রেওয়ায়ত ১. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, আমাদের নিকট সেই ব্যক্তি সম্পর্কে মাসআলা এই, যে ব্যক্তি তাহার ক্রীতদাসীকে "মুদাব্বারা" করিয়াছে এবং কর্তা কর্তৃক উহাকে মুদাব্বারা করার পর সে সন্তান জন্মাইয়াছে। অতঃপর সে (কর্তা) উহাকে মুদাব্বারা করিয়াছে তাহার পূর্বে ক্রীতদাসীর মৃত্যু হইয়াছে, তবে উহার সন্তানদের ব্যাপারে উহার মতোই হইবে, অর্থাৎ যেই শর্ত উহার (মুদাব্বারা ক্রীতদাসীর) জন্য ছিল সেই শর্ত ইহাদের (সন্তানদের) জন্যও প্রযোজ্য হইবে। এবং ইহাদের মাতার মৃত্যুর কারণে ইহাদের কোন ক্ষতি হইবে না, অতঃপর যে মুদাব্বার (কর্তা) করিয়াছে তাহার মৃত্যু হইলে তবে তাহার এক-তৃতীয়াংশ (সম্পত্তিতে) সংকুলান হইলে ইহারা আযাদ হইয়া যাইবে।[1] মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রত্যেক জননীর আওলাদ শর্ত ইত্যাদির ব্যাপারে উহাদের মাতার সমতুল্য হইবে। জননী যদি আযাদী লাভ করে এবং আযাদী লাভের পর সন্তান জন্মায়, তবে উহার সন্তানরা আযাদ (গণ্য) হইবে। আর জননী যদি মুদাববারা অথবা মুকাতাবা হয় কিংবা কয়েক বৎসরের খেদমতের শর্তে আযাদী প্রাপ্তা হয় অথবা উহার অংশবিশেষ আযাদ করা হয়, অথবা তাহাকে বন্ধক দেওয়া হইয়াছে এমন হয় অথবা সে উম্মে-ওয়ালাদ হয়, তবে উহাদের প্রত্যেকের সন্তান মাতার মতো মর্যাদা লাভ করিবে। মাতা আযাদ হইলে ইহারাও আযাদ (গণ্য) হইবে। মাতা ক্রীতদাসী হইলে ইহারাও ক্রীতদাস হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসীকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ‘মুদাব্বারা’ করা হইয়াছে, তাহার সন্তান তাহারই মতো (গণ্য করা) হইবে। ইহা যেন এইরূপ — যেমন কোন ব্যক্তি আপন ক্রীতদাসীকে আযাদ করিয়াছে সে তখন অন্তঃসত্ত্বা, কর্তা উহার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর রাখে না। মালিক (রহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে সুন্নত (রীতি) এই উহার সন্তান উহাকে অনুসরণ করিবে এবং উহার আযাদী লাভে সেও আযাদী লাভ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তদ্রুপ যদি কোন ব্যক্তি অন্তঃসত্ত্বা ক্রীতদাসীকে খরিদ করে, তবে ক্রীতদাসী এবং উহার গর্ভে যাহা রহিয়াছে, তাহা ক্রেতারই হইবে। ক্রেতা উহার শর্ত করুক কিম্বা না করুক। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিক্রেতার পক্ষে ক্রীতদাসীর গর্ভের সন্তানকে (বিক্রয় হইতে) বাদ রাখা হালাল নহে ইহা প্রতারণা বটে। কারণ, সে ক্রীতদাসীর মূল্য হইতে মূল্য কমাইবার উদ্দেশ্যে ইহা করিতে চাহে, অথচ সে নিজেও জানে না এই সন্তান সে লাভ করিবে কি, না? ইহা এইরূপ যেমন কেহ মাতার গর্ভস্থ সন্তান বিক্রয় করিল, ইহা তাহার জন্য হালাল নহে; কারণ ইহা প্রতারণা।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই মুকাতাব অথবা মুদাব্বারা : তাহাদের একজন একটি ক্রীতদাসী খরিদ করিয়াছে। অতঃপর উহার সহিত সঙ্গম করিয়াছে, ফলে দাসীটি অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং সন্তান জন্মায়। মালিক (রহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় এই ক্রীতদাসীর গর্ভের সন্তান তাহার মতোই হইবে [অর্থাৎ উহার মতো মর্যাদা লাভ করিবে]। সে আযাদ হইলে সন্তানেরাও আযাদ হইবে। আর সে ক্রীতদাসী হইলে সন্তানেরাও ক্রীতদাস হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, সে আযাদ হইলে তাহার “উম্মে-ওয়ালাদ” তাহারই সম্পদ হইবে। তাহার আযাদীর পর উহাকে তাহার নিকট সোপর্দ করা হইবে।
