Qurani·قرآني
বাংলা

দাস মুক্তি ও ওয়ালা'

25 হাদিস · #1464–1488

হাদিস 1464 — Muwatta Malik 38:1
সহিহ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার দাসকে আযাদ করিয়াছে এবং পরিষ্কারভাবে আযাদ করিয়াছে। যেমন সে ক্রীতদাসের সাক্ষ্য বৈধ হয়, তাহার স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং তাহার মর্যাদা পূর্ণতা লাভ করে, তবে গোলামের উপর যেরূপ শর্তারোপ করা হয় তাহার কর্তা তাহার উপর অনুরূপ কোন শর্তারোপ করিতে পারবে না এবং উহার উপর গোলামির কোন কিছু চাপাইতেও পারবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি তাহার অংশ আযাদ করিয়াছে গোলাম হইতে তাহার উপর সেই গোলামের (অবশিষ্ট অংশের) মূল্য ধার্য করা হইবে। তারপর শরীকদিগকে তাহাদের অংশ প্রদান করা হইবে, তাহার পক্ষে গোলাম আযাদ হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি গোলামে অন্য কাহারো অংশ না থাকে, তবে আযাদী পূর্ণ করার জন্য তিনি অধিক হকদার হইবেন এবং সেই আযাদীতে কোন প্রকার দাসত্ব মিশ্রিত থাকিবে না।
হাদিস 1465 — Muwatta Malik 38:2
সহিহ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنْ غَيْرِ، وَاحِدٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، أَنَّ رَجُلاً، فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْتَقَ عَبِيدًا لَهُ سِتَّةً عِنْدَ مَوْتِهِ فَأَسْهَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمْ فَأَعْتَقَ ثُلُثَ تِلْكَ الْعَبِيدِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَبَلَغَنِي أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِذَلِكَ الرَّجُلِ مَالٌ غَيْرُهُمْ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩. হাসান ইবন আবিল-হাসান বসরী ও মুহাম্মদ ইবন শিরন (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তাহার ছয়জন ক্রীতদাসকে আযাদ করিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের মধ্যে (নির্বাচনের উদ্দেশ্যে) লটারির ব্যবস্থা করিলেন এবং (লটারির মাধ্যমে) সেই ক্রীতদাসদের মধ্য হইতে এক-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ দুইজন) আযাদ করা হইল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট এই মর্মে রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সেই ব্যক্তির নিকট ক্রীতদাস হাড়া জন্য মাল ছিল না।
হাদিস 1466 — Muwatta Malik 38:3
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ رَجُلاً، فِي إِمَارَةِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ أَعْتَقَ رَقِيقًا لَهُ كُلَّهُمْ جَمِيعًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُمْ فَأَمَرَ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ بِتِلْكَ الرَّقِيقِ فَقُسِمَتْ أَثْلاَثًا ثُمَّ أَسْهَمَ عَلَى أَيِّهِمْ يَخْرُجُ سَهْمُ الْمَيِّتِ فَيَعْتِقُونَ فَوَقَعَ السَّهْمُ عَلَى أَحَدِ الأَثْلاَثِ فَعَتَقَ الثُّلُثُ الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهِ السَّهْمُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪. রবিয়া ইবন আবদির রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবান ইবন উসমান (রহঃ) এর শাসনকালে এক ব্যক্তি তাহার সব কয়টি গোলামকে আযাদ করিয়া দিল, তাহার আর কোন মাল ছিল না সেই ক্রীতদাসগুলি ছাড়া। আবান ইন উসমানের নির্দেশে সব ক্রীতদাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হইল। তারপর লটারি দেওয়া হইল মৃত ব্যক্তির অংশ বেই ভাগে বাহির হইবে সেই ভাগের ক্রীতদাসদিগকে আযাদ করা হইবে, তিন অংশের মধ্য হইতে এক অংশের উপর লটারি উঠিল, ফলে যেই এক-তৃতীয়াংশের উপর লটারি উঠিল সে অংশ আযাদ হইল।
হাদিস 1467 — Muwatta Malik 38:4
Maqtu Sahih
