ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আন হানযালী (রহঃ) ..... মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক বন্ধু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তার নিকট থেকে ফিরতে চাইলাম তখন তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ সালাতের সময় হলে আযান দিবে এবং তারপর ইকামাত দিবে (অর্থাৎ- সালাত আদায় করবে)। তবে তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় হবে সেই যেন ইমামাত করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ সাঈদ ইবনু আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... খালিদ আল হাযযা (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাফস ইবনু গিয়াস এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, হাযযা (রহঃ) বলেছেন, তারা উভয়ে (মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস এবং তার বন্ধু) কিরআতের ব্যাপারে সমকক্ষ ছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূত তহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে কিরআত শেষ তাকবীর দিয়ে রুকূ’তে গিয়ে রুকূ’ থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বনা- ওয়ালাকাল হামদ” – (অর্থাৎ- যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন। হে আমাদের প্রভু! সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট)। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম ও আইয়্যাশ ইবনু রবী’আহ এবং দুর্বল ও নিপীড়িত মু'মিনদের নাযাত দান করো। হে আল্লাহ! তুমি মুযার গোত্রকে কঠোর হস্তে পাকড়াও করো। আর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দিয়ে তাদের শায়েস্তা করো। হে আল্লাহ! তুমি লিহইয়ান, রি'লান, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করো। কেননা তারা আল্লাহ এবং তার রসূলের অবাধ্য হয়েছে। অতঃপর আমরা জানতে পারলাম যে, আয়াত- "হে নবী! এর ব্যাপারে তোমার কোন করণীয় নেই। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করুন আর তাদেরকে শাস্তি দান করুন এ ব্যাপারে তিনি পূর্ণ ইখতিয়ারের অধিকারী। কেননা তারা তো যালিম" (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১২৮)। অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে কুনুত পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে ইউসুফের সময়ে দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখী করা পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1542 — Sahih Muslim 5:375
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ بَعْدَ الرَّكْعَةِ فِي صَلاَةٍ شَهْرًا إِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ " اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ اللَّهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اللَّهُمَّ نَجِّ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ اللَّهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ثُمَّ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ الدُّعَاءَ بَعْدُ فَقُلْتُ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ تَرَكَ الدُّعَاءَ لَهُمْ - قَالَ - فَقِيلَ وَمَا تَرَاهُمْ قَدْ قَدِمُوا
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় একমাস যাবৎ ফজরের সালাতে দ্বিতীয় রাকাআতে রুকূ’ থেকে ওঠার পরে কুনুত পড়েছেন। এতে তিনি যখন রুকূ’ থেকে উঠে "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলতেন তখন কুনত পড়তে গিয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ, ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্ত করে দাও। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! আয়িশাহ ইবনু আবূ রাবী'আহকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! দুর্বল অসহায় মুমিনদেরকেও মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! তুমি মুবার গোত্রকে তোমার কঠোরতা দ্বারা পিষে মারো। হে আল্লাহ! তুমি তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দান করো। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেছেন, পরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু'আ পরিত্যাগ করতে দেখেছি। এতে আমি বিস্মিত হয়ে বললামঃ আমি দেখছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখন তাদের জন্য দু'আ করা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ আমাকে তখন বলা হলো তুমি কি দেখছ না যে, তারা সবাই মুক্ত হয়ে চলে এসেছেন? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৩, ইসলামীক সেন্টার)
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করেছিলেন। সিজদা করার পূর্বে রুকূ’ থেকে উঠে যখন তিনি "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বললেন তখন এ বলে দুআ করলেনঃ “হে আল্লাহ আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী'আকে মুক্তিদান করো" এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ হুরায়রাহ্ আওযাঈ বর্ণিত হাদীসের বা সিনী ইউসুফ [অর্থাৎ- ইউসুফ (আঃ)-এর] যুগের দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ দিয়ে শাস্তি দান করো পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। এতে তিনি আওযাঈ বর্ণিত হাদীসের পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতো করে (প্রায় অনুরূপ) সালাত আদায় করে দেখাব। এরপর আবূ হুরায়রাহ যুহর, ইশা ও ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন। এতে তিনি মু'মিনদের জন্য দু'আ করতেন এবং কাফিরদেরকে অভিসম্পাত করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বি'রি মাউনাহ" নামক স্থানে যে মু’মিনদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হত্যাকারীদের জন্য ত্রিশদিন পর্যন্ত ফজরের সালাতে বদদুআ করেছিলেন। আনাস বর্ণনা করেছেন, "বি'রি মাউনাহ" নামক স্থানে নিহতদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেছিলেন যা আমরা পাঠ করতাম। অবশেষে তা মানসুখ বা রহিত করে দেয়া হয়েছিল। আয়াতটি ছিল أَنْ بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ অর্থাৎ- "আমাদের কওমকে এ সংবাদ পৌছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর আমরাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1546 — Sahih Muslim 5:379
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ هَلْ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ قَالَ نَعَمْ بَعْدَ الرُّكُوعِ يَسِيرًا .
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রুকূর পরে সংক্ষিপ্তভাবে পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৭, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল আ'লা (রহঃ) [শব্দাবলী ইবনু মু'আয-এর] ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস যাবৎ ফজরের সালাতে রুকূ করার পর কুনুত পড়েছেন। এতে তিনি রি'ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের জন্য বদ-দু'আ করতেন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র সম্পর্কে বলতেন যে, উসাইয়্যাহ আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৮, ইসলামীক সেন্টার)