রেওয়ায়ত ২২. আবদুল মালিক ইবন আবী বকর ইবন আবদির রহমান তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল মালিক-এর নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, আসী (عاصى) ইবন হিশাম পরলোকগমন করেন এবং তিনি রাখিয়া যান তাহার তিন পুত্র, দুইজন (তাহদের মধ্যে) সহোদর ও একজন ছিল বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। পরে সহোদরদ্বয়ের একজনের মৃত্যু হয়। সে রাখিয়া যায় সম্পদ ও মাওয়ালী (موالى - যে সকল ক্রীতদাসকে মুক্তি দিয়াছে, সেই সব ক্রীতদাস মুক্তিদাতার মাওয়ালী) তাহার সহোদর ভাই তাহার সম্পদ ও মাওয়ালীদের অভিভাবকত্বের উত্তরাধিকারী হইল। অতঃপর যিনি সম্পদ ও অভিভাবকত্বের উত্তরাধিকার লাভ করবেন তিনি মৃত্যুবরণ করিলেন এবং রাখিয়া গেলেন পুত্র ও বৈমাত্রেয় ভ্রাতা; তাহার পুত্র বলিলঃ আমার পিতা যে সম্পদ ও অভিভাবকত্বের মালিক হইয়াছিলেন (বর্তমানে) আমি সেই সবের উত্তরাধিকারী হইয়াছি। তাহার ভাই (অর্থাৎ পুত্রের চাচা) বলিল, এইরূপ নহে। তুমি সম্পদের উত্তরাধিকারী হইয়াছ। কিন্তু মাওয়ালীদের অভিভাবকত্বের উত্তরাধিকারী তুমি নহে। তুমি কি ভাবিয়া দেখ না যদি আমার ভাই আজ পরলোকগমন করিত, আমি কি উহার উত্তরাধিকারী হইতাম না? অতঃপর তাহারা উভয়ে বিবাদ লইয়া উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইল। তিনি [উসমান (রাঃ)] মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিরার তাহার ভাইকে প্রদান করিলেন।
রেওয়ায়ত ২৩. আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর ইবন হাযম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি আবান ইবন উসমান (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন (এমন সময়) জুহাইনা (গোত্রের) কিছু লোক এবং বনী হারিস ইবন খাযরাজ (গোত্রের) কিছু লোক বিবাদ লইয়া তাহার নিকট আসিল। আর জুহাইনা গোত্রের জনৈকা নারী বনী ইবন খাযরাজ-এর এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল, তাহাকে বলা হইত ইবরাহীম ইবন কুলাইব। (তাহার) স্ত্রী মারা যায় এবং রাখিয়া যায় ধন-সম্পদ ও আযাদ করা ক্রীতদাস উহার মীরাস পাইল তাহার স্বামী ও পুত্র। অতঃপর স্ত্রীলোকটির পুত্রটি মারা গেল। তখন স্বামীটি বলিল, মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিকার আমার প্রাপ্য। কারণ তাহার পুত্র (উত্তরাধিকারসূত্রে) উহার মালিক হইয়াছে। জুহাইনীয়া গোত্রের লোকেরা বলিল, এইরূপ নহে। উহার (আযাদী প্রাপ্ত ক্রীতদাসগণ) হইতেছে আমাদের (গোত্রের) স্ত্রীলোকের ক্রীতদাস। [موالى যাহাদিগকে এই স্ত্রীলোক আযাদ করিয়াছে] তাহার পুত্র যখন মারা গেল তবে এই মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিকার আমরাই পাইব। আমরা উহাদের মীরাস লাভ করিব। সব শুনিয়া আবান ইবন উসমান (রহঃ) মাওয়ালীগণের অভিভাবকত্ব প্রদান করিলেন জুহাইনীয়দের জন্য।
