ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যিমাদ মাক্কায় আগমন করেন। তিনি আযদ শানুয়াহ গোত্রের সদস্য। তিনি বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করতেন। তিনি মাক্কার কতক নির্বোধকে বলতে শুনলেন, মুহাম্মাদ নিশ্চয়ই উম্মাদ। যিমাদ বলেন, আমি যদি লোকটিকে দেখতাম তাহলে আল্লাহ হয়ত আমার হাতে তাকে আরোগ্য দান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার সাথে সাক্ষাত করে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি এসব বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করি। আল্লাহ যাকে চান তাকে আমার হাতে আরোগ্য দান করেন। আপনি কি ঝাড়ফুক করাতে চান? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তার প্রশংসা করি, তার সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, কেউ তাকে বিপথগামী করতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন, কেউ তাকে হিদায়াত দান করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শারীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রসূল। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বললেন, আপনি এ কথাগুলো আমাকে পুনরায় শুনান। অতএব, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাগুলো তাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করে শুনান। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলল, আমি অনেক গণক, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার এ কথাগুলোর অনুরূপ কথা আমি শুনিনি। এ কথাগুলো সমুদ্রের গভীরে পৌছে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলেন, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে বায়’আত করালেন (ইসলাম গ্রহণ করালেন)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও কি (বায়’আত প্রযোজ্য)? যিমাদ বলেন, আমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র সামরিক বাহিনী (সারিয়্যা) প্রেরণ করলে তারা তার সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করে। তখন বাহিনী প্রধান সৈন্যবাহিনীকে বলেন, তোমরা কি এদের থেকে কিছু গ্রহণ করেছ? দলের একজন বলল, আমি তাদের থেকে একটি পানি পাত্র নিয়েছি। সেনা নায়ক বলেন, তোমরা সেটি ফেরত দাও। কারণ তারা যিমাদ-এর সম্প্রদায় (তাদের কিছুই গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কেননা যিমাদ নিজে এবং নিজের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বায়’আত গ্রহণ করেছেন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্মার (রাযিঃ) আমাদের উদ্দেশে সংক্ষেপে একটি সারগর্ভ ভাষণ দিলেন। তিনি মিম্বার থেকে নামলে আমরা বললাম, হে আবূল ইয়াকযান। আপনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভাষণ দিয়েছেন, তবে যদি তা কিছুটা দীর্ঘ করতেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তির দীর্ঘ সালাত ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব, তোমরা সালাতকে দীর্ঘ এবং ভাষণকে সংক্ষিপ্ত কর। অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদুকরি প্রভাব থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2010 — Sahih Muslim 7:60
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، أَنَّ رَجُلاً، خَطَبَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشِدَ وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَقَدْ غَوَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بِئْسَ الْخَطِيبُ أَنْتَ . قُلْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " . قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فَقَدْ غَوِيَ .
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ভাষণ দিল। সে বলল, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ পেল। আর যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্যচরণ করল, সে পথভ্রষ্ট হ'ল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা, তুমি এভাবে বল, "যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করল ও রসূলের অবাধ্যতা করল।" ইবনু নুমায়র বলেন, "পথভ্রষ্ট হ'ল"। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান (রাযিঃ) থেকে তার এক বোনের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুমুআর দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে শুনে সূরাহ কাফ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমুআর দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে এ সূরাহ পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮২, ইসলামীক সেন্টার)
আবুত তহির (রহঃ) ..... 'আমরাহ (রাযিঃ) তার এক বোনের সূত্রে বর্ণিত। যিনি তার বয়োজ্যেষ্ঠা ছিলেন। ..... সুলায়মান ইবনু বিলালের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2014 — Sahih Muslim 7:64
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْنٍ عَنْ بِنْتٍ لِحَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، قَالَتْ مَا حَفِظْتُ { ق} إِلاَّ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ بِهَا كُلَّ جُمُعَةٍ . قَالَتْ وَكَانَ تَنُّورُنَا وَتَنُّورُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحِدًا .
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... হারিস ইবনু নুমান (রাযিঃ) এর এক কন্যার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে শুনেই সূরাহ কাফ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমুআর খুতবায় এ সূরাহ পড়তেন। বর্ণনাকার আরো বলেন, আমাদের ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই রন্ধনশালা ছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮৪, ইসলামীক সেন্টার ১৮৯২-ক)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... উম্মু হিশাম বিনতু হারিসাহ ইবনু নু'মান (রাযিঃ) এর জনৈকা কন্যার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, দেড়-দুই বছর যাবৎ আমাদের ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই রান্না ঘর ছিল। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে শুনেইق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ সূরাটি মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমুআর দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে প্রদত্ত খুতবায় এ সূরাটি পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উমারাহ ইবনু রুয়াইবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বিশর ইবনু মারওয়ানকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে তার উভয় হাত উত্তোলন করতে দেখে বলেন, আল্লাহ এ হাত দুটিকে ধ্বংস করুন। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা ব্যতীত আর কিছু দেখিনি। বর্ণনাকারী তার তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... হুসায়ন ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুমুআর দিন বিশর ইবনু মারওয়ানকে তার দু' হাত উপরে তুলতে দেখলাম। উমারাহ ইবনু রুয়াইবাহ বলেন ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮৮৭, ইসলামীক সেন্টার)