আমর আন নাকিদ (রহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) যখন আহত হলেন, হাফসাহ (রাযিঃ) সশব্দে কাঁদতে লাগলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, ওগো হাফসাহু তুমি কি শোননি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার জন্য উচ্চস্বরে ক্ৰন্দন করা হয় তাকে শাস্তি দেয়া হবে? তার প্রতি সুহায়ব (রাযিঃ)-ও কাঁদতে থাকলে উমর (রাযিঃ) তাকেও বললেন, হে সুহায়ব! তুমি কি জান না যার জন্য চিৎকার করে বান্নাকাটি করা হয় তাকে আযাব দেয়া হবে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৬, ইসলামীক সেন্টার)
অতঃপর আমি উঠে গিয়ে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম এবং তাকে ইবনু উমার (রাযিঃ) এর উক্তি সম্পর্কে জানালে তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এরূপ বলেননি যে, মৃত ব্যক্তিকে কারো কান্নার দরুন আযাব দেয়া হবে বরং তিনি বলেছেন, কাফির ব্যক্তির আযাব আল্লাহ তা'আলা তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আরও বাড়িয়ে দেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহই হাসান এবং কাঁদান। "আর কোন বহনকারীই অন্যের বোঝা বহন করবে না"- (সূরাহ আল ইসরা/ ইসরাঈল ১৭ঃ ১৫)। আইয়ূব (রহঃ) বলেন, ইবনু আবূ মুলায়কাহ বলেছেন, আমাকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট যখন উমর (রাযিঃ) ও ইবনু উমার-এ বক্তব্য পৌছল তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে এমন দু' ব্যক্তির কথা শুনাচ্ছ, যারা মিথ্যাবাদী নন আর তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা যায় না। তবে কখনও শুনতে ভুল হয়ে যেতে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৭. ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, উমর (রাযিঃ) ইনতিকাল করলে আমি অত্র হাদীসটি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, উমর (রাযিঃ) কে আল্লাহ রহমত করুন। কখনও না আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এমন হাদীস ব্যক্ত করেননি যে, ঈমানদার ব্যক্তিকে কারো কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হবে। বরং তিনি বলেছেনঃ কাফির ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আল্লাহ তা'আলা তার আযাবকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এছাড়া আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর কুরআনই যথেষ্ট। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, “কোন ব্যক্তিই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।" বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, "এবং আল্লাহই হাসান, আল্লাহই কাঁদান।” ইবনু আবূ মুলায়কাহ বলেন, আল্লাহর কুসম! ইবনু উমর (রাযিঃ) এর ওপর আর কোন কথাই বলেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) ..... ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা উম্মু আবান বিনতু উসমান (রাযিঃ) এর যামানায় উপস্থিত হলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ তবে তিনি এ হাদীস ইবনু উমার-এর সূত্রে সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইয়ুব ও ইবনু জুরায়জ এটাকে মারফু' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের বর্ণনা আমর-এর বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2152 — Sahih Muslim 11:30
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَّحَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَىِّ " .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২০, ইসলামীক সেন্টার)
খালাফ ইবনু হিশাম ও আবুর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে ইবনু উমারের বক্তব্য "মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়" উল্লেখ করা হ'ল। তিনি বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানের (ইবনু উমর) প্রতি রহমত করুন। তিনি একটা কথা শুনেছেন, তবে স্মরণ রাখতে পারেননি। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে এক ইয়াহুদীর জানাযাহ যাচ্ছিল। তখন তার আত্মীয় স্বজনরা কাঁদছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাঁদছ? অথচ তাকে এজন্য আযাব দেয়া হচ্ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম তার পিতা [উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর নিকট উল্লেখ করা হ'ল, ইবনু উমর (রাযিঃ) সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, "মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।" তিনি বললেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) ভুলে গেছেন। আসলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কথা বলেছেন তা হচ্ছে এইঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পাপের দরুন কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আর তার পরিবার-পরিজনেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর এটা হচ্ছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বদরের একটা কুপের পাশে দাঁড়িয়ে যাতে বদরের দিন নিহত কাফিরদের লাশ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল- তাদেরকে সম্বোধন করে যেরূপ বলেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা অবশ্যই আমি যা কিছু বলছি তা শুনতে পাচ্ছে অথচ তিনি (ইবনু উমার) এ কথার অর্থ ভুল বুঝেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন তার সঠিক তাৎপর্য হচ্ছে এইঃ আমি যা কিছু তাদেরকে তাদের জীবদ্দশায় বলেছিলাম, তারা এখন ভালভাবে তা অনুধাবন করেছে যে, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও সত্য। অতঃপর তিনি (আয়িশাহ) এ দু'টি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "আপনি অবশ্যই মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন"- (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৭০, সূরাহ রুম ৩০ঃ ৫২)। এবং "আপনি কবরের অধিবাসীদেরকেও শুনাতে সক্ষম নন"- (সূরাহ ফা-ত্বির ৩৫ঃ ২২২)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটা তখন বলেছিলেন তখন তারা জাহান্নামে নিজ ঠিকানায় পৌছে গেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২২, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে শুনেছেন যখন তার কাছে উল্লেখ করা হ'ল যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানকে (ইবনু উমার) ক্ষমা করুন, কথাটা ঠিক নয়। তবে তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তিনি (প্রকৃত কথাটা) ভুলে গেছেন অথবা ভুল বুঝেছেন। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী নারীর করের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছে। তিনি বললেন, তারা এর জন্য কান্নাকাটি করছে আর এ নারীকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আলী ইবনু রবী'আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির প্রতি বিলাপ করা হয়েছে, সে হচ্ছে কুফা নগরীর কারাযাহ ইবনু কা'ব। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যার জন্য বিলাপ করে কান্না হয়, কিয়ামতের দিন তাকে এর জন্য আযাব দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৫, ইসলামীক সেন্টার)