হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আবূ আমর ইবনু হাফস্ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাকে চূড়ান্ত তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। তখন তিনি ফাতিমাহ বিনত কায়স (রাযিঃ) ভাবলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাবেন এবং তার স্বামীর ঘর থেকে অন্যত্র অবস্থানের ব্যাপারে তার নিকট থেকে সিদ্ধান্ত জেনে নিবেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি অন্ধ ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে চলে যাও। মারওয়ান (উমাইয়্যা গভর্নর) ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্তা মহিলার (স্বামীর) ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে তার (আবূ সালামার) বর্ণনার সত্যতা অস্বীকার করেন। উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) ও ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর বিষয়টি (স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করা) প্রত্যাখ্যান করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) এ সানাদে উরওয়ার উক্তিসহ বর্ণনা করেছেন যে, “আয়িশাহ (রাযিঃ) ফাতিমার উক্ত ঘটনা অস্বীকার করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ আমর ইবনু হাফস্ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) আলী ইবনু আবূ তলিব (রাযিঃ) এর সঙ্গে ইয়ামানে গমন করেন। এরপর তিনি তার স্ত্রী ফাতিমাহ বিনতু কায়সকে অবশিষ্ট এক তলাকের কথা বলে পাঠালেন (দু' তালাক আগেই দিয়েছিলেন)। তিনি হারিস ইবনু হিশাম ও আবূ রাবী'আকে নিজের পক্ষ থেকে তার (স্ত্রীকে) খোরপোষ হিসেবে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন তারা দু'জন তাকে (ফাতিমাকে) বললেন, আল্লাহর কসম তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তবে তুমি গর্ভবতী হলে ভিন্ন কথা। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাদের দু'জনের উক্তি সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, ইবনু উম্মু মাকতুমের কাছে চলে যাও। সে অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার নিকট গাত্র বস্ত্র খুলতে পারবে এবং সে তোমাকে দেখতে পাবে না। এরপর যখন তার ইদ্দাত পূর্ণ হল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উসামাহ ইবনু যায়দের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন। পরবর্তীকালে (উমাইয়্যাহ্ গভর্নর) মারওয়ান এ হাদীসের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে কাবীসাহ ইবনু যুআয়বকে তার কাছে পাঠান। তখন তিনি তার (কাবীসার) কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেন। এ খবর শুনে মারওয়ান বললেন, একজন মহিলা ছাড়া অন্য কারো কাছে আমি এ হাদীস শুনিনি। আমরা এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ মত গ্রহণ করব যার উপর আমরা মুসলিম জনসাধারণকে পেয়েছি। ফাত্বিমাহ্ বিনতু কায়স (রাযিঃ) এর নিকট মারওয়ানের মন্তব্য পৌছলে তিনি বলেন, আমার ও তোমাদের মধ্যে কুরআনই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেছেনঃ "তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না।" তিনি বলেন, এ আয়াত সে সব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের জন্য রাজ'আতের অধিকার আছে। তাই তিন তলাকের পর নতুন করে আর কী থাকতে পারে? এরপর তোমরা কী করে বলতে পার যে, যে মহিলা গর্ভবতী নয় তার জন্য কোন খোরপোষ নেই? এরপরও তোমরা তাকে কিসের ভিত্তিতে তোমাদের ঘরে আটক করে রাখবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3705 — Sahih Muslim 18:53
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، وَحُصَيْنٌ، وَمُغِيرَةُ، وَأَشْعَثُ، وَمُجَالِدٌ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ وَدَاوُدُ كُلُّهُمْ عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَسَأَلْتُهَا عَنْ قَضَاءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا فَقَالَتْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ . فَقَالَتْ فَخَاصَمْتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السُّكْنَى وَالنَّفَقَةِ - قَالَتْ - فَلَمْ يَجْعَلْ لِي سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তার (ফাতিমাহ বিনতু কায়স) কাছে গেলাম এবং তার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তার স্বামী তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, এরপর আমি বাসস্থান ও খোরপোষের জন্য তার বিরুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বিচারপ্রার্থী হলাম। তিনি বলেন, তিনি আমার পক্ষে বাসস্থান ও খোরপোষের রায় দেননি। উপরন্তু তিনি আমাকে ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমাহ বিনত কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে ইবনু ত্বাব নামক টাটকা খেজুর দ্বারা আপ্যায়িত করলেন এবং গম ও মূলত ছাতুর শরবত পান করালেন। এরপর আমি তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সে ইদ্দাত পালন করবে কোথায়? তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ইদ্দাত (ইদ্দত) পালনের অনুমতি দিলেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ কোনটাই নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭০, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্যালী (রহঃ) ..... ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। এতে আমি তার ঘর থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। (এ পর্যায়ে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার চাচাত ভাই 'আমর ইবনু উম্মু মাকতুমের বাড়িতে চলে যাও এবং তার ঘরেই ইদ্দাত পালন করতে থাক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু জাবালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদের সঙ্গে সেখানকার বড় মসজিদে বসা ছিলাম। শা'বীও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ফাতিমাহ বিনতু কায়স বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের সিদ্ধান্ত দেননি। তখন আসওয়াদ তার হাতে এক মুঠো কংকর নিয়ে শা'বীর দিকে নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, সর্বনাশ! তুমি এমন ধরনের হাদীস বর্ণনা করছ? (অথচ) উমর (রাযিঃ) বলেছেন, আমরা আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর সুন্নাত এমন একজন মহিলার উক্তির কারণে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা জানি না, সে স্মরণ রাখতে পেরেছে অথবা ভুলে যে তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বহিষ্কার করে দিয়ে না এবং তারাও যেন ঘর থেকে বের না হয়। তবে তারা স্পষ্ট কোন অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে ভিন্ন কথা”— (সূরা আত ত্বলাক (তালাক) ৬৫ঃ ১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭২, ইসলামীক সেন্টার)