রেওয়ায়ত ১০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যদি কেহ কসম করিয়া ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চাহেন) বলে তবে কসমকৃত কাজটি না করিলে এই কসম ভঙ্গ হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইনশাআল্লাহ কসমের সঙ্গে সঙ্গে এবং কথার ধারাবাহিকতা বজায় থাকিতে বলিতে হইবে। কেহ কসম করিয়া কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর যদি ইনশাআল্লাহ বলে তবে আর উহা ধর্তব্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ বলিল, আমি যদি এই কাজ করি তবে আমি কাফের বা মুশরিক। পরে যদি ঐ ব্যক্তি কাজটি করিয়া ফেলে তবে তাহার কাফফারা ওয়াজিব হইবে না। কিন্তু অন্তরে শিরক কুফরীর আকীদা না হইলে সে ইহাতে কাফের বা মুশরিক হইয়া যাইবে না। তবে গুনাহগার হইবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কিছু করিবে না বলিয়া তাহাকে তওবা করিতে হইবে। এই ধরনের কসম অতি নিন্দনীয়।
হাদিস 1020 — Muwatta Malik 22:7
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ بِيَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ بِيَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .
রেওয়ায়ত ১২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ কেহ যদি কসম করে ও পরে আরও কসম স্বারা উহাকে জোরালো করে এবং পরে উহা ভাঙ্গিয়া ফেলে তবে তাহার উপর একটি গোলাম আযাদ করা অথবা দশজনকে কাপড় দেওয়া জরুরী হইবে। আর যদি তাকীদযুক্ত নয় এমন কসম করিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলে তবে দশজন মিসকীনের প্রত্যেককে এক মুদ পরিমাণ গম দিবে আর তাহা না পারিলে তিন দিন রোযা রাখিবে।
রেওয়ায়ত ১৩. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যখন স্বীয় কসমের কাফফারা দিতেন তখন দশজন মিসকীনকে আহার করাইতেন এবং প্রতিজনকে এক মুদ পরিমাণ গম দিতেন, আর কসম যত তাকীদযুক্ত করিতেন তত সংখ্যক গোলাম আযাদ করিতেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলিলেন, আমি লোকদিগকে পাইয়াছি তাহারা যখন কসমের কাফফারা দিতেন তখন প্রত্যেক মিসকীনকে ছোট মুদের এক মুদ পরিমাণ গম দিতেন এবং উহাই যথেষ্ট বলিয়া মনে করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কসমের কাফফারা কাপড় দিতে চাহিলে পুরুষ মিসকীনকে একটি কাপড় দিলেই চলিবে, আর মিসকীন নারী হইলে অন্তত দুইটি করিয়া কাপড় দিতে হইবে। একটি জামা আরেকটি ওড়না। কেননা এতটুকুর কমে নামায হয় না।
হাদিস 1024 — Muwatta Malik 22:11
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - وَهُوَ يَسِيرُ فِي رَكْبٍ وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ " .
রেওয়ায়ত ১৪. নাফি’ (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একবার আরোহী হইয়া যাইতেছিলেন এবং পিতার নামে কসম খাইতেছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সহিত তাহার সাক্ষাত হয়। তিনি তখন বলিলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা পিতার নামে কসম করিতে নিষেধ করিয়াছেন। কেহ কসম করিলে আল্লাহর নামে করিও, আর তাহা না হইলে চুপ থাকিও
হাদিস 1025 — Muwatta Malik 22:12
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " لاَ وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ " .
রেওয়ায়ত ১৬. ইবন শিহাব (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন, আবু লুবাবা ইবন আবদুল মুনজির (রাঃ) এর তওবা যখন আল্লাহ্ তা'আলা কবুল করেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট আসিয়া আরয করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আমি যেইখানে বাস করি, আমার যেই বাড়িটিতে আমি গুনাহ করিয়াছিলাম, যেইখানে আমার এই গুনাহ হইয়াছিল, উহা ত্যাগ করিয়া আপনার নিকট আসিয়া থাকিব কি? আর আল্লাহ ও তাহার রাসূলের ওয়াস্তে এই বাড়িটি সদকা করিব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমার ধন-সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ সদকা দিয়া দিলেই যথেষ্ট হইবে।
রেওয়ায়ত ১৭. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল। সে বলিয়াছিলঃ আমার ধন-সম্পদ কা'বার দরজায় ওয়াকফ করিলাম, তবে ইহার কি হুকুম হইবে? আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ তাহাকে কসমের কাফফারার মতো কাফফারা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কেহ বলেঃ আমার ধন-সম্পদ আল্লাহর রাহে সদকা করিয়া দিলাম। অতঃপর সে কসম ভঙ্গ করিল; তবে তাহাকে সমস্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ সদকা করিতে হইবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু লুবাবা (রাঃ) সম্পর্কে এই হুকুমই দিয়াছিলেন।