিবারের পর, তাহা আমার স্মরণ নাই।
রেওয়ায়ত ১৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশের মালের মধ্যে যে সকল দাসদাসী ছিল তাহাদের মধ্যে এক দাস ও এক দাসীর সহিত বলপূর্বক ব্যভিচার করিয়াছিল। উমর (রাঃ) তাহাকে বেত্ৰাঘাত করিয়া তাড়াইয়া দিলেন, (কিন্তু) তিনি দাসীকে প্রহার করিলেন না। কারণ তাহার উপর বল প্রয়োগ করা হইয়াছিল।
রেওয়ায়ত ১৭. আবূ যিনাদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) এক দাসকে অপবাদের শাস্তি হিসাবে আশিটি বেত্ৰাঘাত করিয়াছিলেন। আবূ যিনাদ বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, আমি উমর ও উসমান (রাঃ)-কে এবং তাহাদের পর অপর দুই খলীফাকে দেখিয়াছি কেহই কোন দাসকে অপবাদের শাস্তি হিসাবে চল্লিশ বেত্রাঘাতের বেশি মারেন নাই।
রেওয়ায়ত ১৮. যুরাইক ইবন হাকিম (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি, যাহার নাম মিসবাহ, স্বীয় ছেলেকে কোন কাজে ডাকিলেন। সে আসিতে বিলম্ব করিল। যখন আসিল তখন মিসবাহ বলিলঃ হে ব্যভিচারী। যুরাইক বলেনঃ ঐ ছেলেটি আমার নিকট ফরিয়াদ করিল। আমি যখন তাহার পিতাকে শাস্তি দিতে চাহিলাম, সে বলিতে লাগিল, যদি তুমি আমার পিতাকে বেত্ৰাঘাত কর, তাহা হইলে আমি ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করিব। ইহা শুনিয়া আমি অস্থির হইলাম আর এই ঝগড়ার ফয়সালা করা কষ্টকর হইয়া পড়িল। আমি উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-কে লিখিলাম। ঐ সময় তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। উমর ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) উত্তরে লিখিলেনঃ ছেলেকে ক্ষমা কর। যুরাইক বলেনঃ আমি উমরকে ইহাও লিখিলাম, যদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও অথবা তাহার পিতাকে অথবা তাহার মাতাকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় আর তাহার মাতাপিতা মৃত্যুবরণ করে অথবা তাহাদের একজন মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তখন উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিলেন, যাহাকে অপবাদ দেওয়া হইয়াছে যদি সে ক্ষমা করে, তবে ক্ষমা ঠিকই হইবে। হ্যাঁ, যদি তাহার মাতাপিতা উভয়ে অথবা কোন একজন মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তবে আল্লাহর কিতাবের বিধান মতে তাহার শাস্তি হইবে। হ্যাঁ, যদি ছেলে স্বীয় পিতার অবস্থা লুকাইবার জন্য ক্ষমা করে তবে ক্ষমা বৈধ হইবে।
রেওয়ায়ত ১৯. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি এক কথায়ই অনেক লোকের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, যেমন বলিলঃ তোমরা সকলে ব্যভিচারী অথবা হে ব্যভিচারীর দল, তাহা হইলে তাহার উপর অপবাদের এক শাস্তিই হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি তাহারা পৃথকও হইয়া যায় তবুও একই শাস্তি হইবে। আমারা বিন্তে আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, উমর (রাঃ)-এর সময় দুই ব্যক্তির মধ্যে গালমন্দ হইল। একজন অপরজনকে বলিল, আল্লাহর কসম, আমার পিতা বদকার ছিল না, আমার মাও বদকার ছিল না। উমর (রাঃ) এ ব্যাপারে পরামর্শ করিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, ইহাতে সে মন্দ কি বলিল। সে তো স্বীয় মাতাপিতার ভালই বর্ণনা করিল। অন্যরা বলিল, তাহার পিতার কি এই গুণ অবশিষ্ট ছিল যে, বর্ণনা করিবে? আমাদের মতে তাহাকে অপবাদের শাস্তি দিতে হইবে। অবশেষে উমর (রাঃ) তাহাকে আশি বেত্ৰাঘাত লাগাইলেন। (কেননা তাহার এই কথায় অন্যের মাতাপিতার উপর অপবাদ ছিল। আবু হানীফা ও শাফেয়ীর মতে শাস্তি অনিবার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে অপবাদ, অস্বীকার ও ইশারায় গালি ছাড়া অন্য কোন কথায় শাস্তি অনিবার্য হয় না।) মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে যদি কেহ কাহাকেও তাহার পিতার বংশের অস্বীকার করে তাহা হইলে শাস্তি ওয়াজিব হইবে, তাহার মা দাসী হইলেও।