আবু কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর দু’জন বাদী ছিল। একজনের নাম ছিল মুসাইকাহ এবং অপরজনের নাম ছিল উমাইমাহ। সে দু’জন বাদীকে দিয়ে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাতো। তাই তারা এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ করল। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনঃ “তোমাদের বাদীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে জোর-জবরদস্তি করবে না। আর যে তাদেরকে জোর জবরদস্তি করে তবে তাদের (বাদীদের) উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭২, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় খোঁজ করে"- (সূরা আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদা একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করলো। (একদল মানুষ) তাদের (জিনদের) পূজা করতো। কিন্তু পূজায় রত এ লোকগুলো তাদের পূজাতেই অটল থাকল। অথচ জিনের একদল ইসলাম গ্রহণ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধান করে"- (সূরা আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদল মানুষ কয়েকটি জিনের পূজা করত। তারপর জিনের দলটি ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু এ লোকগুলো তাদের পূজার উপর অটল থাকে। তখন অবতীর্ণ হলো, "তারা যাদেরকে ডাকে, তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"- (সূরা আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ “তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে"- (সূরাহ্ আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অত্র আয়াতটি আরবের এক দল লোক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। তারা কতগুলো জিনের আরাধনা করত। অতঃপর জিনেরা তো ইসলাম গ্রহণ করলো; কিন্তু তাদের ইবাদাতে রত এ মানুষগুলো তা বুঝতে পারল না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"- (সুরাহ্ আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মুতী' (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, সূরা আত তওবা। বরং এটা হচ্ছে অপমানকারী সূরাহ্। এ সূরাতে কেবল مِنْهُمْ - مِنْهُمْ (এদের মধ্যে, এদের মধ্যে) বর্ণিত হয়েছে। ফলে মানুষেরা ধারণা করতে লাগল যে, এ সূরায় আমাদের কেউ আলোচনা ব্যতীত অবশিষ্ট থাকবে না, সকলের দুর্বলতা তুলে ধরবে। অতঃপর আমি বললাম, সূরা আল আনফাল। এ কথা শুনে তিনি বললেন, এ সূরা তো বাদর যুদ্ধের পটভূমিতে নাযিল হয়েছে। এরপর আমি সূরা আল হাশরের কথা বললাম। তিনি বললেন, এতো বানু নায়ীর গোত্র সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উমর (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারে উঠে খুৎবাহ প্রদান করতঃ প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করলেন। অতঃপর বললেন- মদ হারাম হওয়ার বিধান যেদিন অবতীর্ণ হওয়ার অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তা পাঁচটি জিনিস হতে বানানো হতো, গম, যব, খেজুর, আঙ্গুর এবং মধু হতে। আর যা মানুষের বিবেকবুদ্ধি বিলোপ করে দেয়, তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার প্রত্যাশা। যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে দাদার (পরিত্যক্ত সম্পত্তি), কালালাহ্ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে (আরো স্পষ্ট) বলে যেতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7560 — Sahih Muslim 56:37
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّهُ نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ وَهْىَ مِنْ خَمْسَةٍ مِنَ الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْعَسَلِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ وَثَلاَثٌ أَيُّهَا النَّاسُ وَدِدْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَهِدَ إِلَيْنَا فِيهِنَّ عَهْدًا نَنْتَهِي إِلَيْهِ الْجَدُّ وَالْكَلاَلَةُ وَأَبْوَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا .
আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারে উঠে খুৎবাহ রত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, অতঃপর হে লোক সকল! মদ হারাম হওয়ার বিধান অবতীর্ণ হয়েছে। তা পাঁচটি জিনিস হতে বানানো হয়। আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব হতে। আর যা মানুষের হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত করে দেয় তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার মনের কামনা, যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (নিম্নোক্ত কতিপয় বিষয়ে) আরো বিশদভাবে সুস্পষ্টভাবে বলে যেতেন তবে তো আমরা এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌছে যেতে পারতাম। আর তা হচ্ছে, দাদার (মীরাস বণ্টন), কালালাহ্ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের কতিপয় বিষয়াদি সম্পর্কিত বিধান বলে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবু হাইয়্যান (রহঃ) হতে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু উলাইয়্যাহ আবু ইদরীস এর মতো তার হাদীসে (আঙ্গুর) বাক্যটি উল্লেখ করেছেন। আর রাবী ঈসা ইবনু মুসহির (রহঃ) এর ন্যায় তার হাদীসের মধ্যে عِنَبِ (আঙ্গুর) শব্দটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
আমর ইবনু যুরারাহ (রহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি শপথ করে বলতেন, "তারা দু’টি বিবদমান পক্ষ তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে"- (সূরা আল হাজ্জ ২২ঃ ১৯) আল্লাহর এ বাণী ঐ লোকেদের সম্বন্ধেই অবতীর্ণ হয়েছে, যারা বদরের দিন যুদ্ধ করার জন্য যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবতরণ করেছিল। এদের একদিকে ছিলেন হামযাহ, ‘আলী ও উবাইদাহ ইবনুল হারিস (রাযিঃ) আর অপরদিকে ছিল, উতবাহ ও শাইবাহ রাবী’আর দু' পুত্র এবং ওয়ালীদ ইবনু উতবাহ্। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৮০, ইসলামিক সেন্টার)