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ مَضَتِ السُّنَّةُ أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَتَقَ تَبِعَهُ مَالُهُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَتَقَ تَبِعَهُ مَالُهُ أَنَّ الْمُكَاتَبَ إِذَا كُوتِبَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَإِنْ لَمْ يَشْتَرِطْهُ وَذَلِكَ أَنَّ عَقْدَ الْكِتَابَةِ هُوَ عَقْدُ الْوَلاَءِ إِذَا تَمَّ ذَلِكَ وَلَيْسَ مَالُ الْعَبْدِ وَالْمُكَاتَبِ بِمَنْزِلَةِ مَا كَانَ لَهُمَا مِنْ وَلَدٍ إِنَّمَا أَوْلاَدُهُمَا بِمَنْزِلَةِ رِقَابِهِمَا لَيْسُوا بِمَنْزِلَةِ أَمْوَالِهِمَا لأَنَّ السُّنَّةَ الَّتِي لاَ اخْتِلاَفَ فِيهَا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَتَقَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَلَمْ يَتْبَعْهُ وَلَدُهُ وَأَنَّ الْمُكَاتَبَ إِذَا كُوتِبَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَلَمْ يَتْبَعْهُ وَلَدُهُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ الْعَبْدَ وَالْمُكَاتَبَ إِذَا أَفْلَسَا أُخِذَتْ أَمْوَالُهُمَا وَأُمَّهَاتُ أَوْلاَدِهِمَا وَلَمْ تُؤْخَذْ أَوْلاَدُهُمَا لأَنَّهُمْ لَيْسُوا بِأَمْوَالٍ لَهُمَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا بِيعَ وَاشْتَرَطَ الَّذِي ابْتَاعَهُ مَالَهُ لَمْ يَدْخُلْ وَلَدُهُ فِي مَالِهِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا جَرَحَ أُخِذَ هُوَ وَمَالُهُ وَلَمْ يُؤْخَذْ وَلَدُهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, ইহা প্রচলিত সুন্নাত (নিয়ম) যে, ক্রীতদাস আযাদ হইলে মাল তাহার পশ্চাদগামী হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরও স্পষ্ট করিয়া এই দৃষ্টান্তটি বলা যায় যে, ক্রীতদাস আযাদ হইলে তাহার মালও তাহার সাথে থাকিবে, কারণ মুকাতাব (যাহাকে মালের বিনিময়ে আযাদী প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে)-কে (মালের বিনিময়ে) আযাদীর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইলে তবে শর্ত না করিলেও মাল তাহারই থাকিবে। ইহা এইজন্য যে, কিতাবতের কার্য পূর্ণতা লাভ করিলে (অর্থাৎ অর্থ আদায় করিলে) উহা হুবহু স্বত্বাধিকার (ولاء) এর চুক্তির মতো গণ্য হইবে, যেমন ক্রীতদাসকে আযাদ করিয়া দিলে সে স্বত্বাধিকার লাভ করে তদ্রুপ বদলে কিতাবত (আযাদীর জন্য নির্ধারিত অর্থ) আদায় করিলে ক্রীতদাস (مكاتب) আযাদ হইয়া যায় এবং তাহার সম্পদের স্বত্বাধিকারী সে নিজেই হইবে। আর ক্রীতদাস ও মুকাতাব-এর সম্পদ তাহদের সন্তান-সন্ততির মতো নহে, কারণ তাহাদের সন্তানগণ তাহাদেরই মতো (কর্তাগণ উহাদের মালিক বটে) উহারা তাহাদের সম্পদের মতো নহে অর্থাৎ সম্পদের মতো ক্রীতদাস ও মুকাতাব দাস সন্তানদের মালিক হইবে না। কারণ নিয়ম এই, যেই নিয়মে কোন দ্বিমত নাই অর্থাৎ ক্রীতদাস আযাদ হইলে তাহার মাল তাহার পশ্চাদানুসরণ করিবে, কিন্তু সন্তান তাহার পশ্চাদগামী হইবে না। আর মুকাতাব-এর সহিত যখন কিতাবত করা হয়, তখন তাহার মালও তাহার পশ্চাদানুসরণ করিবে, কিন্তু তাহার সন্তান তাহার পশ্চাদগামী হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যাহা ইহাকে আরও স্পষ্ট করে তাহা হইল, ক্রীতদাস ও মুকাতাব তাহারা উভয়ে দেউলিয়া হইলে তাহাদের সম্পদ ও তাহাদের উম্মে ওয়ালাদগণকে গ্রহণ করা হইবে কিন্তু তাহাদের সন্তানগণকে বিনিময়ে গ্রহণ করা হইবে না। কারণ সন্তান তাহদের মাল নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর একটি নজীর ইহাকে স্পষ্ট করিয়া তোলে। তাহা হইল, যদি ক্রীতদাসকে এই শর্তে বিক্রয় করা হয় যে তাহার মাল ক্রেতা পাইবে, তবে ক্রীতদাসের সন্তান মালের অন্তর্ভুক্ত হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরও যে নজীর ইহাকে স্পষ্ট করে তাহা হইল এই যে, ক্রীতদাস কাহাকেও জখম করিলে, ক্রীতদাস ও উহার মাল বিনিময়ে লওয়া হইবে, কিন্তু (বিনিময়ে) সন্তানকে গ্রহণ করা হইবে না।
