حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هِلاَلٍ الْعَبْسِيُّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُصَدِّقِينَ يَأْتُونَنَا فَيَظْلِمُونَنَا . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ " . قَالَ جَرِيرٌ مَا صَدَرَ عَنِّي مُصَدِّقٌ مُنْذُ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ .
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন গ্রাম্য লোক এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, কোন কোন যাকাত আদায়কারী আমাদের কাছে গিয়ে আমাদের উপর যুলুম করে। (ভাল ভাল জন্তু ও মালামাল যাকাত হিসেবে নিয়ে আসে অথচ শারীআতের বিধানানুযায়ী মধ্যম ধরনের বস্তু যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত ) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকে সম্ভষ্ট করে দিবে (যদিও তারা কিছু বাড়াবাড়ি করে)"। জারীর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা শুনার পর যখনই কোন যাকাত আদায়কারী আমার কাছে আসত আমি তাকে সন্তুষ্ট না করে ছাড়তাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও ইসহাক্ক (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইসমাঈল (রহঃ) তাঁরা সকলেই মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বার ছায়ায় বসা ছিলেন। এমন সময় আমি গিয়ে তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেনঃ কাবার প্রভুর শপথ। তারাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি গিয়ে তার কাছে বসলাম কিন্তু অনতিবিলম্বে দাঁড়িয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, সে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা কারা?” তিনি বলেনঃ এরা হলো সব ধনাঢ্য ব্যক্তি তবে তারা নয় যারা এদিকে ওদিকে সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে অকাতরে (আল্লাহর পথে) খরচ করে। তবে সংখ্যায় এরা খুব কম। আর যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন উট, গরু, ছাগল মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট আসবে একং তাকে (মালিককে) ওদের পা ও খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। এর শেষ পশুটি অতিক্রম করলে প্রথমটি পুনরায় এসে ঐরপ করতে আরম্ভ করবে। আর এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বান্দাদের বিচার শেষ হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বাহ শরীফের ছায়ায় বসে ছিলেন। এমন সময় আমি তার কাছে গিয়ে হাজির হলাম। হাদীসটির বাকী অংশে বর্ণনাকারী ওয়াকী' এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তিনি বলেছেন "সে মহান প্রভুর শপথ যার হাতে আমার জীবন যেসব লোক উট, গরু ও ছাগল রেখে মারা যায় এবং যাকাত আদায় করেনি ....।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু সাল্লাম আল জুমাহী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত হয় এবং তিন দিনের বেশী আমার কাছে এক দীনারও অবশিষ্ট থাকুক- এটা আমি চাই না। তবে আমার উপর যে ঋণ রয়েছে তা পরিশোধ করার পরিমাণ অর্থ আমার কাছে থাকুক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2303 — Sahih Muslim 12:40
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দুপুরের পর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাদীনার কঙ্করময় মাঠ দিয়ে চলছিলাম এবং আমরা উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ “যদি এ উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত হয় তাহলে তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঋণ পরিশোধ করার পরিমাণ অর্থ ছাড়া অতিরিক্ত একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাক তা আমি পছন্দ করি না। তা আমার হস্তগত হলে আমি আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে বণ্টন করে দিব। তিনি সামনের দিকে, ডানে এবং বামে হাতের ইঙ্গিতে এক এক ভরা মুঠ দেখালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা আবার অগ্রসর হলাম। তিনি আবার বললেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আমি হাজির আছি। তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন