حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، - رضى الله عنه - قَالَ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ عَلَى الأُخْرَى فَقَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا " . ثُمَّ نَقَصَ فِي الثَّالِثَةِ إِصْبَعًا .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... সাদ ইবনু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক হাত দিয়ে অপর হাতের উপর আঘাত করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাস এভাবে এবং এভাবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তৃতীয়বারে একটি আঙ্গুল নীচু করে রাখলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2526 — Sahih Muslim 13:32
وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . عَشْرًا وَعَشْرًا وَتِسْعًا مَرَّةً .
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ অর্থাৎ দশ দিন এবং নয় দিন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ...... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হারিসের কন্যা উম্মুল ফাযল তাকে সিরিয়ায় মুআবিয়াহ (রাযিঃ) এর নিকট পাঠালেন। কুরায়ব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌছে তার প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমযান এসে গেল। আমি জুমুআর রাতে রমযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সিয়াম (রোজা/রোযা) সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো জুমুআর রাতেই চাঁদ দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেছে। এমনকি মু'আবিয়াহ্ (রাযিঃ)-ও সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করছেন। তিনি বলেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোযা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তাহলে তখন ইফত্বার করব। আমি বললাম, আপনি কি মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) এর চাঁদ দেখা ও সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করাকে (রমাযান মাস শুরু হওয়ার জন্য) যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেনঃ না, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করা ও ইফতার করার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূল বাখতারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা উমরাহ করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা (মাক্কাহ (মক্কা) ও ত্বায়িফের মাঝামাঝি অবস্থিত) “বাত্বনে নাখলাহ" নামক স্থানে অবতরণ করলাম সকলে মিলে চাঁদ দেখতে লাগলাম। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, এ তো তিনদিনের চাঁদ, আবার কেউ বলল দু'দিনের। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা ইবনু “আব্বাস (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমরা চাঁদ দেখেছি। কিন্তু লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে, এতো দু'দিনের চাঁদ আবার কেউ কেউ বলেছে এতো তিন দিনের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন রাতে চাঁদ দেখেছে? আমরা বললাম, অমুক দিন, অমুক রাতে। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন রাতে চাঁদ দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং চাঁদ সে রাতেই উঠেছে যে রাতে তোমরা দেখেছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না ও ইবনুল বাশশার (রহঃ) ...... আবূল বাখতারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমরা যখন যাতু ইরক নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম তখন রমযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর আমরা এক ব্যক্তিকে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালাম। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা চাঁদ দেখার সাথে মাস নির্ধারণ করেছেন, যদি তোমাদের নিকট অপ্রকাশিত থাকে (মেঘের কারণে) তাহলে তোমরা (ত্রিশ দিনে) মাস পূর্ণ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2531 — Sahih Muslim 13:37
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ তার পিতা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈদের দু'মাস অসম্পূর্ণ হয় না। সে মাস দুটি হলো- রমযান ও যিলহাজ্জ।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯৮, ইসলামীক সেন্টার ২৩৯৮[ক)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈদের দু'মাস অসম্পূর্ণ হয় না। খালিদের বর্ণিত হাদীসে আছেঃ ঈদের দু' মাস হচ্ছে রমযান এবং যিলহাজ্জ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ (রহঃ) ... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যখন এ আয়াতحَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে"- (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৮৭) নাযিল হলো, তখন আদী (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার বালিশের নীচে একটি কালো ও একটি সাদা রংয়ের রশি রেখে দিয়েছি। এগুলোর দ্বারা আমি রাত ও দিনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে থাকি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে) বললেন, তোমার বালিশ তো খুবই চওড়া। জেনে রাখো, এ-তো রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৪০০, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতও। তিনি বলেন, وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৮৭) নাযিল হল, তখন লোকেরা একটি কালো এবং একটি সাদা রশি রাখত। তারা উভয় রশি সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত খেতে থাকত। এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা مِنَ الْفَجْرِ (ফজরের) কথাটি নাযিল করে বিষয়টির অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূরীভূত হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৪০১, ইসলামীক সেন্টার)