حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ فَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ مِنْهُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِشَىْءٍ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ " .
রেওয়ায়ত ১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি একজন মানুষ, তোমরা আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ লইয়া আস। এমনও হইতে পারে যে, একে অপরের তুলনায় অধিক চালাকী ও চাতুরির আশ্রয় লইবে এবং নিজ দাবি প্রমাণিত করিবে এবং আমি তাহার বাহ্যিক প্রমাণের দিকে লক্ষ্য করিয়া তাহার পক্ষে রায় দিয়া দিব। সুতরাং এমতাবস্থায় যদি আমি অপরের হক কাহাকেও দিয়া দেই তবে তাহার জন্য উক্ত বস্তু গ্রহণ করা উচিত নহে। কেননা উহা তাহার জন্য আগুনের টুকরা।
রেওয়ায়ত ২. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, একদা উমর (রাঃ)-এর দরবারে এক ইহুদী ও এক মুসলিম কোন বিবাদ লইয়া আসিল। উমর (রাঃ) বুঝিতে পারিলেন যে, ইহুদীর দাবি সত্য। তাই ইহুদীর সপক্ষে রায় দিয়া দিলেন। ইহুদী সর্বশেষে বলিল, আল্লাহর কসম, আপনি হক ফায়সালা করিয়াছেন। ইহা শুনিয়া উমর (রাঃ) তাহাকে বেত্র দ্বারা আঘাত করিয়া বলিলেন, কিভাবে জানিতে পারিয়াছ যে, এই বিচার হক হইয়াছে? ইহুদী বলিল, আমি আমাদের আসমানী কিতাবে দেখিয়াছি যে, যে বিচারক সত্য ফয়সালা করে তাহার ডান দিকের এবং বাম দিকের কাধে একজন করিয়া ফেরেশতা থাকেন। তাহারা তাহাকে শক্তিশালী রাখে এবং সৎ পথ দেখাইতে থাকে যতক্ষণ সে হকের উপর থাকে। আর যদি সে হককে ছাড়িয়া দেয় তবে ফেরেশতারাও তাহাকে ছাড়িয়া ঊর্ধ্বজগতে উঠিয়া যায়।
রেওয়ায়ত ৩. যায়দ ইবন খালেদ জুহানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে সর্বোত্তম সাক্ষীর কথা বলিব? তাহা হইল, যে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই সাক্ষ্য প্রদান করে অথবা যে সাক্ষ্য প্রদান করে তাহাকে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই।
রেওয়ায়ত ৪. রাবিয়া ইবন আবি আবদির রহমান হইতে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ)-এর দরবারে ইরাক হইতে এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আমি এমন এক ব্যাপার লইয়া আসিয়াছি যাহার কোন আগ-পাছ কিছুই নাই। উমর (রাঃ) বলিলেন, “তাহা কি?” সে বলিল আমাদের দেশে মিথ্যা সাক্ষ্য ছড়াইয়া পড়িয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, তুমি কি সত্যই বলিতেছ? সে বলিল, হ্যাঁ, তখন উমর (রাঃ) বলিলেন, ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত কোন মুসলিমকে কয়েদ করা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর (রাঃ) বলেন যে, শক্র এবং দীনের ব্যাপারে দোষারোপ করা হইয়াছে এমন লোকদের সাক্ষ্য জায়েয হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেন যে, সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-সহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, যে ব্যক্তি অপবাদের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত তাহার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে কি? তাহারা বলিলেন, হ্যাঁ যখন সে তওবা করিয়াছে বলিয়া জানা যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেন যে, ইমাম জুহরী (রহঃ)-কে ঐরুপ প্রশ্ন করা হইয়াছিল। তিনিও সুলায়মান ইবন ইয়াসারের মতো উত্তর দিয়াছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতও অনুরূপ, কেননা আল্লাহ্ তা'আলা বলেন যে, যে ব্যক্তি নেককার স্ত্রীলোকের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাযির করিতে না পারে তবে তাহাদিগকে আশি দোররা মার, অতঃপর কোন সময় তাহার সাক্ষ্য কবুল করিও না, কেননা, ইহারাই পাপাচারী। হ্যাঁ, পরে যাহারা তওবা করিয়া নেয় এবং সংশোধন হইয়া যায় তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই ক্ষমাকারী ও দয়াবান। মালিক (রহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন মতভেদ নাই যে, যাহার উপরে অপবাদের শাস্তি হইয়াছে অতঃপর সংশোধন হইয়াছে তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় এবং আমি যাহা এই ব্যাপারে জানিয়াছি, তাহার মধ্যে ইহাই খুব পছন্দনীয় কথা।
হাদিস 1406 — Muwatta Malik 36:8
সহিহ
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ .
