উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ইবলীসের আরশ সমুদ্রের উপর স্থিরকৃত। সে লোকেদেরকে ফিতনায় নিপতিত করার উদ্দেশে তার বাহিনী পাঠায়। শাইতানের (শয়তানের) কাছে সবচেয়ে বড় সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল আলী ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইবলীস পানির উপর তার আরশ স্থাপন করতঃ তার বাহিনী প্রেরণ করে। তন্মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সে-ই যে সবচেয়ে বেশী ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিয়েছি। তারপর শাইতান (শয়তান) তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে হ্যাঁ, তুমি খুব ভাল। রাবী আ'মাশ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেনঃ অতঃপর শাইতান (শয়তান) তার সাথে আলিঙ্গন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7107 — Sahih Muslim 52:61
حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَبْعَثُ الشَّيْطَانُ سَرَايَاهُ فَيَفْتِنُونَ النَّاسَ فَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً " .
(…) সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, শাইতান (শয়তান) তার সৈন্য বাহিনীকে পাঠিয়ে লোকেদেরকে ফিতনায় নিপতিত করে। তন্মধ্যে সে-ই তার নিকট সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী যে অধিক ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৪৭ ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি শাইতান (শয়তান) নির্ধারিত আছে। সহাবাগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সাথেও ৷ তবে তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কক্ষনো অন্য কিছুর নির্দেশ দেয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার (রহঃ) ও আবু বকর ইবনু শাইবাহ (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) এর সূত্রে জারীর থেকে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান (রহঃ) এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি শাইতান (শয়তান) সঙ্গীরূপে এবং একজন ফেরেশতা সঙ্গীরূপে নিযুক্ত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7110 — Sahih Muslim 52:64
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ، قُسَيْطٍ حَدَّثَهُ أَنَّ عُرْوَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا لَيْلاً . قَالَتْ فَغِرْتُ عَلَيْهِ فَجَاءَ فَرَأَى مَا أَصْنَعُ فَقَالَ " مَا لَكِ يَا عَائِشَةُ أَغِرْتِ " . فَقُلْتُ وَمَا لِي لاَ يَغَارُ مِثْلِي عَلَى مِثْلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَقَدْ جَاءَكِ شَيْطَانُكِ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَمَعِيَ شَيْطَانٌ قَالَ " نَعَمْ " . قُلْتُ وَمَعَ كُلِّ إِنْسَانٍ قَالَ " نَعَمْ " . قُلْتُ وَمَعَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " نَعَمْ وَلَكِنْ رَبِّي أَعَانَنِي عَلَيْهِ حَتَّى أَسْلَمَ " .
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ সিদ্দীকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রজনীতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে বের হলেন। তিনি বলেন, এতে আমার মনে কিছুটা অহমিকা আসল। তারপর তিনি এসে আমার অবস্থা অবলোকন করে বললেন, হে আয়িশাহ! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছ? উত্তরে আমি বললাম, আমার ন্যায় মহিলা আপনার ন্যায় স্বামীর প্রতি কেন ঈৰ্ষাপরায়ণ হবে না? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার শাইতান (শয়তান) মনে হয় তোমার কাছে এসেছে? তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার সঙ্গেও কি শাইতান (শয়তান) রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তারপর আমি বললাম, প্রত্যেক মানুষের সাথেই কি শাইতান (শয়তান) রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সঙ্গেও কি রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সঙ্গেও। তবে আল্লাহ তা’আলা তার মুকাবিলায় আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন তার ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৫০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) ইউনুস ইবনু আবদুল আ’লা আস্ সাদাকী (রহঃ) ... বুকায়র ইবনু আশাজ্জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে بِرَحْمَةٍ مِنْهُ (তার করুণা) এর সঙ্গে وَفَضْلٍ (অনুগ্রহ) শব্দটিও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তাতে سَدِّدُوا (সঠিক পন্থা অবলম্বন কর) শব্দটি বিদ্যমান নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৫১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) ইউনুস ইবনু আবদুল আ’লা আস্ সাদাকী (রহঃ) ... বুকায়র ইবনু আশাজ্জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে بِرَحْمَةٍ مِنْهُ (তার করুণা) এর সঙ্গে وَفَضْلٍ (অনুগ্রহ) শব্দটিও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তাতে سَدِّدُوا (সঠিক পন্থা অবলম্বন কর) শব্দটি বিদ্যমান নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৫১, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই, যার আমল তাকে জান্নাতে দাখিল করাতে পারে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমিও নই। তবে আল্লাহ যদি তার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৫২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই, যার আমল তাকে নাযাত দিতে পারে। সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? জবাবে তিনি বললেন, আমিও নই। তবে যদি আল্লাহ তা’আলা আমাকে তার মার্জনা ও করুণা দ্বারা ঢেকে নেন। রাবী ইবনু আওন (রহঃ) নিজ হাত দ্বারা নিজ মাথার দিকে ইশারা করে বললেন, আমিও না। হ্যাঁ, যদি আল্লাহ তা’আলা তার মার্জনা ও করুণা দ্বারা আমাকে ঢেকে ফেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৫৩, ইসলামিক সেন্টার)