হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ী মসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। আমরা মসজিদের আশে-পাশে বাড়ী নির্মাণের জন্য ঐ ঘর-বাড়ী বেঁচে ফেলতে মনস্থ করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করেন। তিনি (আমাদের সম্বোধন করে) বললেনঃ (সালাতের জন্য মসজিদে আসার) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তোমাদের মর্যাদা ও সাওয়াব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে বানু সালামাহ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি তাদের (বানু সালিমাহ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশে বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাই মনস্থ করেছি। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়ীতেই থাকো। কারণ তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯১, ইসলামীক সেন্টার)
আসিম ইবনুন নায্র আত তায়মী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু সালিমাহ গোত্রের লোকজন মসজিদে নববীর কাছে এসে উক্ত খালি স্থানে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। মসজিদে নবাবীর পাশে কিছু খালি জায়গা ছিল। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবগত হলে তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকজন! তোমরা তোমাদের বর্তমান ঘর-বাড়ীতেই থাকো। সালাতের জন্য মসজিদে আসতে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ (পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব) লিখিত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা শুনে তারা বললঃ আমরা এতে (এ কথায় এতো খুশী হলাম যে) আমাদের বাড়ী-ঘর স্থানান্তরিত করে মসজিদের কাছে আসলেও তত খুশী হতাম না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯২, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাড়ী থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযু করে) তারপর কোন ফারয (ফরয) সালাত আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে (মসজিদে) যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপের একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে লায়স (রহঃ) কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ হতে ইবনু মুযার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তবে বাকরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কারো বাড়ীর দরজার সামনেই যদি একটি নদী থাকে আর সে ঐ নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? এ ব্যাপারে তোমরা কী বলো? সবাই বললঃ না, তার শরীরে কোন প্রকার ময়লা থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটিই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দৃষ্টান্ত। এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলা সকল পাপ মুছে নিঃশেষ করে দেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি আবদুল্লাহর পুত্র। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে তোমাদের কারোর বাড়ীর দরজার পাশ দিয়ে দু'কুল ছাপিয়ে উঠা প্রবহমান নদীর সাথে উপমা দেয়া যেতে পারে। আর ঐ নদীতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান বলেছেনঃ এভাবে (গোসল করলে) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সালাত আদায় করতে মসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তা'আলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তুত করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ...... সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি (ফজরের সালাতের পর) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বসতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, অনেক দিন বসেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের যে জায়গায় ফজরের সালাত (অথবা বলেছেন ভোরের সালাত) আদায় করতেন সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থেকে উঠতেন না। সূর্য উদিত হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে উঠতেন। লোকজন তখন জাহিলী যুগের ঘটনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করত। এসব ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে লোকজন হাসত আর তা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সিমাক (রহঃ) থেকে এ সানাদে বর্ণিত। কিন্তু তাতে 'ভালভাবে' শব্দটির উল্লেখ নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৯, ইসলামীক সেন্টার)