রেওয়ায়ত ৫. জাফর সাদিক (রহঃ) তাহার পিতা মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী ও কসমের উপর ফয়সালা করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত মাসআলা। কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার সময় কয়েকটি সন্তান রাখিয়া গেল। তাহাদের মধ্য হইতে কেহ বলিল, আমার পিতা বলিয়া গিয়াছেন অমুক ব্যক্তি আমার ছেলে। এই অবস্থায় একজনের সাক্ষ্যে পুত্রের সম্পর্ক প্রমাণিত হইবে না এবং সম্পত্তিও সে পাইবে না। তবে যে ছেলে স্বীকার করিয়াছে তাহার অংশ হইতে সে অংশ পাইবে। মালিক (রহঃ) ইহার ব্যাখ্যায় বলিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি দুই ছেলে রাখিয়া মারা গেল এবং ছয়শত দীনার রাখিয়া গেল। দুই ছেলে এখান হইতে তিনশত করিয়া পাইল। তাহার পর এক ছেলে বলিল আমাদের মৃত পিতা বলিয়াছিলেন যে, ঐ ব্যক্তি তাহার ছেলে। তখন সে স্বীকার করিল তাহার তিনশত দীনার হইতে একশত দীনার সেই ব্যক্তি পাইবে, কেননা, সে মৃত ব্যক্তির ছেলে হিসাবে এই অর্ধেক অংশ পাইবে। অর্থাৎ সে ছেলে প্রমাণিত হইলে দুইশত দীনার পাইত, এখন একশত দীনার পাইয়াছে। আর যদি দ্বিতীয় ছেলেও স্বীকার করে তবে তাহার নিকট হইতেও একশত পাইবে এবং তাহার হক পূর্ণ হইবে এবং তাহার বংশও মৃত ব্যক্তি হইতে প্রমাণিত হইল। তাহার আর একটি উদাহরণ এই : কোন স্ত্রীলোক তাহার পিতা অথবা স্বামীর ঋণের কথা স্বীকার করে আর অন্যান্য অংশীদার অস্বীকার করে, এ অবস্থায় সে নিজ অংশ অনুপাতে নিজ হইতে কর্জ আদায় করিবে। স্ত্রীলোকটি যদি এক-অষ্টমাংশ পায় তবে ঋণেরও এক-অষ্টমাংশ আদায় করিবে, আর যদি পিতার সম্পত্তি অর্ধেক পায় তবে ঋণেরও অর্ধাংশ আদায় করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন পুরুষ ঋণের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় যেমন স্ত্রীলোকটি স্বীকার করিয়াছে, যথা এই মৃতের নিকট তাহার এই পরিমাণ পাওনা আছে তবে ঋণদাতার নিকট হইতে কসম গ্রহণ করা হইবে এবং ঋণদাতার পূর্ণ কর্জ শোধ করা হইবে। কেননা এই ব্যাপার স্ত্রীলোকটির ব্যাপারের মতো নয়, কেননা পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। আর যদি কৰ্জদার কসম না করে, তবে যে স্বীকার করিয়াছে শুধু তাহার নিবাস হইতে কর্জদারকে দেওয়া হইবে তাহার হিস্যা অনুযায়ী।