حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ وَلاَ بِالْقَصِيرِ وَلَيْسَ بِالأَبْيَضِ الأَمْهَقِ وَلاَ بِالآدَمِ وَلاَ بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلاَ بِالسَّبِطِ بَعَثَهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ১. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লম্বা বা অধিক খাটো ছিলেন না। আর না তিনি চুনের মতো সাদা ছিলেন, না একেবারে শ্যাম বর্ণ ছিলেন (বরং সাদা লাল মিশান রং ছিল)। তাহার চুল মুবারক (হাবশীদের মতো) খুব কোঁকড়ানও ছিল না আর একেবারে সোজাও ছিল না। যখন তিনি চল্লিশ বৎসর বয়সের হইলেন তখন আল্লাহ তা’আলা তাহাকে নবী করিলেন। নবী হওয়ার পর দশ বৎসর তিনি মক্কায় অবস্থান করিলেন। ষাট বৎসর বয়সে ইনতিকাল করেন।[1] ঐ সময় তাহার চুল ও দাড়ির ২০টি চুলও সাদা হয় নাই।
রেওয়ায়ত ২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আজ রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি কাবার কাছে রহিয়াছি এবং সেই অবস্থায় আমি মেটে রঙের একজন লোক দেখিলাম যেরূপ মেটে রঙের সুশ্রী লোক হইয়া থাকে। তাহার স্কন্ধদেশ পর্যন্ত চুল বিলম্বিত। তাহার চুলে তিনি চিরুনী দিয়া আঁচড়াইয়াছেন এবং উহা হইতে তখনও পানি ঝরিতেছে। তিনি দুইজন লোকের উপর ভর করিয়া অথবা তিনি বলিয়াছেন দুইজন লোকের স্কন্ধে ভর করিয়া কাবার তাওয়াফ করিতেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইনি কে? আমাকে উত্তর দেওয়া হইল, ইনি মসীহ ইবন মরিয়ম। অতঃপর আমি অন্য একজন লোককে দেখিলাম (যাহার) চুল খুব কোঁকড়ান। ডান চোখ তাহার কানা যেন ঐ চক্ষু ফোলা আঙ্গুর। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, এই ব্যক্তি কে? কেহ উত্তর দিল, ইনি মসীহ দাজ্জাল।
রেওয়ায়ত ৪. সায়ীদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন, ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম মেহমানদারী করিয়াছেন, সর্বপ্রথম খাতনা করিয়াছেন, সর্বপ্রথম গোঁফ কাটিয়াছেন, আর সর্বপ্রথম সাদা চুল দেখিয়া বলিয়াছেন, ইয়া আল্লাহ, ইহা কি? আল্লাহ তা’আলা বলিলেনঃ ইহা ইজ্জত ও সম্মান। ইবরাহীম (আঃ) বলিলেনঃ হে প্রভু, আমার সম্মান বাড়াইয়া দাও। মালিক (রহঃ) বলেন, গোফ এমনভাবে কাটা উচিত যেন ঠোঁটের কিনারা দেখা যায়। একেবারে কামাইয়া ফেলিবে না।
রেওয়ায়ত ৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যখন কোন মুসলিম খাইতে বসে তখন ডান হাতে তাহার খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা উচিত। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় এবং পান করে।
রেওয়ায়ত ৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে সে মিসকীন নহে, যাহাকে এক লোকমা, দুই লোকমা একটি খেজুর বা দুইটি খেজুর দান করা হয়। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহা হইলে মিসকীন কাহারা? তিনি বলিলেন, যাহার নিকট এই পরিমাণ মাল নাই যাহা সে নিজের প্রয়োজন মিটাইতে পারে আর তাহার অবস্থা কাহারও জানা নাই যে, তাহাকে সাদকা দেওয়া যাইতে পারে, আর না সে লোকের নিকট চাহিয়া বেড়ায়।
হাদিস 1678 — Muwatta Malik 49:8
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ ابْنِ بُجَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، ثُمَّ الْحَارِثِيِّ عَنْ جَدَّتِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُدُّوا الْمِسْكِينَ وَلَوْ بِظِلْفٍ مُحْرَقٍ " .
রেওয়ায়ত ৮. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে, তিনি ইবন বুজাইদ আনসারী আল হারেসী (রাঃ) হইতে এবং তিনি তাহার দাদা হইতে রেওয়ায়ত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন যে, মিসকীনদেরকে (যাহা কিছু সম্ভব হয়) দাও, যদিও পোড়া খুর হউক না কেন।
হাদিস 1679 — Muwatta Malik 49:9
সহিহ
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَأْكُلُ الْمُسْلِمُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ " .
রেওয়ায়ত ৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, মুসলিম এক অন্ত্রে খায় এবং কাফির সাত অন্ত্রে খায়।
হাদিস 1680 — Muwatta Malik 49:10
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلاَبَهَا ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ حَتَّى شَرِبَ حِلاَبَ سَبْعِ شِيَاهٍ ثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلاَبَهَا ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُؤْمِنُ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَشْرَبُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ " .
রেওয়ায়ত ১০. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক কাফির (জাহজা ইবন সাঈদ গেফারী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মেহমান হইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছাগলের দুধ দোহন করিতে নির্দেশ দান করিলেন। (কাফির) মেহমান সমস্ত দুধ পান করিল। আবার দ্বিতীয় ছাগলের দুধ দোহন করা হইলে পর লোকটি উহাও সব পান করিল। অতঃপর তৃতীয় ছাগলের দুধও সব পান করিল। এইভাবে একে একে সাতটি ছাগলের দুধ সে (একাই) পান করিল। পরদিন সকালে লোকটি ইসলাম গ্রহণ করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে একটি ছাগলের দুধ পান করিতে দিলেন। কিন্তু সে তাহা পান করিতে সক্ষম হইল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেন, মুসলিম এক নাড়ীভূঁড়িতে পান করে, কিন্তু কাফির সাত নাড়ীভুড়িতে পান করে।