حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، فِي حَدِيثِ قُتَيْبَةَ قَالَ قَالَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ " .
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তবে কুতায়বাহ্ (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে যে, “তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন"। আর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ)-এর হাদীস আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “প্রতিটি ভাল কাজই সদাকাহ্ অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ধন সম্পদের মালিকেরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কি তোমাদেরকে এমন অনেক কিছু দান করেননি যা সদাকাহ করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ) একটি সদাকাহ, প্রত্যেক তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) একটি সদাকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সদাকাহ্। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সদাকাহ রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সদাকাহ। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাত বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সাওয়াব হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক আদম সন্তানকেই ৩৬০টি গ্রন্থি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সংখ্যা পরিমাণ আল্লা-হু আকবার বলবে, আলহামদু লিল্লাহ' বলবে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলবে, সুবহা-নাল্ল-হ' বলবে, আসতাগফিরুল্ল-হ' বলবে, মানুষের চলার পথ থেকে একটি পাথর বা একটি কাটা বা একটি হাড় সরাবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে চলাফেরা করবে যে, সে নিজেকে ৩৬০ (গ্রন্থি) সংখ্যা পরিমাণ জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে অর্থাৎ বেঁচে থাকবে। আবূ তওবা তার বর্ণনায় এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, সে এ অবস্থায় সন্ধ্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... মুআবিয়াহ (রাযিঃ) থেকে এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমার ভাই যায়দ এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এখানে “আও আমারা বিল মা’রূফ” (সৎকাজের আদেশ দিবে) এ কথাটি ব্যতীত উল্লেখ করেছেন এবং অন্য সূত্রে তিনি বলেছেন যে, “সে ঐ দিন ঐ অবস্থায় সন্ধ্যা করে।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর রাবী যায়দের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তার হাদীসের মধ্যে "সেদিন সে চলাফেরা করবে" কথাটি বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু আবূ বুরদাহ (রহঃ) তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর সদাকাহ করা ওয়াজিব। প্রশ্ন করা হল, যদি সদাকাহ করার জন্য কিছু না পায়? তিনি বললেন, তবে সে নিজ হাতে উপার্জন করবে এবং নিজে উপকৃত হবে ও সদাকাহ করবে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয় তবে কী হবে? তিনি বললেন, তাহলে সে অসহায় আর্ত মানুষের সাহায্য করবে। রাবী বলেন, আবার জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয়? তিনি বললেন, তাহলে সৎ কাজের কিংবা কল্যাণের আদেশ করবে। আবারো জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে তাও না করে? তিনি বললেন, তবে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে। কেননা এটাও সদাকাহ্। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। এর মধ্যে একটি হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরের প্রত্যেকটি গ্রন্থির উপর প্রতিদিনের জন্য সদাকাহ ধার্য রয়েছে। দু' ব্যক্তির মধ্যে ইনসাফ করে দেয়াও একটি সদাকাহ। কোন ব্যক্তিকে সওয়ারীর উপর আরোহণে সাহায্য করা অথবা তার মালামাল সওয়ারীর উপরে তুলে দেয়াও একটি সদাকাহ্। তিনি আরো বলেন, সকল প্রকার ভাল কথাই এক একটি সদাকাহ, সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায়ের জন্য মসজিদে যেতে যতটি পদক্ষেপ ফেলা হয় তার প্রতিটিই এক একটি সদাকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও একটি সদাকাহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০৪, ইসলামীক সেন্টার)
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক বান্দা যখন সকালে ওঠে দু'জন মালাক (ফেরেশতা) অবতীর্ণ হন। তাদের জনৈক বলেন, “হে আল্লাহ খরচকারীর ধন আরো বাড়িয়ে দাও" এবং দ্বিতীয়জন বলেন, “হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দাও।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হারিসাহ ইবনু ওয়াহব (রাযিঃ) বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা সদাকাহ দাও, এমন এক সময় আসবে মানুষ তার সদাকাহ নিয়ে যাকে দিতে যাবে সে বলবে, যদি তুমি গতকাল আসতে তাহলে আমি এটা গ্রহণ করতাম। এখন আমার আর প্রয়োজন নেই। অতঃপর সে সদাকাহ নেয়ার মতো কোন লোক পাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২২০৬, ইসলামীক সেন্টার)