وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَوْ رَأَيْتُ الظِّبَاءَ بِالْمَدِينَةِ تَرْتَعُ مَا ذَعَرْتُهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا حَرَامٌ " .
রেওয়ায়ত ১১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিতেন যদি আমি হরিণ চরিতে দেখি, তাহা হইলে উহাকে কখনও তাড়া করিব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, মদীনার উভয় দিকের মধ্যবর্তী অংশ হরম।
রেওয়ায়ত ১২. আবু আয়্যূব আনসারী হইতে বর্ণিত আছে, তিনি দেখিলেন, কয়েকটি ছেলে একটি শিয়ালকে ঘিরিয়া রাখিয়াছে। তিনি ছেলেদেরকে তাড়াইয়া শিয়ালটিকে ছাড়াইয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, আবু আয়্যূব ইহাও বলিয়াছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হরমেও কি এইরূপ কার্য হইতেছে?
রেওয়ায়ত ১৩. এক ব্যক্তি হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার নিকট যায়দ ইবনে সাবিত (রাঃ) আগমন করিলেন, তখন আমি আসওয়াফে (মদীনার একটি গ্রাম) একটি পাখি ধরিয়াছিলাম। তিনি আমার হাত হইতে উহা লইয়া ছাড়িয়া দিলেন।
রেওয়ায়ত ১৪. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করিলেন তখন আবু বকর ও বেলালের জ্বর আসিতে শুরু করিল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি উভয়ের নিকট গেলাম। আমি তাহাকে বলিলাম, আব্বা আপনার অবস্থা কিরূপ? হে বেলাল! আপনার অবস্থা কিরূপ? আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবু বকরের যখন জ্বর আসিত তিনি বলিতেনঃ كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ প্রত্যেকে নিজের পরিজনের মধ্যে প্রভাত করে আর মৃত্যু তাহার জুতার ফিতার চাইতেও তাহার অতি নিকটে থাকে, আর যখন বেলালের জ্বর হইত তখন তিনি উচ্চস্বরে এই কবিতা পড়িতেনঃ أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجَنَّةٍ وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ হায়! যদি আমি জানিতে পারিতাম যে, কখনও আমি এক রাত্রির জন্যও মক্কার উপত্যকায় রাত্রি যাপন করিতে পারিব। আর আমার চতুষ্পার্শ্বে উযখার ও জলিল নামক ঘাস থাকিবে। আর পুনরায় কখনও মাজিন্না কুয়ার নিকট যাইতে পারিব, আর পুনরায় কখনও শামা ও তফীল পাহাড় আমার দৃষ্টিগোচর হইবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট বর্ণনা করিলাম। তিনি দু'আ করিলেনঃ اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا وَانْقُلْ حُمَّاهَا فَاجْعَلْهَا بِالْجُحْفَةِ হে আল্লাহ আমাদের মনে মদীনার মুহব্বত এইরূপ করিয়া দিন যেইরূপ মক্কার মুহব্বত রহিয়াছে, বরং উহা হইতেও প্রগাঢ় ভালবাসা। আর মদীনাকে স্বাস্থ্যকর করিয়া দিন। উহার সা’ ও মুদে বরকত দিন, উহার জ্বর রূপ ব্যাধি অন্যত্র লইয়া যান এবং জুহফাতে উহার জ্বরকে সরাইয়া দিন। আর উহার সা ও মুদ্দে (পরিমাণ বিশেষ) বরকত দান করুন। আর তথাকার জ্বরকে জুহফার দিকে দূর করিয়া দিন।
রেওয়ায়ত ১৫. আয়েশ (রাঃ) বলিয়াছেন, আমির ইবনে ফুহাইরা বলতেন, আমি মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুকে দেখিয়াছি, যাহার ভীরু তাহদের মৃত্যু উপর হইতে অবতরণ করে।
হাদিস 1613 — Muwatta Malik 45:16
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ
রেওয়ায়ত ১৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মদীনার দ্বারে ফিরিশতা মোতায়েন রহিয়াছে। উহাতে কখনও মহামারী দেখা দিবে না আর দজ্জালও প্রবেশ করিবে না।
রেওয়ায়ত ১৯. উমর (রাঃ) ফিদক ও নাজরান হইতেও ইহুদী বিতাড়িত করিয়াছিলেন। খায়বরের ইহুদীদের না কোন জায়গা ছিল, না বাগান ছিল। ফিদকের ইহুদীদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক ছিল এবং অর্ধেক ফল ছিল। উমর (রাঃ) অর্ধেক ফল ও স্থাবর সম্পত্তির দাম নির্ধারিত করিয়া উহা তাহাদেরকে দিয়া দেন এবং তাহাদেরকে তথা হইতে বহিষ্কার করিয়াছিলেন।
হাদিস 1616 — Muwatta Malik 45:19
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَلَعَ لَهُ أُحُدٌ فَقَالَ " هَذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ " .
রেওয়ায়ত ২০. উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড় দেখিয়া বলিয়াছেন, এই পাহাড় আমাদের এবং আমরা এই পাহাড়কে ভালবাসি।
রেওয়ায়ত ২১. আবদুর রহমান ইবনে কাসিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আসলাম বলিয়াছেন, তিনি মক্কার রাস্তায় আবদুল্লাহ ইবন আয়াশ আল-মাখযুরীর সহিত সাক্ষাৎ করিতে যাইয়া তাহার সম্মুখে নবীয দেখিতে পাইলেন। আসলাম বলিলেন, এই পানীয়কে উমর (রাঃ) খুব পছন্দ করেন। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইবনে আয়াশ (রাঃ) একটি বড় পেয়ালা ভরিয়া উমর (রাঃ)-এর সম্মুখে রাখিলেন। তিনি উহা উঠাইয়া পান করিতে ইচ্ছা করিলেন। অতঃপর মাথা তুলিয়া বলিলেন, ‘এই পানীয় খুব ভাল’ ইহা বলিয়া তিনি উহা পান করিলেন। অতঃপর যে তাহার ডানদিকে ছিল তাহাকে দান করিলেন। যখন আবদুল্লাহ ইবনে আয়াশ প্রস্থান করিতে উদ্যত হইলেন তখন উমর (রাঃ) তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন, তুমি বলিতেছ মদীনা হইতে মক্কা ভাল। আবদুল্লাহ্ বলিলেন, মক্কায় আল্লাহর হরম এবং উহা শান্তির স্থান আর তথায় তাহার ঘর রহিয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, আমি আল্লাহর ঘর ও হরম সম্বন্ধে কিছু বলিতেছি না। উমর (রাঃ) আবারও আবদুল্লাহকে তদ্রুপ জিজ্ঞাসা করিলে তিনি ঐ একই উত্তর দিলেন। উমর (রাঃ) তখন আবার বলিলেন, আল্লাহর হরম এবং তাহার গৃহ সম্বন্ধে কিছুই বলিতেছি না। অতঃপর তিনি চলিয়া গেলেন।