কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদুর রহমান ইবনু বাশ্র (রহঃ) সকলেই সালামাহ্ ইবনু কুহয়ল (রহঃ) হতে একই সূত্রে শুবাহ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত সকলের বর্ণিত হাদীসেই তিন বছর কথাটি উল্লেখ আছে। আর সুফইয়ান, যায়দ ইবনু আবূ উনাইসাহ ও হাম্মাদ ইনু সালামাহ্ (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে, "যদি কোন ব্যক্তি এরপর আসে এবং তার গণনা, থলে ও তার বন্ধনের বর্ণনা দিতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে।" আর সুফইয়ান (রহঃ) ..... ওয়াকী (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অন্যথায় তা তোমার মালের মতই। আর ইবনু নুমায়র (রহঃ) এর বর্ণনায় "অন্যথায় তুমি তা ব্যবহার করতে পারবে" বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু উসমান তাইমী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজীদের হারানো বস্তু তুলে নিতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হারানো বস্তু উঠিয়ে রাখল সে যদি তা প্রচার না করে তবে সে পথভ্রষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ...... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন কোন ব্যক্তির পশুর দুধ তার অনুমতি ব্যতীত দোহন না করে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার কুটিরে কিছু সঞ্চিত হোক, তারপর অন্য কেউ তার ভাণ্ডার ভেঙ্গে খাদ্য সামগ্ৰী বের করে নিয়ে যাক? এমনিভাবে পশুদের স্তন তাদের ধনাগার স্বরূপ, তাতে তারা তাদের খাদ্য সামগ্ৰী সঞ্চয় করে। অতঃপর কেউ যেন কারো পশুর দুগ্ধ মালিকের বিনানুমতিতে দোহন না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ...... আবূ শুরাইহ্ আদাবী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু’কান শুনেছে এবং দু'চক্ষু দেখেছে, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালভাবে নিজ মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ভালভাবে মানে কী? তখন তিনি বললেন, তাকে একদিন ও এক রাত্রি আপ্যায়ন করবে। আর (সাধারণভাবে) মেহমানদারীর সময়কাল তিন দিন। এর চাইতে বেশি দিন মেহমানদারী করা তার জন্য সদাকাহ্ স্বরূপ। তিনি আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে। [দ্রষ্টব্য হাদীস ১৭৬] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ...... আবূ শুরাইহ খুযাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মেহমানদারী তিন দিন এবং উত্তমরূপে মেহমানদারী একদিন ও একরাত্রি। কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে তার ভাই এর নিকট অবস্থান করে তাকে পাপে নিপতিত করবে। তখন সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে সে তাকে পাপে নিপতিত করবে? তিনি বললেন, সে (মেহমান) তার নিকট (এমন বেশী দিন) থাকবে, অথচ তার (মেযবানের) এমন সম্বল নেই যা দ্বারা সে তার মেহমানদারী করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) .... আবূ শুরায়হ খুযাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু’কান শুনেছে, আমার দুচক্ষু দেখেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন। তারপর তিনি লায়স এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, কারো জন্যে বৈধ নয় তার ভাই এর নিকট এত সময় অবস্থান করা, যাতে সে তাকে পাপে ফেলে দেয়। বাকী অংশ ওয়াকী' (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... উভয়ে উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের (বিভিন্ন স্থানে) পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ যদি তোমরা কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ কর, আর তারা তোমাদের জন্য এমন সব আসবাব পত্র প্রদান করার হুকুম করে যা মেহমানদারীর জন্য প্রয়োজন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে তবে তোমরা তাদের থেকে মেহমানদারীর হক আদায় করে নেবে, যা তাদের করণীয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি সওয়ারীতে আরোহণ করে তার কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার কাছে আরোহণের কোন অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার কোন বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই। তারপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভাবে বললেন। এমনকি আমাদের মনে হল যে, অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারো কোন অধিকার নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৮, ইসলামিক সেন্টার)