মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন-আযান ইকামাত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং “আল্লাহ ভীতি" অর্জন করার আদেশ করলেন ও তার আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তিনি সমবেত জনতাকে উপদেশ দিলেন। তারপর বললেন, তোমরা সদাকাহ কর। কেননা তোমাদের বেশীর ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্যে থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একটি মেয়েলোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেননা তোমরা বেশী অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলাগণ তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের ঝুমকা, রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়) ঈদুর ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন (ঈদের জন্য) আযান দেয়া হ’ত না। ইবনু জুরায়জ বলেন, কিছু সময় পর আমি আতাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বলেন, আমাকে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযানও নেই ইকামাতও নেই। কোন ডাক বা কোন প্রকার ধ্বনিও নেই। ঐ দিন ঈদের জন্য কোন আযান ও ইকামাতের নিয়ম নেই। ইমাম (সালাতের উদ্দেশে) বের হওয়ার সময় এবং বের হওয়ার পরেও আযানের কোন প্রয়োজন নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনু যুবায়র-এর নিকট প্রথমে লোকেরা যখন বাইয়্যাত নিচ্ছিল- ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার কাছে এ সংবাদ পাঠালেন যে, ঈদুল ফিত্বরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযান দেয়া হতো না। অতএব তুমি ঈদের সালাতের জন্য আযানের প্রচলন করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) তার সময় আযানের প্রচলন করেননি। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এ কথাটুকু ইবনুয যুবায়র-এর নিকট বলে পাঠান যে, খুতবাহ সালাতের পরে হবে, আর এ নিয়ম পালিত হয়ে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত সমাপন করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২০, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং প্রথমে সালাত আদায় করতেন। যখন সালাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরাতেন, লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন। তারা নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাকত। তারপর যদি কোথাও সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে তা লোকদের নিকট ব্যক্ত করতেন। অথবা যদি অন্য কোন প্রয়োজন হতো তবে সে সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা সদাকাহ কর, সদাকাহ কর। দানের সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল মহিলাগণ। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরতেন। পরবর্তীকালে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল, তখন একবার আমি তার হাত ধরে চলতে চলতে ঈদগাহে এসে উপনীত হলাম। এসে দেখি কাসীর ইবনু সালত শক্ত মাটি ও ইট দিয়ে একটা মিম্বার তৈরি করে রেখেছে। মারওয়ান আমার থেকে এমনভাবে হাত টেনে ছুটাচ্ছিল যেন আমাকে মিম্বারের দিকে টানা হেঁচড়া করছে আর আমি তাকে সালাতের দিকে টানা হেঁচড়া করছি। যখন আমি তার এ মনোভাব দেখলাম আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রথমে সালাত আদায়ের নিয়ম কি হল? মারওয়ান বলল, না হে আবূ সাঈদ! তুমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত তা রহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না! সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত এর চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি চলে আসলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2054 — Sahih Muslim 8:10
حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - أَنْ نُخْرِجَ فِي الْعِيدَيْنِ الْعَوَاتِقَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ وَأَمَرَ الْحُيَّضَ أَنْ يَعْتَزِلْنَ مُصَلَّى الْمُسْلِمِينَ .
আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা মেয়েদেরকে ও পর্দানশীন মেয়ে লোকদেরকে ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য বলি এবং তিনি ঋতুবতী নারীদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন মুসলিমদের সালাতের স্থান থেকে কিছুটা পৃথক থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মু 'আতিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়) ঈদের মাঠে বের হওয়ার আদেশ করা হত এমনকি গৃহবাসিনী পর্দানশীন মহিলা ও প্রাপ্তবয়স্কা কুমারীকেও অনুমতি দেয়া হতো। উম্মু আতিয়াহ বলেন, ঋতুবতী মহিলারাও বের হয়ে আসত এবং সব লোকের সাথে তাকবীর পাঠ করত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৫, ইসলামীক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে বের করে দেই- পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনী সবাইকে। তবে ঋতুবতী মহিলারা সালাত থেকে বিরত থাকবে। বাকী পুণ্যের কাজে ও মুসলিমদের দু'আয় শারীক হবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো কারো চাদর ওড়না নেই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য বোন তাকে নিজ চাদর বা ওড়না পরিয়ে দিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৬, ইসলামীক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ, আবূ বাকর ইবনু নাফি ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... তারা শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৮, ইসলামীক সেন্টার)