রেওয়ায়ত ২৯. রবীআ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যুবাইর ইবন আওয়াম এক ব্যক্তিকে দেখিল, সে চোরকে ধরিয়া বিচারকের নিকট লইয়া যাইতেছে। যুবাইর বলিলঃ উহাকে ছাড়িয়া দাও। সে বলিলঃ বিচারকের নিকট না নিয়া আমি তাহাকে ছাড়িব না। যুবাইর বলিলঃ তুমি তাহাকে বিচারকের নিকট লইয়া গেলে সুপারিশকারী ও সুপারিশ মান্যকারীর উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
রেওয়ায়ত ৩০. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইয়ামান হইতে মদীনায় আগমন করিল, যাহার এক হাত এক পা কাটা ছিল। আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া সে বলিতে লাগিল, বিচারক আমার উপর অত্যাচার করিয়াছে। এই ইয়ামানী ব্যক্তি রাত্রে নামায পড়িত। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, তোমার রাত চোরের রাত নহে। ঘটনাক্রমে আসমা (রাঃ)-এর একখানা হার হারাইয়া গেল, অন্যান্য লোকের সহিত ঐ পঙ্গু লোকটিও উহা তালাশ করিতেছিল আর বলিতেছিল, হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের হার চুরি করিয়াছে তাহাকে ধ্বংস কর। অবশেষে এক স্বর্ণকারের দোকানে উক্ত হার পাওয়া গেল। স্বর্ণকার বলিলঃ ইহা তো আমাকে ঐ পঙ্গু লোকটি দিয়াছে। অতঃপর ঐ পঙ্গু লোকটি হয় স্বীকার করিয়াছে অথবা সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারা সাব্যস্ত হইয়াছে যে, এ কাজ ঐ ব্যক্তিরই। আবু বকর (রাঃ)-এর আদেশে ঐ পঙ্গু লোকটির বাম হাত কাটা গেল। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, এই লোকটি যে নিজের উপর বদ দোয়া করিতেছিল উহা তাহার চুরি হইতেও আমার নিকট কঠিন মনে হইতেছিল। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, যদি কোন ব্যক্তি কয়েকবার চুরি করে, তৎপর সে ধৃত হয়, তবে এই কয়েক বারের পরিবর্তে শুধু এক হাতই কাটা যাইবে।
রেওয়ায়ত ৩১. আবু যিনাদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর একজন কর্মচারী ডাকাতির দায়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করিলেন। কিন্তু কাহাকেও হত্যা করেন নাই। এ কর্মচারী ইচ্ছা করিলেন তাহাদের হস্ত কর্তন করিতে অথবা তাহাদেরকে হত্যা করিতে। কিন্তু কোনটি করা ঠিক হইবে সাব্যস্ত করিয়া অবশেষে এ ব্যাপারটি উমর (রাঃ)-কে লিখিয়া জানাইলেন। উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিলেন, যদি তুমি সহজ শাস্তি প্রদান কর তবে তাহাই উত্তম হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে যদি কোন ব্যক্তি বাজারের সামগ্ৰী হইতে এক-চতুর্থাংশ দীনারের সমমানের মাল চুরি করে যাহা উহার মালিক একটি পাত্রে রাখিয়াছে এবং একটিকে অন্যটির সহিত মিলাইয়া রাখিয়াছে, তবে চোরের হাত কাটা যাইবে, ঐ মালের মালিক তথায় উপস্থিত থাকুক অথবা না থাকুক, দিনে চুরি হইয়া থাকুক অথবা রাত্রে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি চুরি করে এমন কিছু যাহার মূল্য দীনারের এক-চতুর্থাংশ। অতঃপর সে ধরা পড়ে উহা মালের প্রকৃত মালিককে প্রত্যর্পণ করে, তবুও তাহার হাত কাটা যাইবে। ইহার উদাহরণ এইরূপঃ যেমন কোন ব্যক্তি কোন মাদক দ্রব্য পান করিল, যাহার গন্ধ তাহার মুখ হইতে নিঃসৃত হইতেছে, কিন্তু মাতাল হইতেছে না, তবে তাহার উপর শাস্তির আদেশ জারি হইবে। কেননা সে ব্যক্তি উহা মাদকতার জন্যই খাইয়াছিল যদিও সে মাতাল হয় নাই। তদ্রুপ চোরও মাল লইয়া যাওয়ার জন্যই চুরি করিয়াছিল, যদিও লইয়া যাইতে সক্ষম হয় নাই। