আমর আন নাকিদ (রহঃ), ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) .... আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম যাতে ভয় পেয়ে জ্বর জ্বর ভাব অনুভব করতাম। তবে আমাকে কম্বল দিয়ে ঢাকতে হতো না। অবশেষে আমি আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) এর সঙ্গে দেখা করলাম এবং এ বিষয়টি তার নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি الرُّؤْيَا সু-স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে, আর الْحُلْمُ খারাপ স্বপ্ন শাইতানের তরফ হতে। অতএব তোমাদের কেউ যখন এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে না, তখন যেন সে তার বাম পাশে তিনবার থু থু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে (অর্থাৎ- আউয়ুবিল্লাহ্ পড়ে), তাহলে সেটি তার ক্ষতি করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০০, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এরা এদের বর্ণিত হাদীসে (পূর্বোল্লিখিত হাদীসের) বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ (রহঃ) এর কথা— আমি স্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়ার দরুন জ্বর জ্বর ভাব দেখা দিতো, কিন্তু আমাকে কম্বল দিয়ে ঢাকতে হতো না কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০১, ইসলামিক সেন্টার)
হারামালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে– ভয় পেয়ে জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়তাম' উক্তিটি নেই। আর (প্রথম সূত্রে) বর্ণনাকার ইউনুস (রহঃ) বর্ধিত করে বলেছেন, যখন সে ঘুম হতে জেগে উঠবে তখন সে যেন তিনবার তার বাম পাশে থুথু ফেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০২, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) .... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, الرُّؤْيَا সু-স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে, আর الْحُلْمُ দুঃস্বপ্ন শাইতানের তরফ থেকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন এমন কোন ব্যাপারে স্বপ্নে দেখে, যা সে পছন্দ করে না, তখন সে যেন তার বাম পাশে তিন বার থুথু ফেলে এবং (আউযুবিল্লাহ্ বা সূরা আল ফালাক ও সূরা আন নাস পড়ে) স্বপ্লের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চায়। কারণ (এভাবে করলে) তা তার কোন খারাবী করতে পারবে না। রাবী বলেন, আমি এমন স্বপ্নও দেখতাম যা আমার জন্য পাহাড়ের চাইতেও কঠিন (ও ভয়াবহ) কিন্তু এখন অবস্থা এই যে, এ হাদীস যখন আমি শুনে ফেলেছি, এখন আর সে সবের পরোয়া করি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাযিঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী আসূ-সাকাফী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, (আমার উস্তায) বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি এমন স্বপ্নও দেখতাম যা.....। আর বর্ণনাকারী আল-লায়স ও ইবনু নুমায়র (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) এর কথা হতে হাদীসের শেষাংশ নেই এবং বর্ণনাকারী ইবনু রুমূহ এ হাদীসের রিওয়ায়াতে বর্ধিত বলেছেন যে, আর সে (স্বপ্নদ্রষ্টা) লোক যে পাশে ঘুমাচ্ছিল সে পাশ পরিবর্তন করে অন্যপাশে ঘুমাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শাইতানের তরফ থেকে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন স্বপ্ন দেখল আর এতে কোন কিছু পছন্দ হলো না, তখন সে যেন তার বাম পাশে খু থু ফেলে এবং শাইতান (এর অনিষ্ট) হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে, (তাহলে) তা তাকে কোন সমস্যায় ফেলবে না। আর কারো কাছে ঐ স্বপ্নের কথা বর্ণনা করবে না। আর যদি কোন ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে সু-সংবাদ গ্রহণ করবে। আর যাকে সে মুহাব্বাত করে এমন ব্যক্তি ব্যতীত কারো নিকট তা বর্ণনা করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ বাহিলী ও আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাকম (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম, যা আমাকে রোগগ্রস্ত করে দিত। তিনি বলেন, পরে আমি আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) এর সঙ্গে দেখা করলাম (এবং আমার সমস্যার ব্যাপারটি তাকে বললাম)। তখন তিনি বললেন, আমিও এমন স্বপ্ন দেখতাম, যা আমাকে অসুস্থ করে দিত। অবশেষে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনলাম, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন এমন (স্বপ্ন) দেখে যা সে পছন্দ করে তাহলে তা তার ঘনিষ্ঠ লোক ব্যতীত অন্য কারো নিকট যেন প্রকাশ না করে। আর যখন এমন (স্বপ্ন) দেখে, যা সে অপছন্দ করে তাহলে সে যেন তার বামপাশে তিন (বার) থুথু নিক্ষেপ করে এবং শাইতানের অনিষ্ট ও স্বপ্লের অমঙ্গল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে ও কাউকে তা না বলে। কারণ (এভাবে করলে) সে স্বপ্ন তার কোন অকল্যাণ হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে না তখন সে যেন তার বামপাশে তিনবার খু থু ফেলে এবং শাইতান (এর খারাবী) থেকে আল্লাহর নিকট তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করে। আর যে পাশে ঘুমন্ত ছিল তা হতে যেন বিপরীত পাশে ঘুমায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল-মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ ও সময় (কিয়ামতের) সন্নিকটে হয়ে আসবে তখন প্রায়শ (খাঁটি) মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের (মাঝে) অধিক সত্যভাষী লোক সর্বাধিক সত্য (ও বাস্তব) স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। আর মুসলিমের স্বপ্ন নুবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর স্বপ্ন তিন (প্রকার)- ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ (বাহক)। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন শাইতানের পক্ষ হতে দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন যা মানুষ তার মনের সাথে কথা বলে (এবং ভাবনা-চিন্তা করে) তা থেকে (উদ্ভূত)। অতএব তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু (স্বপ্ন) দর্শন করে- যা সে পছন্দ করে না, তাহলে সে যেন (ঘুম থেকে) উঠে দাঁড়ায় এবং সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে আর মানুষের নিকট সে (স্বপ্নের) কথা গোপন রাখে। তিনি (আরও) বলেছেন যে, আমি (স্বপ্লে) হাত কড়া (দেখা) পছন্দ করি এবং গলায় বেড়ী (দেখা) পছন্দ করি না। কারণ, হাত কড়া দীন-ধর্মে অবিচলতা ('র পরিচায়ক)। বর্ণনাকারী বলেন, তবে আমি জানি না যে, তা (রিওয়ায়াতের এ শেষাংশটি) মূল হাদীসের অংশ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী) নাকি তা [জাবির (রাযিঃ) থেকে রিওয়ায়াতকারী] ইবনু সীরীন (রহঃ) বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (তার বর্ণিত) হাদীসে বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বলেন, হাত কড়া (দেখা) আমাকে বিমোহিত করে এবং গলায় বেড়ী (দেখা) আমি পছন্দ করি না। (কেননা) হাতকড়া হলো দীন ধর্মে অটল থাকার পরিচায়ক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, (খাটি) ঈমানদারের স্বপ্ন নুবুওয়াতের (চল্লিশ অংশের) একটি অংশ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৯, ইসলামিক সেন্টার)