وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو الرَّبِيعِ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ .
আবূ রবী ও কুতায়বাহ্ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... (পূর্বোক্ত সানাদের রাবী) আইয়্যুব (রহঃ) এর সূত্রে ঐ সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন .... উমর (রযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে হুকুম করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে রিওয়ায়াত করেছেন। এ সানাদের হাদীসে রাবী বলেছেন, পরে উমার (রাযিঃ) এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়ার জন্য তার (ইবনু উমারের) প্রতি আদেশ প্রদান করলেন। যাতে অবশেষে তাকে (স্ত্রীকে) যৌন সঙ্গমবিহীন তুহর (পবিত্র) অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিতে পারে। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, তার (স্ত্রীর) ইদ্দাত (ইদ্দত) (এর সময়) এর পূর্ব ভাগে (আগমন কালে) তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... (মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন সূত্রে) ইউনুস ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললামঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিল (এর হকুম কি?)। তিনি বললেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জান কি সে তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিল? তখন উমর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে হুকুম করলেন যে, সে (ইবনু উমার) তাকে (স্ত্রী) রাজ’আত করে নিবে। এরপর তার ইদ্দাতের (নিশ্চয়তাযুক্ত সময়ের) প্রতীক্ষায় থাকবে। ইউনুস (রহঃ) বলেন, তখন আমি তাকে (ইবনু উমারকে) বললাম, কোন পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে তখন ঐ ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি হিসাবে গণনা করা হবে কি? তিনি বললেন, তবে আর কি যদি নাকি সে অক্ষম হয়ে গিয়ে থাকে কিংবা বোকামি করে থাকে (তাহলে কি তার এ কাজের পরিণতি দেখা দিবে না?) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3665 — Sahih Muslim 18:14
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهْىَ حَائِضٌ فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لِيُرَاجِعْهَا . فَإِذَا طَهَرَتْ فَإِنْ شَاءَ فَلْيُطَلِّقْهَا " . قَالَ فَقُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ أَفَاحْتَسَبْتَ بِهَا قَالَ مَا يَمْنَعُهُ . أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলাম- তখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। তখন উমর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তার কাছে বিষয়টি আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যেন তাকে রাজ'আত করে নেয়। পরে যখন সে (হায়য হতে) পবিত্র হবে তখন ইচ্ছা করলে তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। রাবী ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললাম, সেটি (ত্বলাক (তালাক)) কি হিসাবে করা হবে? তিনি বললেন, কোন বিষয় তাকে বাধা দিবে- বলত যদি সে অপরাগ হয়ে থাকে এবং আহম্মকি করে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার (রাযিঃ) কে তার সে স্ত্রী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যাকে তিনি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তাকে আমি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলাম- যখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। আমি বিষয়টি উমর (রাযিঃ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আলোচনা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। পরে যখন সে পাক হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তার পাক অবস্থায় তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, আমি কেন সেটা গণনায় ধরবো না? যদি আমি অক্ষম হই অথবা নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করি (তাহলে কি আমার এ কাজ গণনায় আসবে না)? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেই। উমার (রাযিঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে রাজ’আত করে। পরে যখন সে পবিত্র হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তাকে পবিত্র অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়। আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, তবে কী করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... (পূর্বোক্ত সানদের ন্যায়) শু'বাহ (রহঃ) সূত্রে এ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এ দু'জনের হাদীসেيراجعها এর স্থলেلِيَرْجِعْهَا (তাকে ফিরিয়ে আনে) রয়েছে এবং এদের হাদীসে আরো রয়েছে যে, আনাস (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনি কি সেটি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, তবে আর কী হবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩২, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু ত্বাউস (রহঃ) এর পিতা (তাউস) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদানকারী পুরুষ (এর মাসআলা) সম্পর্কে ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনলেন। তখন ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার কে জান কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, তিনি তো তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তখন উমার (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাকে সংবাদ অবহিত করলে তিনি তাকে (স্ত্রীকে) পুনঃগ্রহণ করে নেয়ার জন্য তাকে আদেশ প্রদান করলেন। ইবনু তাউস (রহঃ) বলেন, আমি তাকে (পিতাকে) এর অধিক বলতে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3670 — Sahih Muslim 18:19
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَيْمَنَ، مَوْلَى عَزَّةَ يَسْأَلُ ابْنَ عُمَرَ وَأَبُو الزُّبَيْرِ يَسْمَعُ ذَلِكَ كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَقَالَ طَلَّقَ ابْنُ عُمَرَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لِيُرَاجِعْهَا " . فَرَدَّهَا وَقَالَ " إِذَا طَهَرَتْ فَلْيُطَلِّقْ أَوْ لِيُمْسِكْ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَقَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ .
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘আযযাহ এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) আবদুর রহমান ইবনু আয়মান (রহঃ) কে ইবনু উমর (রাযিঃ) এর কাছে প্রশ্ন করতে শুনলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) তখন শুনছিলেন- “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিল তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?” ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ইবনু উমার (রাযিঃ) তার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিল যখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাযিঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছে। "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, সে যেন তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। সুতরাং (এভাবে) তিনি তাকে (স্ত্রীকে) ফিরিয়ে নিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, যখন (হায়য হতে) পবিত্র হয়ে যাবে তখন (ইচ্ছে করলে) যেন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয় কিংবা রেখে দেয়। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, এবং (এ সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেনঃ (অর্থ) "হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিতে ইচ্ছা কর তখন তাদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিও তাদের ইদ্দাতের (সময় আগমনের) অগ্রভাগে"- (সূরা আত ত্বলাক (তালাক) ৬৫ঃ ১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৪, ইসলামীক সেন্টার)