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যদি কতিপয় ব্যক্তি কোন ঘরে চুরি করার নিমিত্তে প্রবেশ করে আর তথা হইতে একটি বাক্স বা কাষ্ঠ অথবা টুকরি সকলে মিলিয়া উঠাইয়া লয় যদি উহার মূল্য এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ হয় তাহা হইলে ঐ সকল ব্যক্তির হাত কাটিতে হইবে। যদি প্রত্যেকে পৃথক পৃথক মাল লইয়া বাহির হয়, তবে যাহার এক-চতুর্থাংশ দীনারের পরিমাণ হয় তাহার হাত কাটা যাইবে। আর যাহার মাল এই পরিমাণের না হইবে তাহার হাত কাটা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মত এই যে, যদি কোন ঘরে শুধু একজন লোকই থাকে আর ঐ ঘর হইতে চোর কোন দ্রব্য চুরি করে, কিন্তু ঘরের বাহিরে লইয়া যাইতে সক্ষম না হয় তবে তাহার হাত কর্তন করা হইবে না, যতক্ষণ না ঐ মাল ঘরের বাহিরে লইয়া যায়। যদি ঘরে পৃথক পৃথক কয়েকটি কামরা থাকে আর প্রতি কামরায় লোক থাকে, এমতাবস্থায় যদি চোর কোন কামরা হইতে কাহারও মাল চুরি করিয়া কামরার বাহিরে লইয়া যায়, কিন্তু ঘরের বাহিরে লইয়া যায় নাই, তবুও তাহার হাত কাটা হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে যে দাস-দাসী ঘরে যাতায়াত করে আর তাহার প্রভু তাহার উপর পূর্ণ নির্ভরশীল থাকে, যদি সে স্বীয় প্রভুর কোন মাল চুরি করে তাহা হইলে তাহার হাত কাটিতে হইবে না। এইরূপে যে দাস বা দাসী ঘরে যাতায়াত করে না, আর প্রভু তাহার উপর নির্ভরও করে না, সেও যদি স্বীয় প্রভুর মাল চুরি করিয়া থাকে তবে তাহার হাত কাটিতে হইবে না। যদি ঐ দাস বা দাসী স্বীয় প্রভুর স্ত্রীর মাল অথবা স্বীয় প্রভুর স্বামীর মাল চুরি করে তাহা হইলেও তাহার হাত কাটিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অনুরূপভাবে যদি স্বামী স্ত্রীর এমন মাল চুরি করে যাহা যেই ঘরে তাহারা উভয়ে অবস্থান করে সেই ঘরে রক্ষিত নহে, বরং অন্য কোন ঘরে রক্ষিত অথবা স্ত্রী স্বীয় স্বামীর এমন মাল চুরি করে যাহা অন্য ঘরে রহিয়াছে তাহা হইলে হাত কাটিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বালক-বালিকা অথবা কোন বিদেশী ব্যক্তি যে এই দেশের কথা বলিতে পারে না যদি কোন চোর ইহাদের ঘর হইতে চুরি করে তাহা হইলে হাত কাটিতে হইবে। যদি রাস্তা হইতে অথবা ঘরের বাহির হইতে লইয়া যায় তাহা হইলে হাত কাটিতে হইবে না। ইহাদের হুকুম পাহাড়ের ছাগল ও গাছের লটকানো ফলের মতো হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কবর খুলিয়া দীনারের চতুর্থাংশ পরিমাণ মাল চুরি করিয়া নেয় তবে চোরের হাত কাটা হইবে। কেননা কবরও ঘরের মতো একটি রক্ষিত স্থান। কিন্তু যতক্ষণ না কাফন কবর হইতে বাহির করিয়া আনিবে ততক্ষণ হাত কাটিতে হইবে না।
রেওয়ায়ত ৩২. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হিব্বান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক দাস একটি বাগান হইতে একটি খেজুরের চারা চুরি করিয়া স্বীয় প্রভুর বাগানে রোপণ করিল। পরে ঐ বাগানের মালিক তাহার চারার অন্বেষণে বাহির হইল এবং ঐ বাগানে আসিয়া তাহার চারা পাইল। সেই ব্যক্তি ঐ দাসের ব্যাপারে মারওয়ানের নিকট নালিশ করিল। মারওয়ান ঐ দাসকে ডাকিয়া বন্দী করিল এবং তাহার হস্ত কর্তনের ইচ্ছা করিল। ঐ দাসের প্রভু রাফি ইবন খাদীজের নিকট উপস্থিত হইয়া আনুপূর্বিক সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। রাফি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, ফল কিংবা কোন চারা গাছের জন্য হাত কাটা হইবে না। সে বলিল, মারওয়ান আমার দাসকে বন্দী করিয়া রাখিয়াছে এবং তাহার হাত কাটিতে চায়। আমার ইচ্ছা আপনি আমার সহিত মারওয়ানের নিকট যাইয়া তাহাকে এই হাদীসটি শোনাইয়া দিন। অবশেষে রাফি তাহার সহিত মারওয়ানের নিকট গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি তাহার দাসকে বন্দী করিয়া রাখিয়াছ? মারওয়ান বলিলঃ হ্যাঁ, রাফি বললেন, কি করিবে? মারওয়ান বলিল, তাহার হাত কাটিয়া ফেলিব। রাফি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনিয়াছি, তিনি বলিয়াছেনঃ ফল ও চারা গাছের জন্য হাত কাটা যাইবে না। ইহা শুনিয়া মারওয়ান ঐ গোলামকে ছাড়িয়া দিতে আদেশ করিল।