হাদিস 1468 — Muwatta Malik 38:5
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ أَيُّمَا وَلِيدَةٍ وَلَدَتْ مِنْ سَيِّدِهَا فَإِنَّهُ لاَ يَبِيعُهَا وَلاَ يَهَبُهَا وَلاَ يُوَرِّثُهَا وَهُوَ يَسْتَمْتِعُ بِهَا فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, যেই ক্রীতদাসী তাহার কর্তার ঔরসে সন্তান জন্মাইয়াছে, সে কর্তা উহাকে বিক্রয় করিতে পারিবে না, আর পরিবে না উহাকে দান করিতে, উহার স্বত্বাধিকারও লাভ করিবে না, সে উহার দ্বারা উপকৃত হইবে, যখন কর্তার মৃত্যু হইবে ক্রীতদাসী তখন আযাদ হইবে।
হাদিস 1469 — Muwatta Malik 38:6
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَتَتْهُ وَلِيدَةٌ قَدْ ضَرَبَهَا سَيِّدُهَا بِنَارٍ أَوْ أَصَابَهَا بِهَا فَأَعْتَقَهَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّهُ لاَ تَجُوزُ عَتَاقَةُ رَجُلٍ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ يُحِيطُ بِمَالِهِ وَأَنَّهُ لاَ تَجُوزُ عَتَاقَةُ الْغُلاَمِ حَتَّى يَحْتَلِمَ أَوْ يَبْلُغَ مَبْلَغَ الْمُحْتَلِمِ وَأَنَّهُ لاَ تَجُوزُ عَتَاقَةُ الْمُوَلَّى عَلَيْهِ فِي مَالِهِ وَإِنْ بَلَغَ الْحُلُمَ حَتَّى يَلِيَ مَالَهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট জনৈকা ক্রীতদাসী আসিল, যাহাকে তাহার কর্তা আগুন দ্বারা জখম করিয়াছে অথবা তাহার শরীরে আগুন লাগাইয়াছে। উমর (রাঃ) উহাকে আযাদ করিয়া দিলেন (অর্থাৎ আযাদ করিয়া দেওয়ার জন্য কর্তাকে নির্দেশ দিলেন।) মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট পছন্দনীয় হুকুম এই যে, যে ব্যক্তির উপর ঋণ আছে এবং ঋণ তাহার সমস্ত মাল ঘিরিয়া রাখিয়াছে সে ব্যক্তির পক্ষে (ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীকে) আযাদ করা বৈধ নহে। বালক যতক্ষণ বালেগ না হয় অথবা বালেগ পুরুষের সমপর্যায়ে না পৌছে, ততক্ষণ তাহার পক্ষে গোলাম আযাদ করা বৈধ হইবে না, যে ব্যক্তির মালের উপর মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত করা হইয়াছে (এবং তাহাকে কার্য পরিচালনা হইতে বিরত রাখা হইয়াছে) সে বালিগ (সাবালক) হইলেও গোলাম আযাদ করিতে পরিবে না, যাবত সে নিজ সম্পদের পরিচালক না হইবে।
হাদিস 1470 — Muwatta Malik 38:7
সহিহ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ، أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ جَارِيَةً لِي كَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا لِي فَجِئْتُهَا وَقَدْ فُقِدَتْ شَاةٌ مِنَ الْغَنَمِ فَسَأَلْتُهَا عَنْهَا فَقَالَتْ أَكَلَهَا الذِّئْبُ فَأَسِفْتُ عَلَيْهَا وَكُنْتُ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلَطَمْتُ وَجْهَهَا وَعَلَىَّ رَقَبَةٌ أَفَأُعْتِقُهَا فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَيْنَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ فِي السَّمَاءِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ مَنْ أَنَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَعْتِقْهَا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) উমর ইবন হাকাম[1] (রাঃ) হইতে ৰণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হইলাম। আমি বলিলাম, ইয়া-রাসূলাল্লাহ! আমার এক ক্রীতদাসী আমার ছাগপাল চরাইতেছিল। একদিন আমি তাহার নিকট গেলাম এবং জানিতে পারিলাম সে একটি বকরী হারাইয়া ফেলিয়াছে। আমি তাহাকে বকরীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম। সে বলিল, উহাকে বাঘে খাইয়া ফেলিয়াছে। আমি উহার জন্য দুঃখিত হইলাম, আর আমি আদম সন্তানের একজন (আমার রাগ হইল)। তাই আমি ক্রীতদাসীর মুখের উপর চড় মারিলাম। আমার উপর (পূর্বে) একটি দাস বা দাসী আযাদ করা জরুরী ছিল, এখন আমি উহাকে (ক্রীতদাসীকে) আযাদ করিব কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহাকে (ক্রীতদাসীকে) জিজ্ঞাসা করিলেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলিল, উর্ধ্বলোকে। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম] বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেনঃ ইহাকে আযাদ করিয়া দাও।
