আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ...... ইবনু উমার (রযিঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আমর শুধু বর্ণনাই করেছেন। আর আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯২, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আসরের সালাত কাযা হলো তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তাদের কবর ও ঘর-বাড়ী যেন আগুন দিয়ে ভরে দেন। কারণ তারা আমাদেরকে যুদ্ধের কাজ-কর্মে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসত্বা (আসরের সালাত), থেকে বিরত রেখেছে এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকর আল মুক্বদ্দামী, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদের (যুদ্ধ তৎপরতায়) ব্যস্ত রাখার কারণে আমরা আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা যেন তাদের কবর, বাড়ী-ঘর ও পেটসমূহ আগুন দ্বারা ভর্তি করে দেন। বর্ণনাকারী শু'বাহ ঘর-বাড়ী ও পেটসমূহ কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে বুয়ুতাহুম ও কুবুরাহুম তাদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহারর ইবনু হারব, উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন খন্দকের একটি খাঁজ বা সংকীর্ণ পথের উপর বসে বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে “সালাতুল উসতা" (মধ্যবর্তী সময়ের সালাত বা আসরের সালাত) আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এমনকি এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ওদের কবর ও বাড়ি-ঘর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কবরসমূহ অথবা পেট আগুন দ্বারা যেন ভর্তি করে দেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কাফিররা আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, অর্থাৎ- আসরের সালাত) থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তা'আলা ওদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। অতঃপর তিনি এ সালাত মাগরিব এবং ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করলেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1426 — Sahih Muslim 5:260
وَحَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ الْكُوفِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ الْيَامِيُّ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَبَسَ الْمُشْرِكُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى احْمَرَّتِ الشَّمْسُ أَوِ اصْفَرَّتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شَغَلُونَا عَنِ الصَّلاَةِ الْوُسْطَى صَلاَةِ الْعَصْرِ مَلأَ اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " . أَوْ قَالَ " حَشَا اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " .
আওন ইবনু সাল্লাম আল কুফী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন মুশরিকগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাত থেকে বিরত রাখল। এমনকি সূর্য লাল অথবা (বলেছেন) তাম্রবর্ণ ধারণ করল। এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা (মুশরিকরা) আমাকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, অর্থাৎ- আসরের সালাত) থেকে বিরত রাখল। আল্লাহ যেন তাদের পেট ও কবরকে আগুন দিয়ে ভরে দেন অথবা তিনি বললেনঃ حَشَا اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا (এখানে শুধু শাব্দিক তারতম্য দেখানো হয়েছে। অর্থের কোন পার্থক্য নেই)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০০, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি এভাবে অবতীর্ণ হয়েছিলحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ততদিন এভাবেই আমরা আয়াতটি তিলাওয়াত করতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আয়াতটি 'মানসুখ' বা বাতিল ঘোষণা করে এভাবে অবতীর্ণ করলেনحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى (পূর্বোক্ত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহ ও আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। পরবর্তীকালে নাযিলকৃত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং صلاَةِ الْوُسْطَى বা মধ্যবর্তীকালীন সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। বর্ণনাকারী শ্বাকীক ইবনু উকবাহ এর কাছে জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। এ কথা শুনে তিনি বারা ইবনু আযিবকে লক্ষ্য করে বললঃ তাহলে তো এ কথা দ্বারা আসরের সালাতই বুঝায়। বারা ইবনু আযিব তাকে বললেনঃ কী পরিস্থিতিতে কেমন করে পূর্বোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে কেমন করে তা মানসূখ বা বাতিল হয়েছিল, তা আমি তোমাকে বলে দিয়েছি। আর আল্লাহ তা'আলাই এ সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত। [ইসলামীক সেন্টার ১৩১৪] ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আশজাঈ (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ আমরা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি (পূর্বোক্তরূপে) পড়তাম। ফুযায়ল ইবনু মারযুক্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০২, ইসলামীক সেন্টার)