আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আশুরার দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, জাহিলী যুগে এ দিনে লোকেরা সিয়াম (রোজা/রোযা) সাধনা করত। যদি কেউ এদিনে সওম পালন করতে চায়, সে এ দিনে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করবে। আর কেউ যদি এদিনে সওম পালন করতে না চায়, সে সওম পালন করবে না। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তার অভ্যস্ত দিনে না হলে আশূরার সওম পালন করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2646 — Sahih Muslim 13:152
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الأَخْنَسِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَوْمُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ . فَذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ سَوَاءً .
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আশূরার দিনের সিয়াম (রোজা/রোযা) সম্পর্কে কথা তোলা হল। তারপর তিনি লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) এর অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৩, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু উসমান আন্ নাওফালী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আশূরার দিবস সম্পর্কে কথা তোলা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করত। যার ইচ্ছা সে এ দিন সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে এ দিনে সওম পালন করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশ'আস ইবনু কায়স আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। তখন তিনি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! তুমি খাওয়ার জন্য কাছে এসো। তিনি বললেন, আজ কি আশূরার দিন নয়? তিনি বললেন, তুমি কি জান আশুরা দিন কী? আশ'আস বললেন, সে আবার কী? তিনি বললেন, রমযানের সিয়াম (রোজা/রোযা) ফারয (ফরয) হওয়ার পূর্বে এ দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন। যখন রমযানের সিয়াম (রোজা/রোযা) ফারয (ফরয) হল তখন তা ছেড়ে দেয়া হল। রাবী আবূ কুরায়ব (রহঃ) تُرِكَ এর স্থলে تَرَكَهُ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৫, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও উসমান ইবনু আবূ শয়বাহ (রহঃ) ... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তারা বলেছেন, فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ تَرَكَهُ “যখন রমাযানের বিধান নাযিল হল তখন তা ছেড়ে দেয়া হয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... কায়স ইবনু সাকান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশুরার দিন আশ'আস ইবনু কায়স (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আহার করছিলেন। তিনি আশ'আসকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ নিকটে এসো, খানা খাও। তিনি বললেন, আমি তো সওম পালন করছি। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, আমরা এ সওম পালন করতাম। পরে তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৭, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ)..... আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশ'আস ইবনু কায়স (রহঃ) ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। সেটা আশূরার দিন ছিল। তখন তিনি খানা খাচ্ছিলেন। এ দেখে আশ'আস (রহঃ) বললেন, হে আবদুর রহমানের পিতা! আজ তো আশূরার দিন। তিনি বললেন, রমাযানের সিয়াম (রোজা/রোযা) ফারয (ফরয) হওয়ার পূর্বে এ দিনে সিয়াম পালন করা হতো। কিন্তু রমযানের সিয়াম ফারয (ফরয) হলে এ দিনের সিয়াম পালন ছেড়ে দেয়া হয়। এখন তুমি যদি সওম না রেখে থাক তবে খাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2652 — Sahih Muslim 13:158
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ، عَنْ أَشْعَثَ، بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا بِصِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَيَحُثُّنَا عَلَيْهِ وَيَتَعَاهَدُنَا عِنْدَهُ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ لَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا وَلَمْ يَتَعَاهَدْنَا عِنْدَهُ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার দিন আমাদেরকে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনের নির্দেশ দিতেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি আমাদের খোজ-খবর নিতেন। কিন্তু যখন রমযানের সিয়াম ফারয (ফরয) হল তখন তিনি আমাদেরকে আদেশও করেননি, বাধাও করেননি এবং কোন খোঁজ-খবর আর নেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫১৯, ইসলামীক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) কে মদীনায় খুতবায় বলতে শুনলেন অর্থাৎ যখন তিনি মদীনায় এসেছিলেন, তখন আশুরার দিবসে তিনি তাদের উদ্দেশে খুতবাহ দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলন, হে মাদীনাবাসী! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ দিন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, এ হল আশুরা দিবস। আল্লাহ তোমাদের উপর এ দিনের সওম ফারয (ফরয) করেননি। তবে আমি সওম পালন করছি। তাই তোমাদের মধ্যে যে সওম পালন করতে পছন্দ করে, সে পালন করবে আর যে পছন্দ করেনি, সে করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫২০, ইসলামীক সেন্টার)