অঢেল সম্পদের মালিকেরা কম সাওয়াব লাভ করবে। তবে যারা সৎপাত্রে যথোচিতভাবে এভাবে দান করবে তাদের সাওয়াব কোন অংশেই কম হবে না। তিনি মুষ্ঠিভরে পূর্বের ন্যায় ইঙ্গিত করে দেখালেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা চলতে থাকলাম। কিছু দূর অগ্রসর হলে তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি এখানে অপেক্ষা কর এবং আমার ফিরে না আসা পর্যন্ত কোথাও যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন এবং আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেলেন। তারপর আমি কিছু গোলমাল ও শব্দ শুনতে পেয়ে মনে করলাম, বোধ হয় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শক্র দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। আমি তাকে খোজার জন্য মনস্থ করলাম। কিন্তু সাথে সাথে এ স্থান ত্যাগ না করার জন্য তার নির্দেশ আমার মনে পড়ে গেল। তাই আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। অতঃপর তিনি ফিরে আসলে আমি যা কিছু শুনেছিলাম তা তাকে জানালাম। তিনি বললেন, তুমি যার শব্দ শুনেছো তিনি ছিলেন জিবরীল। তিনি আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে বলেছেন, “আপনার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন প্রকার শির্ক না করা অবস্থায় মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, যদি সে যিনা করে এবং চুরি করে (তবুও কি) তিনি বললেন, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে তবুও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ যার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি বাইরে বের হলাম। হঠাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একাকী চলতে দেখলাম, তার সাথে অন্য কোন লোক ছিল না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি ধারণা করলাম, তিনি বোধ হয় কাউকে সাথী করতে পছন্দ করছেন না, তাই এভাবে একাকী চলছেন (অন্যথায় সাহাবীগণ তো কোন সময়েই তাকে একাকী বের হতে দিতেন না)। আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, তাই আমি চাঁদের আলোকে বা ছায়ায় চলতে লাগলাম (যাতে তিনি আমাকে দেখতে না পান)। তিনি পিছনের দিকে ফিরে আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, “আবূ যার! আল্লাহ আমাকে আপনার খিদমাতে উৎসর্গকারী হিসেবে কবুল করুন।" তিনি বললেন, হে আবূ যার! আমার সাথে এসো। আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, তারপর কিছু সময় তার সাথে চলার পর তিনি বললেন, যারা এ পার্থিব জীবনে অগাধ সম্পদের মালিক তারা কিয়ামতের দিন নিঃস্ব হবে। তবে যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা সম্পদ দানের পর তারা নিজেদের সম্পদ ডানে, বামে, সামনে, পিছনে ছড়িয়ে দিবে এবং এর দ্বারা বিভিন্নমুখী পুণ্যের কাজ করবে তারা এর ব্যতিক্রম। (অর্থাৎ এরা ধনী হলেও পরকালে মর্যাদার দিক থেকে কোন প্রকার পিছিয়ে থাকবে না)। আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি তার সাথে কিছু সময় হাঁটার পর তিনি আমাকে বললেন, এখানে তুমি বসে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে এমন একটি পরিষ্কার স্থানে বসালেন যার চতুস্পার্শ্বে পাথর ছিল। তিনি আমাকে বললেন, আমার ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে বসে থাকবে। আবূ যার (রাযিঃ) আরও বলেন, অতঃপর তিনি পাথুরে মাঠের মধ্যে চলে গেলেন এবং এতদূরে গেলেন যে, আমি তাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবস্থান করলেন। তারপর আমি তাকে আসতে আসতে এ কথা বলতে শুনলাম, “যদিও চুরি করে, যদিও যিনা করে।" তিনি যখন ফিরে আসলেন আমি আর ধৈর্য ধরতে পারলাম না। তাই তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ হিসেবে কবুল করুন, ঐ পাথুরে স্থানে আপনি কার সাথে আলাপ করছিলেন? আমি তো আপনার কথার জবাব দানকারী কাউকে দেখতে পাইনি। তিনি বললেন, জিবরীল (আঃ)। পাথুরে স্থানে আমার আগেই তিনি এসেছিলেন এবং আমাকে বলেছেন, “আপনি আপনার উম্মাতকে সুসংবাদ দিন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে যাবে। অতঃপর আমি বললাম, হে জিবরীল! যদি আমার সে উন্মত চুরি করে এবং