ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ছাড়া কি তোমার আরও পুত্র আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাদের সবাইকে কি এভাবে দান করেছ? বললেন, না। তিনি বললেনঃ তা হলে আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4184 — Sahih Muslim 24:22
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَبِيهِ " لاَ تُشْهِدْنِي عَلَى جَوْرٍ " .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে বললেন, আমাকে অন্যায় কাজের ব্যাপারে সাক্ষী রেখো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ...... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্দেশে রওয়ানা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি নুমানকে আমার সম্পদ থেকে অমুক অমুক বস্তু দান করেছি। তিনি বললেন, তোমার সকল পুত্রদেরও কি তুমি তা দান করেছ, যেরূপ নু'মানকে দান করেছ? তিনি বললেন, না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর সাক্ষী রাখো। তারপর বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এরূপ করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪০ ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু উসমান নাওফালী (রহঃ) ..... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে কোন এক জিনিস দান করেন। পরে তিনি আমাকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গমন করেন তাকে সাক্ষী রাখার জন্যে। তিনি বললেন, তোমার সকল পুত্রকে কি এভাবে দান করেছ? তিনি (আমার পিতা) বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি তাদের থেকে উত্তম ব্যবহার আশা করো না? যেমন আশা করো এর থেকে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আমি সাক্ষী হবে না। ইবনু আওন বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪১, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4187 — Sahih Muslim 24:25
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَتِ امْرَأَةُ بَشِيرٍ انْحَلِ ابْنِي غُلاَمَكَ وَأَشْهِدْ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ ابْنَةَ فُلاَنٍ سَأَلَتْنِي أَنْ أَنْحَلَ ابْنَهَا غُلاَمِي وَقَالَتْ أَشْهِدْ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلَهُ إِخْوَةٌ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " أَفَكُلَّهُمْ أَعْطَيْتَ مِثْلَ مَا أَعْطَيْتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَلَيْسَ يَصْلُحُ هَذَا . وَإِنِّي لاَ أَشْهَدُ إِلاَّ عَلَى حَقٍّ " .
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাশীরের স্ত্রী তাকে বলেন, আমার পুত্রকে আপনার গোলামটি দান করে দিন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার পক্ষে সাক্ষী রাখুন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, অমুকের কন্যা (আমার স্ত্রী) আমার কাছে আবেদন করেছে, যেন আমি তার পুত্রকে আমার গোলামটি দান করে দেই। আর সে বলেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার পক্ষে সাক্ষী করুন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কি আরও ভাই আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাদের সকলকে কি প্রদান করেছ, যেরূপ ওকে দিচ্ছ? তিনি বললন, না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এটি সঠিক কাজ হবে না। আর অন্যায় কাজে আমি সাক্ষী হব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে এবং তার ওয়ারিসদেরকে আজীবন ভোগ করার জন্যে কিছু দান করে, তবে যাকে তা দান করেছে তা তারই হয়ে যাবে। এরপরে যে দান করেছে তা তার কাছে ফিরে আসবে না। কেননা, সে এমনভাবে দান করেছে, যাতে ওয়ারিসগণ তা পেয়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ ও কুতাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি এবং তার উত্তরসূরীদেরকে আজীবন ভোগ করার জন্যে কোন কিছু দান করে, তাহলে সে যেন তার কথা দ্বারা তার মধ্যে স্বীয় অধিকার তুলে নিল এবং সে বস্তু তারই হবে যার জন্যে দান করা হয়েছে এবং তা হবে তার উত্তরসূরীদের জন্যেও। অবশ্য ইয়াহইয়া তার হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তিকে আজীবনের জন্যে দান করা হয়, তবে তা তার ও পরবর্তী উত্তরসূরীদের জন্যে হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু বিশর আবদী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি কাউকে তার সারা জীবনের জন্যে এবং তার সন্তানাদির জন্য দান করে, এরূপ বলে যে, "আমি তোমাকে তা দিলাম এবং তোমার সন্তানদেরকে যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ জীবিত থাকে, তবে তা তারই হয়ে যাবে যাকে দান করা হলো। তা তার মালিকের নিকট আর ফিরে আসবে না। কারণ, সে এমনভাবেই দান করেছে যার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রবর্তন হয়ে গেছে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে আজীবন কালের জন্যে দান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কার্যকরী বলে গণ্য করেছেন, তা হলো এই যে, সে বলে, "এ তোমার ও তোমার উত্তরাধিকারীদের জন্যে।" কিন্তু সে যদি বলে যে, এ তোমার জন্যে যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে, তবে তা তার মালিকের নিকট ফিরে আসবে (প্রদত্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর)। মা'মার বলেন, যুহরী এ ফাতাওয়াই দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। কোন ব্যক্তি এবং তার উত্তরাধীকারীদের উদ্দেশে সারা জীবনের জন্য যা দান করা হয়, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দিয়েছেন যে, সেটি তার জন্যে চিরস্থায়ী হবে। তাতে কোন শর্ত বা ব্যতিক্রম কিছু করা দাতার জন্যে বৈধ নয়। রাবী আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এর কারণ, সে এমনভাবে দান করেছে যার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রযোজ্য হয়েছে। তাই মীরাস তার শর্ত কেটে দিয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৪৭, ইসলামিক সেন্টার)