রেওয়ায়ত ৩৩. সায়িব ইবন ইয়াযীদ হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হাযরামী (রাঃ) স্বীয় দাসকে উমর (রাঃ)-এর নিকট নিয়া আসিল এবং বলিল, আপনি আমার এই দাসের হাত কাটিয়া ফেলুন। কেননা সে চুরি করিয়াছে। তিনি বলিলেন, কি চুরি করিয়াছে? তিনি বলিলেন, সে আমার স্ত্রীর আয়না চুরি করিয়াছে, যাহার মূল্য হইবে ষষ্ঠ দিরহাম। উমর (রাঃ) বললেন, তাহাকে ছাড়িয়া দাও, তাহার হাত কাটা যাইবে না। সে তোমার চাকর ছিল, তোমার মাল চুরি করিয়াছে।
রেওয়ায়ত ৩৪. ইবন শিহাব বর্ণিত, মারওয়ানের নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হইল, যে ব্যক্তি কাহারও মাল অপহরণ করিয়া লইয়া গিয়াছে। মারওয়ান তাহার হাত কাটিতে মনস্থ করিল। অতঃপর ইহার বিধান জিজ্ঞাসা করিবার জন্য যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে পাঠাইল। তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি কাহারও মাল অপহরণ করে তাহার হাত কাটা হইবে না।
রেওয়ায়ত ৩৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম এক নিবাতী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিল, যে লোহার আংটি চুরি করিয়াছে। তাহাকে হাত কাটিতে ধরিয়া রাখিল। উমরা বিনতে আবদুর রহমান (রাঃ) তাহার উমাইয়া নামক মুক্ত দাসীকে আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট পাঠাইলেন। আবু বকর (রাঃ) বলিলেনঃ আমি কয়েকজন লোকের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম। ইত্যবসরে ঐ দাসী আমার নিকট আসিয়া বলিতে লাগিল, আপনার খালা উমরা বলিয়াছেন, ভাগনে তুমি অল্প কিছু মালের জন্য একজন গ্রাম্য লোককে আটকাইয়া রাখিয়াছ আর তাহার হাত কাটিতে চাহিতেছ? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। সে বলিল, উমরা বলিয়াছেন যে, এক-চতুর্থাংশ দীনারের বিনিময়েই হাত কাটা হইয়া থাকে। অতঃপর আমি তাহাকে ছাড়িয়া দিলাম। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন দাস এইরূপ কোন অন্যায় স্বীকার করে, যাহাতে তাহার উপর হাদ্দ জারি হয় অথবা শাস্তি বর্তায় যাহা তাহার দৈহিক ক্ষতি সাধন করে, (যথাঃ হাত কাটা যায়), তবে তাহা বৈধ। তাহাকে এই দোষারোপ করা হইবে না যে, সে তাহার প্রভুর অনিষ্ট সাধনের নিমিত্ত এই ধরনের অপরাধ স্বীকার করিয়াছে, প্রকৃতপক্ষে সে উহা করে নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, কোন দাস যদি এইরূপ কোন অন্যায় স্বীকার করে যাহার জন্য তাহার প্রভুকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয় এইভাবে যে, প্রভুকে তাহার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তবে তাহার এই স্বীকারোক্তি বৈধ ধরা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন শ্রমিক অথবা অন্য কোন ব্যক্তি যে এমন সব লোকের মধ্যে থাকে, যাহাদের সে খিদমত করে সে তাহাদের কোন বস্তু চুরি করিলে হাত কাটা যাইবে না। কেননা সে খেয়ানতকারীর মতো হইল। আর খেয়ানতকারী ব্যক্তির হাত কাটা হয় না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কাহারও কোন দ্রব্য চাহিয়া নেয়, অতঃপর তাহা অস্বীকার করে, তবে তাহার হাত কাটা হইবে না। ইহার উদাহরণ এইরূপঃ যেমন কেহ কাহারও নিকট হইতে ঋণ লইয়া তাহা অস্বীকার করিল তখন তাহার হাত কাটা হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত বিধান যে, যদি চোর ঘরে ঢুকিয়া মাল একত্র করিয়া নেয় কিন্তু উহা ঘর হইতে বাহির করিল না, তাহা হইলে তাহার হাত কাটা হইবে না। ইহার উদাহরণ এইরূপঃ যেমন কাহারও সম্মুখে পান করিবার জন্য মদ রাখা আছে, কিন্তু সে এখনও উহা পান করে নাই; এমতাবস্থায় তাহাকে মদ্য পানের শাস্তি দেওয়া হইবে না। উহার উদাহরণ এইরূপও হইতে পারে, যেমন কেহ কোন স্ত্রীলোকের নিকট সহবাস করিতে উপবেশন করিল, কিন্তু তাহার লজ্জাস্থানে স্বীয় লজ্জাস্থান প্রবেশ করায় নাই, এমতাবস্থায় তাহার উপর ব্যভিচারের শাস্তি বর্তিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট একটি সর্বসম্মত বিধান এই যে, ছিনাইয়া লইলে হাত কাটা হইবে না, যদিও ঐ দ্রব্যের মূল্য এক দীনারের চতুর্থাংশ বা তাহার চাইতে অধিক হয়।