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি পরলোকগমন করিয়াছে তিন পুত্র রাখিয়া, আর রাখিয়া গিয়াছে কতিপয় মাওয়ালী (ক্রীতদাস) যাহাদিগকে সে আযাদ করিয়াছে। তারপর তাহার দুই পুত্র মারা যায়। তাহারা উভয়ে রাখিয়া যায় (তাহাদের) সন্তান। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বললেন, তাহার তিন পুত্রের মধ্যে জীবিত পুত্র মাওয়ালীগণের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার লাভ করিবে। সেও পরলোকগমন করিলে তখন তাহার সন্তান ও তাহার (মৃত) দুই ভাইয়ের সন্তানগণ মাওয়ালীগণের সম্পদের উত্তরাধিকারের ব্যাপারে বরাবর হকদার হইবে।
রেওয়ায়ত ২৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিয়াছেন সায়িবা সম্বন্ধে। তিনি বলিয়াছেন, সে যাহার সহিত ইচ্ছা মিত্রতার বন্ধন করিতে পারে আর যদি তাহার মৃত্যু হয় অথচ সে কাহাকেও ওয়ালী (অভিভাবক) নিযুক্ত করে নাই, তবে তাহার মীরাস হইবে মুসলিমদের জন্য এবং তাহার খেসারতও মুসলিমদের উপর হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সায়িবা সম্বন্ধে উত্তম যাহা শোনা গিয়াছে তাহা হইল সে কাহারো সহিত মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হইবে না এবং তাহার মীরাস মুসলিমদের জন্য হইবে, আর তাহার খেসারত তাহাদের উপর আসিবে। ইহুদী ও নাসরানী সম্বন্ধে মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহদের একজনের ক্রীতদাস মুসলিম হইয়াছে এবং তাহার পক্ষ হইতে ক্রীতদাস বিক্রি হওয়ার পূর্বে সে উহাকে আযাদ করিয়া দিয়াছে (এইরূপ) মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব মুসলিমদের জন্য হইবে। ইহার পর যদি ইহুদী ও নাসরানী মুসলিম হয় স্বত্বাধিকার তাহদের দিকে আর ফিরিবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ইহুদী অথবা নাসরানী তাহদের সহধর্মী কোন ক্রীতদাসকে আযাদ করে, তারপর যে ইহুদী অথবা নাসরানী ইহাকে আযাদ করিয়াছে তাহার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সেই ক্রীতদাস মুসলিম হয়, তার পর যে আযাদ করিয়াছে সেও মুসলিম হয় তবে অভিভাবকত্ব তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে। কারণ যেই দিন আযাদ করিয়াছিল সেই দিন স্বত্বাধিকার তাহারই প্রাপ্য ছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ইহুদী অথবা নাসরানীর মুসলিম সন্তান থাকে, আর সে (কর্তা) তাহাকে আযাদ করিয়াছে তাহার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে যদি আযাদী প্রাপ্ত ক্রীতদাস মুসলিম হইয়া যায়, তবে সে (সন্তান) ইহুদী অথবা নাসরানী পিতার আযাদী প্রদত্ত ক্রীতদাসদের মীরাসের অধিকারী হইবে। আর যদি আযাদী প্রাপ্তির সময় ক্রীতদাস মুসলিম ছিল তবে ইহুদী অথবা নাসরানীর মুসলিম সন্তানরা মুসলিম ক্রীতদাসের স্বত্বাধিকারের কোন কিছু প্রাপ্য হইবে না। কারণ ইহুদী অথবা নাসরানীর জন্য কোন অভিভাবকত্ব নাই। তাই মুসলিম ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রাপ্য হইবে।