হাদিস 1471 — Muwatta Malik 38:8
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَةٍ لَهُ سَوْدَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَىَّ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً فَإِنْ كُنْتَ تَرَاهَا مُؤْمِنَةً أُعْتِقُهَا ‏.‏ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَشْهَدِينَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتَشْهَدِينَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتُوقِنِينَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَعْتِقْهَا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৯. ওবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদিল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আনসারের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট তাহার একটি কৃষ্ণ বর্ণের ক্রীতদাসীকে লইয়া উপস্থিত হইল এবং বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার উপর একটি ঈমানদার ক্রীতদাসী আযাদ করা ওয়াজিব হইয়াছে, তবে আমি এই ক্রীতদাসীটিকে আযাদ করিতে পারি কি? আপনি যদি ইহাকে ঈমানদার মনে করেন তবে আমি তাহাকে আযাদ করিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহাকে (উদ্দেশ্য করিয়া) বলিলেন, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই (لا اله الا الله) তুমি কি ইহার সাক্ষ্য দাও। সে বলিল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (محمد رسول الله) তুমি এই সাক্ষ্য দাও কি? সে বলিল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থানে তুমি বিশ্বাস কর কি? সে বলিল, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি ইহাকে মুক্তি দাও।
হাদিস 1472 — Muwatta Malik 38:9
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ الرَّجُلِ، تَكُونُ عَلَيْهِ رَقَبَةٌ هَلْ يُعْتِقُ فِيهَا ابْنَ زِنًا فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَعَمْ ذَلِكَ يُجْزِئُ عَنْهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০. মাকবুরী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যাহার উপর দাস বা দাসীর আযাদ করা ওয়াজিব হইয়াছে। প্রশ্নটি হইল, সে ব্যক্তি জারজ সন্তান আযাদ করিতে পারিবে কি ? আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলিলেন, হ্যাঁ, উহা তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে।
হাদিস 1473 — Muwatta Malik 38:10
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ تَكُونُ عَلَيْهِ رَقَبَةٌ هَلْ يَجُوزُ لَهُ أَنْ يُعْتِقَ وَلَدَ زِنًا قَالَ نَعَمْ ذَلِكَ يُجْزِئُ عَنْهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে ফুযাল ইবন উবায়দ আনসারী (রাঃ) হইতে, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের একজন। তাহার নিকট প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যাহার উপর রাকাবা (গোলাম বা বাঁদী) আযাদ করা ওয়াজিব, তাহার পক্ষে জারজ সন্তান আযাদ করা জায়েয হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, উহা তাহার পক্ষে যথেষ্ট হইবে।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।