حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক রৌপ্যের বাসনে পান করে সে যেন তার পেটের ভিতরে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ, ‘আলী ইবনু হুজ্র সা'দী, ইবনু নুমায়র, ইবনুল মুসান্না, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর মুকাদ্দামী ও শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) তারা সকলেই নাফি (রহঃ) হতে মালিক ইবনু আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে উবাইদুল্লাহ (রহঃ) এর সানাদে আলী ইবনু মুসহির (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে বাড়তি আছে, যে ব্যক্তি রৌপ্য ও স্বর্ণের পাত্রে খাবে অথবা পান করবে। ইবনু মুসহির (রহঃ) এর হাদীস ব্যতীত অন্য কারো হাদীসে স্বর্ণের পাত্রে আহার করার কথা বর্ণিত নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৩, ইসলামিক সেন্টার)
যায়দ ইবনু ইয়াযীদ আবূ মা'ন রুক্কাশী (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক স্বর্ণ বা রৌপ্য দ্বারা নির্মিত বাসনে পান করে সে শুধু তার পেটে জাহান্নামের অগ্নি প্রবেশ করায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ ইবনু সুওয়াইদ ইবনু মুকাররিন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) এর নিকটে গমন করেছিলাম। সে সময় আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিসের আদেশ করেছেন এবং সাতটি জিনিস হতে বারণ করেছেন। তিনি আমাদের অসুস্থ ব্যক্তির খোজ-খবর নেয়া, জানাযায় শরীক হওয়া, হাঁচিদাতার উত্তর দেয়া, শপথ পূরণ করা কিংবা বলেছেন শপথকারীর শপথ পূরণ করা, নির্যাতিতের সাহায্য করা, দাওয়াতকারীর ডাকে (দাওয়াতে) সাড়া দেয়া এবং সালামের প্রসার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে সোনার আংটি পরিধান করা, রূপার বাসনে পান করা, মায়াসির (এক প্রকার তুলতুলে রেশমী কাপড়) ও কাস্সী (রেশম সংমিশ্রিত এক রকম মিসরী কাপড়) পরিধান করা এবং মিহি রেশমী কাপড়, মোটা রেশমী কাপড় ও খাটি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী (রহঃ) ..... আশ'আস ইবনু সুলায়ম (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। শুধু শপথ বা শপথকারীর শপথ পূরণ করার কথাটি ব্যতীত। তিনি তার হাদীসে এ কথাটি উল্লেখ করেননি। এর স্থানে তিনি 'হারানো জিনিস পেয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার' কথা বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আশ'আস ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) হতে উল্লেখিত সানাদে যুহায়র (রহঃ) এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি সন্দেহ ছাড়াই কসম পূর্ণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। আর তিনি তার হাদীসে বাড়তি বলেছেন যে, তিনি রূপার বাসনে পান করতে বারণ করেছেন। কারণ পার্থিব জীবনে যারা এতে পান করে পরকালে এতে তারা পান করতে সক্ষম হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৭. ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আশ'আসা ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী ইবনু ইদরীস (রহঃ) জারীর ও ইবনু মুসহির (রহঃ) এর অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেননি। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার, উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) আশ'আসা ইবনু সুলায়ম (রহঃ) হতে তাদের সূত্রে, তাদের হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী [শু'বাহ (রহঃ)] সালামের প্রসার করার কথাটি বর্ণনা করেননি। এর বিপরীতে তিনি সালামের জবাব দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমাদেরকে সোনার আংটি অথবা সোনার রিং ব্যবহার করতে তিনি বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আশ'আসা ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। তিনিও (সুফইয়ান) সালামের প্রসারের কথা এবং সন্দেহ ব্যতীতই স্বর্ণের আংটির কথা বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৯, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর ইবনু সাহল ইবনু ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আশ'আস ইবনু কায়স (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উকায়ম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ (রাযিঃ) এর সাথে মাদায়িনে ছিলাম। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) পানি পান করতে ইচ্ছা করলে গ্রাম্য এক পণ্ডিত তার কাছে রূপার বাসনে পানি নিয়ে আসলো। তিনি তা ফেলে দিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে (এটি ফেলে দেয়ার কারণ) অবগত করছি। তাকে আমি বারণ করেছিলাম, সে যেন এর মধ্যে আমাকে পানি পান না করায়। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং মোটা রেশমী কাপড় ও মিহি রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কারণ ইহকালে এগুলো হলো কাফিরদের জন্য। আর তোমাদের জন্য এগুলো হবে পরকালে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২০, ইসলামিক সেন্টার)