যিনা করে? তিনি এবারও বললেন, তবুও। তিনি বলেন, আমি পুনরায় বললামঃ যদিও সে চুরি করে এবং যিনায় লিপ্ত হয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ যদিও সে শরাব (মাদকদ্রব্য) পান করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আহনাফ ইবনু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদীনায় আসার পর একদা কুরায়শদের এক সমাবেশে বসা ছিলাম। সেখানে তাদের (গোত্রীয় নেতা) দলপতিও উপস্থিত ছিল। এমন সময় মোটা কাপড় পরিহিত সুঠাম দেহের অধিকারী ও রুক্ষ চেহারার এক ব্যক্তি আসল। এসে দাঁড়িয়ে বলল, সম্পদ কুক্ষিগতকারীদের সুসংবাদ দাও যে, একটি পাথর জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে, তাদের কারো বুকের মাঝখানে রাখা হবে। এমনকি তার কাঁধের হাড় ভেদ করে বেরিয়ে যাবে এবং কাঁধের হাড়ের উপর রাখা হলে তা স্তনের বোটা ভেদ করে বেরিয়ে যাবে এবং পাথরটি (আগুনের উত্তাপের ফলে) কাঁপতে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকেরা সবাই মাথা নত করে থাকল এবং তার বক্তব্যের প্রত্যুত্তরে কাউকে কিছু বলতে দেখলাম না। অতঃপর সে পেছন দিকে ফিরে এসে একটি খুঁটির কাছে বসে পড়ল, আমিও তাকে অনুসরণ করলাম। অর্থাৎ তার কাছে এসে বসলাম। তারপর আমি বললাম যে, এরা তো তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছে বলে আমি দেখতে পাচ্ছি। তিনি (উত্তরে) বললেন, এরা (দীন সম্পর্কে) কিছুই বোঝে না বা জ্ঞান রাখে না। আমার বন্ধুবর আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাকে ডাকলেন এবং আমি উপস্থিত হলাম। অতঃপর তিনি বললেন, “তুমি উহুদ পাহাড় দেখতে পাচ্ছ? আমি তখন সূর্যের দিকে আমার দৃষ্টি নিবন্ধ করলাম এবং ধারণা করলাম, হয়ত তিনি আমাকে তার কোন কাজে পাঠাবেন। আমি বললাম, হ্যাঁ দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি বললেন, আমি এটা চাই না যে, এ পাহাড় আমার জন্য সোনা হোক আর যদি এত অঢেল সম্পদের মালিক আমি হয়েও যাই তাহলে ঋণ পরিশোধের জন্য, শুধু তিন দীনার রেখে বাকি সব খরচ করে দিব। অতঃপর এরা শুধু দুনিয়া সঞ্চয় করছে, আর কিছুই বুঝছে না।" বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে বললাম, তুমি ও তোমার কুরায়শ গোত্রীয় ভাইদের কী হয়েছে; তুমি তাদের কাছে প্রয়োজনে কেন যাও না মেলামেশা করো না আর কেন বা কোন কিছু গ্রহণ করো না? উত্তরে সে বলল, তোমার প্রভুর শপথ আমি আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে সাক্ষাতের পূর্বে (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত) তাদের কাছে পার্থিব কোন কিছু চাই না এবং দীন সম্পর্কেও কোন কিছু জিজ্ঞেস করব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ...... আহনাফ ইবনু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি কুরায়শ গোত্রের কতিপয় লোকের সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় আবূ যার (রাযিঃ) সেখানে এসে বলতে লাগলেন, অগাধ সম্পদ পুঞ্জীভূতকারীদেরকে এমন এক দাগের সুসংবাদ দাও যা পিঠে লাগানো হবে এবং পার্শ্বদেশ ভেদ করে বের হবে। আর ঘাড়ে লাগানো হবে এবং তা কপাল ভেদ করে বের হবে। অতঃপর তিনি একপাশে গিয়ে বসলেন। আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা (উত্তরে) বলল, ইনি হলেন আবূ যার (রাযিঃ)। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি তার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, একটু আগে আপনাকে যে কথাটি বলতে শুনলাম তা কী কথা ছিল? তিনি (আবূ যার) বললেন, আমি তো সে কথাই বলছিলাম যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে শুনেছি। রাবী বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এসব দান (অর্থাৎ আমীরগণ গনীমাতের মালের যে অংশ মুসলিমদেরকে দিচ্ছে) এ সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন, তোমরা তা গ্রহণ করতে থাক, কেননা ব্যয়ভার বহনের জন্য এর দ্বারা এখন সাহায্য হচ্ছে। কিন্তু যখন এ দান বা গনীমাত তোমার দীনের বিনিময়ে (মানে হলো দীন ও ঈমান বিক্রি করা তোমাকে দীনের পরিপন্থী কাজে ব্যবহারের চেষ্টা কল্পে হয়) তখন এ দান গ্রহণ করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭৬, ইসলামীক সেন্টার)