কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পরের বাদানুবাদ করেন। এতে আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) আদম-কে বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যিনি মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং জান্নাত হতে তাদেরকে বের করেছেন। তারপর আদম (আঃ) বললেন, আপনি তো সে লোক (নবী) যাকে আল্লাহ তা’আলা সকল বস্তুর জ্ঞান দান করেছেন এবং তাকে মনোনীত করে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন? মূসা (আঃ) বললেন, হ্যাঁ। আদম (আঃ) বললেন, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে ভৎসনা করেছেন, যা আমার জন্মের আগেই আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মূসা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মূসা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আনসারী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) তাদের রবের নিকট ঝগড়া করলেন*। অতঃপর আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যাকে আল্লাহ তা’আলা নিজ হস্তে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে তিনি তাঁর রূহকে ফুঁকে দিয়েছেন, তিনি তার ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা্ করিয়েছেন এবং তার জান্নাতে আপনাকে আবাসন করে দিয়েছেন। তারপর আপনি আপনার ভুলের কারণে মানবজাতিকে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন। এরপর আদম (আঃ) বললেন, আপনি তো সে মূসা (আঃ) যাকে আল্লাহ তা’আলা রিসালাত দিয়েছেন তার সাথে কথা বলার জন্য বাছাই করেছেন এবং আপনাকে দান করেছেন তক্তিসমূহ, তাতে সব বিষয়ের বর্ণনা লিখিত রয়েছে এবং নির্জনে আলাপচারিতার জন্যে নৈকট্য দান করেছেন। সুতরাং আমার জন্মের কত বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছেন তা-কি আপনি দেখেছেন? মূসা (আঃ) বললেন, চল্লিশ বৎসর পূর্বে। আদম (আঃ) বললেন, আপনি কি তাতে পাননি- আদম তার রবের আদেশ অমান্য করেছেন এবং পথভ্রষ্ট হয়েছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আদম (আঃ) বললেন, এরপর আপনি আমাকে আমার এমন কর্মের জন্য কেন ভৎসনা করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা আমার উপর লিখে রেখেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) বাদানুবাদ করেন। তখন মূসা (আঃ) তাকে বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যাকে তার ভুলে জান্নাত হতে বের করে দিয়েছে। এরপর আদম (আঃ) তাকে বললেন, আপনি তো সে মূসা (আঃ) আল্লাহ তা’আলা যাকে তার রিসালাত ও কথা বলার জন্যে বাছাই করেছেন। তারপরও তুমি আমাকে তিরস্কার করছ, এমন একটি ব্যাপারে, যা আমার জন্মের আগে আমার উপর ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত হয়েছিল। পরিশেষে আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6746 — Sahih Muslim 46:24
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ النَّجَّارِ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح
(…/...) ‘আমর আন্ নাকিদ ও ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাদের হাদীসের মর্মের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6747 — Sahih Muslim 46:25
وَحَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِهِمْ .
وَحَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِهِمْ .
হাদিস 6748 — Sahih Muslim 46:26
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِهِمْ .
(…/...) মুহাম্মদ ইবনু মিনহাল আয যারীর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ...... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন। তিনি বলেছেন, সে সময় আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু সাহল আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ হানী (রাযিঃ) এর সানাদে তার হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়ে তাদের হাদীসে "তার আরশ পানির উপর ছিল" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৮, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আদম সন্তানের কলবসমূহ পরম দয়াময় আল্লাহ তা’আলার দু’আঙ্গুলের মধ্যে এমনভাবে আছে যেন তা একটি কলব। তিনি যেভাবে চান সেভাবেই তা উলট পালট করেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কলব সমূহের পরিচালক হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কলব সমূহকে তোমার বশ্যতার উপর স্থির রাখুন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6752 — Sahih Muslim 46:30
حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، أَنَّهُ قَالَ أَدْرَكْتُ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُونَ كُلُّ شَىْءٍ بِقَدَرٍ . قَالَ وَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ شَىْءٍ بِقَدَرٍ حَتَّى الْعَجْزُ وَالْكَيْسُ أَوِ الْكَيْسُ وَالْعَجْزُ " .
‘আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ, কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক সহাবাকে দেখতে পেয়েছি। তারা বলতেন যে, সকল বিষয় নির্ধারিত (সৃষ্ট)। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল বিষয় নির্দিষ্ট পরিমাণে সৃষ্ট, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা বা বুদ্ধিমত্তা ও অক্ষমতাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১০, ইসলামিক সেন্টার)