আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ-দারিমী ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আমির ইবনু ওয়াসিলাহ আল লায়সী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাফি ইবনু আবদুল হারিস আল খুযাঈ (রাযিঃ) উসফান নামক স্থানে উমার ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন ..... এভাবে তিনি যুহরী থেকে ইবরাহীম ইবনু সা'দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1899 — Sahih Muslim 6:327
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ، حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَنِيهَا فَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَمْهَلْتُهُ حَتَّى انْصَرَفَ ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَجِئْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْسِلْهُ اقْرَأْ " . فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ لِيَ " اقْرَأْ " . فَقَرَأْتُ فَقَالَ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি যেভাবে সূরাহ আল ফুরকান তিলাওয়াত করি হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ)-কে অন্যভাবে তিলাওয়াত করতে শুনলাম অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরাটি আমাকে এভাবে পড়িয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ আমি তাকে বাঁধা দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তাকে পড়ে শেষ করার অবকাশ দিলাম। তারপর তাকে গলায় চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে গিয়ে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে যেভাবে সূরাহ আল ফুরকান পড়তে শিখিয়েছিলেন এ লোকটিকে তার থেকে ভিন্ন রকম করে সূরাটি পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। তারপর তাকে লক্ষ্য করে বললেন- তুমি পড়। তখন সে আবার সেভাবে পড়ল যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। তারপর পড়ার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি পড়। সুতরাং আমি পড়লেও তিনি বললেনঃ এভাবেই এটি অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে যতটুকু যেভাবে তোমাদের কাছে সহজ সেভাবেই পড়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনু হাকীম (ইবনু হিযাম) কে সূরাহ আল ফুরকান পড়তে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পরের অংশটুকু পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আমি তাকে সালাতের মধ্যেই বাঁধা দিতে যাচ্ছিলাম। অবশেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭০, ইসলামীক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমাকে একটি রীতিতে কুরআন মাজীদ পড়ালে আমি তা পড়ে নিলাম। আমি তার কাছে অতিরিক্ত চাইলে তিনি অতিরিক্ত বা অন্য রীতিতে পড়ে শুনতাম। এভাবে তিনি সাত সাতটি রীতি বা আঞ্চলিক নিয়মে আমাকে কুরআন মাজীদ পড়ে শুনিয়েছেন। ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমি এ মর্মে অবহিত হয়েছি যে, এ সাতটি পদ্ধতি, রীতি বা নিয়মে কুরআন মাজীদ পড়ার কারণে হালাল হারামের ব্যাপারে কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয় না বরং তা একই থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭২, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1904 — Sahih Muslim 6:332
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَدَخَلَ رَجُلٌ يُصَلِّي فَقَرَأَ قِرَاءَةً أَنْكَرْتُهَا عَلَيْهِ ثُمَّ دَخَلَ آخَرُ فَقَرَأَ قِرَاءَةً سِوَى قِرَاءَةِ صَاحِبِهِ فَلَمَّا قَضَيْنَا الصَّلاَةَ دَخَلْنَا جَمِيعًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنَّ هَذَا قَرَأَ قِرَاءَةً أَنْكَرْتُهَا عَلَيْهِ وَدَخَلَ آخَرُ فَقَرَأَ سِوَى قِرَاءَةِ صَاحِبِهِ فَأَمَرَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَءَا فَحَسَّنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَأْنَهُمَا فَسُقِطَ فِي نَفْسِي مِنَ التَّكْذِيبِ وَلاَ إِذْ كُنْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَدْ غَشِيَنِي ضَرَبَ فِي صَدْرِي فَفِضْتُ عَرَقًا وَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَرَقًا فَقَالَ لِي " يَا أُبَىُّ أُرْسِلَ إِلَىَّ أَنِ اقْرَإِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ فَرَدَدْتُ إِلَيْهِ أَنْ هَوِّنْ عَلَى أُمَّتِي .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) .... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করে সালাত শুরু করল। সে এমন পদ্ধতিতে কিরআত পড়ল যা আমার নিকট অভিনব মনে হ'ল। অতঃপর আরেক ব্যক্তি প্রবেশ করে আগের ব্যক্তি থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়ল। আমরা সালাত শেষ করে সকলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়েছে যে, আমার নিকট অভিনব মনে হয়েছে অতঃপর আরেকজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জনের থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের কিরাআত সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করলেন। এতে আমার মনে মিথ্যা অবিশ্বাসের উদ্ৰেক হ’ল, এমনকি জাহিলী যুগেও এমন তীব্র অবিশ্বাসের উদ্রেক হয়নি। আমাকে যে চিন্তা আচ্ছন্ন করেছিল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে আমার বক্ষস্থলে আঘাত করলেন। এতে আমি ঘৰ্মাক্ত হয়ে পড়লাম। যেন আমি ভীতবিহবল হয়ে মহামহিম আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে উবাই! আমার নিকট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, আমি যেন এক হরফে (উচ্চারণ পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ি। আমি অনুরোধ করে বললাম, আমার উম্মাতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। আমাকে প্রত্যুত্তরে বলা হ’ল, তা দু' হরফে (পদ্ধতিতে) পড়ুন। আমি তাকে পুনরায় অনুরোধ করলাম যে, আমার উম্মাতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। তৃতীয়বারে আমাকে বলা হ’ল, তা সাত হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করুন এবং আমার এ সাতবারের প্রতিবার প্রত্যুত্তরের পরিবর্তে আপনার জন্য একটি করে কিছু আমার নিকট প্রার্থনা করতে পারেন (যা আমি কবুল করব)। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি আমি সেদিনের জন্য স্থগিত করে রেখেছি, যেদিন সমগ্র সৃষ্টি, এমনকি ইবরাহীম (আঃ) পর্যন্ত আমার প্রতি আগ্রহান্বিত হবেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শয়বাহ (রহঃ) ...... আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি মসজিদে উপবিষ্ট থাকাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। তিনি এমন এক পদ্ধতিতে কিরআত পড়লেন ... বর্ণনাকারী সংক্ষেপে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিফার গোত্রের জলাশয়ের (কুপের) নিকট ছিলেন। তখন জিবরীল (আঃ) তার নিকট এসে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে এক হারফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর নিকট তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই আমার উম্মত এতে সমর্থ হবে না। জিবরীল (আঃ) তৃতীয়বার এসে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আমার উন্মাতকে তিন হরফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই আমার উম্মাত এতে সমর্থ হবে না। আমি আল্লাহর নিকট তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। জিবরীল (আঃ) চতুর্থবার তার নিকট এসে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে সাত হারফে (পদ্ধতিতে) কুরআন শিক্ষা দেন। তারা এর যে কোন পদ্ধতিতে পাঠ করলে তা যথার্থ হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৬, ইসলামীক সেন্টার)