(…/...) আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... সুলাইমান আত তাইমী (রাযিঃ) হতে এ সূত্রে তার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অবশ্যই দুনিয়াটা চাকচিক্যময় মিষ্টি ফলের মতো আকর্ষণীয়। আল্লাহ তা’আলা সেখানে তোমাদেরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। তিনি লক্ষ্য করতেছেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করো। তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সতর্ক থেকো। কেননা বনী ইসরাঈলদের মাঝে প্রথম ফিতনাহ নারীকেন্দ্রিক ছিল। ইবনু বাশশার (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে فَيَنْظُرُ এর স্থানে لِيَنْظُرَ কথাটি আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এক সময় তিন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হতে একটি পাথর খণ্ড খসে পড়ে তাদের গর্তে মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তে মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহুর্তে তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, নিজ নিজ সৎ আমলের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সম্ভষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎ কর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দু’আ করতে থাকো। এমন হতে পারে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের এ মহাবিপদ (পাথরটি সরিয়ে) হতে নিষ্কৃতি দিবেন। তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। (সন্ধ্যায়) ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোর দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। (ফিরে এসে) আমি তাদের (পিতা-মাতা) দু’জনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সস্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহূর্তে (আমার) সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দু’পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেল। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সম্ভষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাঁকা করে দাও, যদ্বারা আমরা আকাশ দেখতে পাই। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাতে একটু ফাঁকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখতে পেলেন। অপর জন বলল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল কোন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসার মতই তাকে আমি অত্যধিক ভালবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম (যৌন আবেদন করলাম)। সে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং (অবশেষে) একশ’ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যতীত সতিত্ব নষ্ট করো না। এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সম্ভষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁকা করে দিলেন। অন্য লোকটি বলল, হে আল্লাহ! আমি এক ফারাক (প্রায় সাত কিলোগ্রাম) শস্যের বিনিময়ে একজন মজদুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলল, আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি এক ফারাক (শস্য) তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলল, আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করতে আমার উপর অবিচার করো না। আমি বললাম, তুমি এ (সমস্ত) গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম, সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সম্ভষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাঁকা করে দাও। তখন আল্লাহ তা’আলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাঁকা করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর ও আবদ ইবনু হুমায়দ, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ, আবু কুরায়ব ও মুহাম্মদ ইবনু তারীফ আল বাজালী, যুহায়র ইবনু হারব, হাসান আল হুলওয়ানী, আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) এরা সকলেই ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, মূসা ইবনু উকবাহ্ (রহঃ) এর সানাদে আবূ যমাহ্ (রহঃ) এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারা তাদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, وَخَرَجُوا يَمْشُونَ "তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল"। সালিহ্ (রহঃ)-এর হাদীসে يَتَمَاشَوْنَ "তারা পায়ে হেঁটে চলছিল" বর্ণনা রয়েছে। উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে خَرَجُوا "তারা বের হলো" বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু সাহল আত তামীমী, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু বাহরাম ও আবু বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আগেকার উম্মাতের মাঝে তিনজন লোক কোন একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন... তারপর নাফি’ বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনু উমার বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল। আমি কক্ষনও তাদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যার খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি (ইবনু উমার) বলেন, (চাচাতো বোনটি) আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ’ বিশটি দিনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হতে বের হয়ে চলতে লাগল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, নেই, ইসলামিক সেন্টার)