ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি শিকারের উদ্দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেই এবং সেগুলো শিকার ধরে আমার জন্য রেখে দেয়, (নিজেরা খায় না) আমি কুকুরগুলোকে ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলে ছাড়ি। তিনি বললেনঃ যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে থাকো তাহলে তুমি তা খেতে পার। আমি বললাম, যদি এরা শিকারকে হত্যা করে? তিনি বললেনঃ যদিও হত্যা করে ফেলে তবে তার সাথে যদি অন্য কুকুর শারীক না হয়। আমি তাকে বললাম, আমি শিকারের উদ্দেশে মি'রায' (কাঠ বা তীক্ষ ছড়ি) নিক্ষেপ করে থাকি এবং শিকার পেয়েও থাকি? তিনি বললেনঃ তুমি মি'রায নিক্ষেপ করার পর তাতে শিকারের সম্মুখভাগ প্রবিষ্ট হয়ে শিকার মারা গেলে তবে তুমি তা খেতে পারো। আর যদি নিক্ষিপ্ত ফলকের চ্যাপ্টা (বিপরীত) দিকের আঘাতে শিকার মারা যায়, তবে তুমি তা খেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম খণ্ড-৪৮১৯, ইসলামিক সেন্টার ৬ষ্ঠ খণ্ড)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা এমন সম্প্রদায় যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করে থাকি। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছাড়লে তাদের শিকার করা পশু খেতে পারো, যদিও তারা তা মেরে ফেলে। তবে কুকুর তার কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তা খাবে না। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে হয়তো এ শিকার নিজের জন্যেই ধরেছে। আর যদি এ শিকারে অন্য কুকুর শারীক হয়ে থাকে তাহলে তুমি তা খাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২০, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আম্বারী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রায' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এর ধারালো অংশ দ্বারা শিকার মারা গেলে তুমি তা খেতে পারবে, আর যদি এর পাশের অংশের আঘাতে শিকার মারা যায় তবে তা (কুরআনে বর্ণিত) ওয়াকীয' বা পিটিয়ে নিহত করার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই তুমি তা খাবে না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কুকুর সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার কুকুর ছেড়ে থাকলে তুমি তা খেতে পারো। যদি কুকুর শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা সেটা সে তার নিজের জন্যেই ধরেছে। আমি বললাম, যদি আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখি এবং কে শিকার ধরেছে তা ঠিক করতে না পারি? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নিয়েছ, অন্যটির উপর নাওনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২১, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4975 — Sahih Muslim 34:4
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ وَأَخْبَرَنِي شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، أَبِي السَّفَرِ قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ، يَقُولُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمِعْرَاضِ . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ...... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রায’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রায’ দ্বারা শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তখন তিনি বললেনঃ ধারালো অংশ দ্বারা নিহত হলে খেতে পারো। আর যদি তীরের পার্শ্ব ভাগ লেগে নিহত হয় তাহলে সেটা ‘ওয়াকীয’ শ্ৰেণীভুক্ত। আমি তাকে কুকুরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ সে তোমার জন্য যে শিকার ধরে রাখবে এবং তা থেকে সে না খায়, তাহলে তুমি তা খেতে পার। কারণ তার শিকার করাই ছিল যাবাহ গণ্য হবে। তবে যদি তুমি তার পাশে অন্য কুকুর দেখ এবং তোমার আশঙ্কা হয় যে, শিকার ধরায় সেটাও শামিল ছিল এবং সে কুকুরই হয়তো শিকার হত্যা করেছে, তবে তুমি তা খেও না। কেননা তুমি তো শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লা-হ' বলেছ, অন্য কুকুরের উপর তা বলনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনু আবদুল হামিদ (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) ছিলেন আমাদের প্রতিবেশী, ব্যবসায়ের অংশীদার এবং নাহরাইন-এ আমাদের সহকর্মী। আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, আমি আমার কুকুরকে (শিকারের উদ্দেশে) ছেড়ে থাকি এবং পরে আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুরও দেখতে পাই, সেটির সাথে শিকারও দেখতে পাই। আমি অবহিত নই কোন কুকুরটি শিকার ধরেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি কেবল তোমার কুকুর ছাড়ার সময়ই আল্লাহর নাম নিয়েছ; অন্যটির উপরে আল্লাহর নাম নাওনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4980 — Sahih Muslim 34:9
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ .
ওয়ালীদ ইবনু শুজা আস-সাকূনী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ তুমি তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নেবে। তারপর যদি সে তোমার জন্য শিকার ধরে রাখে এবং তুমি তা জীবিত পাও, তবে তুমি তাকে যবহ করবে। আর যদি মৃত পাও অথচ সে এর কোন অংশ খায়নি, তাহলে তুমি তা খেতে পার। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখ আর শিকারও মৃত, তবে তা খাবে না। কেননা তুমি তো অবহিত নও, কোন্ কুকুরটি শিকার হত্যা করেছে। আর তুমি তীর ছোড়ার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই ছুড়বে। অতঃপর শিকার একদিন পর্যন্ত নিরুদ্দেশ থাকার পর তা পেলে, তাতে যদি তোমার তীরের ক্ষত আঘাত ব্যতীত অন্য চিহ্ন না দেখ, তবে ইচ্ছে হলে তা খেতে পারো। তবে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় পেলে তা খেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৮, ইসলামিক সেন্টার)