আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বপ্নে আমার সামনে সকল উম্মতকে পেশ করা হয় ..... এভাবে বর্ণনাকারী হুসায়ন বর্ণিত হাদীসের অনুরূপই বর্ণনা করেন। কিন্তু হাদীসটির প্রথমাংশ উল্লেখ করেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (আবদুল্লাহ বলেন) এ শুনে আমরা (খুশিতে) আল্লা-হু আকবার ধ্বনি দিলাম। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? সাহাবা বলেন, আমরা আবার আল্লা-হু আকবর’ ধ্বনি দিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে আমি আশা করি তোমরাই জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। আর এ সম্পর্কে তোমাদের অচিরেই বলছিঃ কাফিরদের ভীড়ে তোমাদের অবস্থান এমনই স্পষ্ট হবে, যেমন কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা একটি শ্বেত ষাঁড়ের গায়ে কালো পশম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রায় চল্লিশজনের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি তাবুতে অবস্থান করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, কসম তার যার হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা করি যে, অবশ্যই তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। কেননা, কেবল মুসলিমই সেখানে প্রবেশের অনুমতি লাভ করবে। আর মুশরিকদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হবে, যেমন কাল ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা লাল ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশমের মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি তার পৃষ্ঠদেশের সাহায্যে চামড়ার তাবুর সাথে হেলান দেয়া ছিলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান, মুসলিম ব্যতীত কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি (অর্পিত দায়িত্ব) পৌছিয়েছি? হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো, তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? তারা বললো, হ্যাঁ; হে আল্লাহর রাসূল! তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমি আশা রাখি যে, তোমরা হবে জান্নাতীদের অর্ধেক। বস্তুতঃ অন্যান্য উম্মতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যা হবে সাদা বলদের মধ্যে একটি কালো পশমের মতো অথবা তিনি বলেছেনঃ কালে বলদের মধ্যে একটি সাদা পশমের মতো (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ আবাসী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ (কিয়ামত দিবসে) আহবান করবে, হে আদম! তিনি উত্তরে বলবেন, আমি আপনার সামনে উপস্থিত, আপনার কাছে শুভ কামনা করি এবং সকল কল্যাণ আপনারই হাতে। মহান আল্লাহ বলবেনঃ জাহান্নামী দলকে বের কর। আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করবেনঃ জাহান্নামী দল কতজনে? মহান আল্লাহ বলবেনঃ প্রতি হাজার থেকে নয়শ' নিরানব্বই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এটা সে মুহুর্ত যখন বালক হয়ে যাবে বৃদ্ধ, সকল গর্ভবতী তাদের গর্ভপাত করে ফেলবে আর মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়, বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন। রাবী বলেন, কথাগুলো সাহাবাগণের কঠিন মনে হলো। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে কে সে ব্যক্তি? তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ আনন্দিত হও। ইয়া'জু্য ও মাজুযেরন সংখ্যা এক হাজার হলে তোমাদের সংখ্যা হবে একজন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ কসম সে সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (সাহাবা বলেন,) আমরা আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং 'আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলাম। তারপর আবার তিনি বললেন, শপথ সে সত্তার, যার হাতে আমার জীবন! অবশ্যই আমি আশা রাখি, জান্নাতীদের মধ্যে তোমরা তাদের এক তৃতীয়াংশ হবে। সাহাবা বলেন, আমরা বললাম "আলহামদুলিল্লাহ' এবং 'আল্লা-হু আকবার ধ্বনি দিলাম। তারপর আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম সে সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে এবং তোমরা অন্যান্য উম্মতের মধ্যে কারো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশমের ন্যায় অথবা গাধার পায়ের চিহ্নের সদৃশ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বর্ণনা করেন, "তোমরা সকল মানুষের মধ্যে কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশমের মতো হবে অথবা সাদা ষাড়ের গায়ে কালো পশমের মতো হবে।" তারা “গাধার পায়ের চিহ্নের মতো" এ কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ মালিক আল আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। আলহামদু লিল্লা-হ' মিযানের পরিমাপকে পরিপূর্ণ করে দিবে এবং "সুবহানাল্লা-হ ওয়াল হামদুলিল্লা-হ" আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দিবে। সালাত’ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। সদাকাহ হচ্ছে দলীল। ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর "আল কুরআন' হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময়ে বিক্রি করে। তার আমল দ্বারা সে নিজেকে (আল্লাহর আযাব থেকে) মুক্ত করে অথবা সে তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২য় খণ্ড, ৪২৫; ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) অসুস্থ ইবনু আমিরকে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন ইবনু আমির তাকে বললেন, হে ইবনু উমার! আপনি কি আমার জন্যে আল্লাহর কাছে দু’আ করেন না? ইবনু উমার বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তাহারাত ব্যতিরেকে সালাত কবুল হয় না। খিয়ানাতের সম্পদ থেকে সদাকাহও কবুল হয় না। আর তুমি তো ছিলে বাসরার শাসনকর্তা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবন বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ্ (রহঃ) থেকে অন্য সূত্রে আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ... ইসমাঈল (রহঃ) থেকে, সকলে সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 537 — Sahih Muslim 2:4
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَخِي وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُقْبَلُ صَلاَةُ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কতগুলো হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্য থেকে একটি হাদীস তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হলে পুনরায় ওযু না করা পর্যন্ত তার সালাত কবুল হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)