আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পন্থায় আহার করে"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৬)। তিনি বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের ধন-সম্পদের ঐ তত্ত্বাবধায়ক সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, যে তার সম্পদের তত্ত্বাবধান করছে এবং সেটা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। যদি তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি গরীব হয় তবে সে ন্যায়ানুগ পরিমাণ তা হতে পারিশ্রমিক হিসেবে আহার করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত থাকে এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পরিমাণ ভোগ করে"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, সে যদি নিতান্তই গরীব হয় তবে সে যেন তার সম্পদ হতে ন্যায়ানুগ পন্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ "যখন তারা তোমাদের (বিপক্ষে) উপর হতে ও নীচ হতে সমাগত হয়েছিল— (ভয়ের কারণে) তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গিয়েছিল, তোমাদের প্রাণ হয়েছিল কণ্ঠাগত এবং তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে নানা রকম বিরূপ ধারণা পোষণ করছিলে" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ১০) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি খন্দক যুদ্ধের দিন অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবু শইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ “কোন সহধর্মিণী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে স্বামী-স্ত্রী যদি সমঝোতা করতে চায় তাদের কোন দোষ নেই এবং সমঝোতা (সন্ধি) সর্বাবস্থায়ই উত্তম”- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, যার সাহচর্যে সে দীর্ঘদিন ছিল। এখন সে তাকে তালাক দিতে চায়। আর মহিলা বলে, আমাকে তালাক দিও না বরং আমাকে তোমার সাথে থাকতে দাও। তবে তোমার জন্য আমার পক্ষ হতে অন্য স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি থাকল। এ প্রসঙ্গে উপরোল্লিখিত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ “কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর অসদাচরণ ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে তবে তারা আপোষ-মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোন দোষ নেই বরং সমঝোতাই (সন্ধিই) উত্তম”— (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, সম্ভবতঃ সে তার প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ অনুভব করে না। অথচ সে তার দীর্ঘ সাহচর্যে ছিল এবং তার সন্তান-সন্ততিও রয়েছে। ফলে সে তার স্বামী হতে পৃথক হওয়া অপছন্দ করছে। তখন উক্ত মহিলা তাকে বলছে, তুমি আমার পক্ষ হতে মুক্ত (অন্য স্ত্রী গ্রহণে অনুমতি থাকল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7539 — Sahih Muslim 56:17
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ يَا ابْنَ أُخْتِي أُمِرُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا، لأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَبُّوهُمْ .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... উরওয়াহ্ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (উরওয়াহ) বলেন, “আয়িশাহ (রাযিঃ) আমাকে বলেছেনঃ হে ভাগ্নে! লোকেদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাদের জন্য মাফ চাইতে আদেশ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের গাল-মন্দ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফাবাসী লোকেরা মহান আল্লাহর এ বাণীকে কেন্দ্র করে মতভেদে লিপ্ত হলঃ "কেউ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা’নাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করবেন"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৯৩) এ আয়াত সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করলে আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে আসলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত শেষ পর্যায়ে নাযিল হয়েছে। সুতরাং অন্য কোন আয়াত সেটাকে মানসুখ করতে পারেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... শু’বাহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইবনু জাফার এর বর্ণনায় আছে فِي آخِرِ مَا أُنْزِلَ ঐ আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আর নায্র এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে إِنَّهَا لَمِنْ آخِرِ مَا أُنْزِلَتْ নিশ্চয় ঐ আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬১, ইসলামিক সেন্টার)