আলী ইবনু হুজ্র আস্ সাদী, ইসহাক্ ইবনু ইবরাহীম ও ‘আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ...... ‘আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেককেই আল্লাহ তা'আলার সাথে কথা বলতে হবে তা এমনভাবে যে, আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে কোন দোভাষী থাকবে না। সে ডান দিকে তাকালে তার পৃথিবীতে করা যাবতীয় কাজ দেখতে পাবে। আর বাম দিকে তাকালেও সে তার কৃতকর্ম (ছাড়া আর কিছু) দেখতে পাবে না- যা তার মুখের কাছেই থাকবে। সুতরাং এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিস্কৃতি লাভ কর। ইবনু হুজ্র (রহঃ) ..... খায়সামাহ্ (রহঃ) থেকে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে তার বর্ণনায় "একটি পবিত্র এবং ভাল কথার মাধ্যমে হলেও" কথাটি বর্ধিত বর্ণনা রয়েছে। ইসহাক্ (রহঃ) আমর ইবনু মুররাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে খায়সামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২১৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের শাস্তির কথা উল্লেখ করে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং চরম অস্বস্তির ভাব প্রকাশ করলেন- “তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর"। তিনি পুনরায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও এমন ভাব প্রকাশ করলেন যাতে আমাদের মনে হচ্ছিল যে, তিনি তা দেখেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর যদি তা এক টুকরা খেজুরের বিনিময়েও হয়। আর যার এ সামর্থ্যটুকু নেই সে যেন ভাল কথার মাধ্যমে তা করে।” বর্ণনাকারী আবূ কুরায়ব-এর বর্ণনায় كَأَنَّمَا যেন শব্দটির উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, আবূ মু'আবিয়াহ আমার কাছে বলেন এবং আ'মাশ তার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২১৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের কথা উল্লেখ করে (আল্লাহর কাছে) এর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন এবং তিনবার মুখ ফিরিয়ে অস্বস্তির ভাব প্রকাশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর যদি তা এক টুকরা খেজুরের মাধ্যমেও হয়। আর যদি তোমরা এতটুকু দান করতেও সমর্থ না হও তাহলে ভাল কথার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বাঁচো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২১৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... মুনযির ইবনু জারীর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা ভোরের দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তার কাছে পাদুকাবিহীন, বস্ত্রহীন, গলায় চামড়ার আবা পরিহিত এবং নিজেদের তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় একদল লোক আসল। এদের অধিকাংশ কিংবা সকলেই মুযার গোত্রের লোক ছিল। অভাব অনটনে তাদের এ করুণ অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত ও বিষন্ন হয়ে গেল। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বিলাল (রাযিঃ) কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাযিঃ) আযান ও ইকামাত দিলেন। সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষ করে তিনি উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে মানব জাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তি থেকে আদম (আঃ) থেকে সৃষ্টি করেছেন। ..... নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১)। অতঃপর তিনি সূরা হাশরের শেষের দিকের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের জন্য কী সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ্য করে"- (সুরাহ আল হাশর ৫৯ঃ ১৮)। অতঃপর উপস্থিত লোকদের কেউ তার দীনার, কেউ দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ এক সা' আটা ও কেউ এক সা খেজুর দান করল। অবশেষে তিনি বললেন, অন্ততঃ এক টুকরা খেজুর হলেও নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, আনসার সম্পপ্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বিরাট থলি নিয়ে আসলেন। এর ভারে তার হাত অবসাদগ্ৰস্ত হয়ে যাচ্ছিল কিংবা অবশ হয়ে গেল। রাবী আরো বলেন, অতঃপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করতে থাকল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দু'টি স্তুপ হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মুবারক খাটি সোনার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে হাসতে লাগল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম প্রথা বা কাজের প্রচলন করে সে তার এক কাজের সাওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা তার এ কাজ দেখে তা করবে সে এর বিনিময়েও সাওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সাওয়াব কোন অংশে কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে (ইসলামের পরিপন্থী) কোন খারাপ প্রথা বা কাজের প্রচলন করবে, তাকে তার এ কাজের বোঝা (গুনাহ এবং শাস্তি) বহন করতে হবে। তারপর যারা তাকে অনুসরণ করে এ কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ বোঝাও তাকে বইতে হবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শাস্তি কোন অংশেই কমবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আনবারী (রহঃ) ..... মুনযির ইবনু জারীর (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা দিনের প্রথম ভাগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম ..... ইবনু জাফারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আর মুআয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ خَطَبَ "অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন এবং ভাষণ দিলেন" উক্তিটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২১, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী, আবূ কামিল এবং মুহাম্মাদ আবদুল মালিক আল আল উমাবী (রহঃ) ..... মুন্যির ইবনু জারীর (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় চামড়ার আবা পরিহিত একদল লোক আসলেন ..... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছে, অতঃপর তিনি যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর ছোট একটি মিম্বারে উঠে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে নাযিল করেছেন- “হে মানব গোষ্ঠী! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২২, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় গ্রাম থেকে কয়েক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল। তিনি তাদের দুরবস্থা দেখেন। তারা অভাব অনটনে নিমজ্জিত আছে। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বের হাদীসসমূহের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন ও বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বোঝা বহনকারী শ্রমিক ছিলাম, আমাদেরকে দান-খয়রাত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। অতঃপর আবূ আকীল অর্ধ সা' সদাকাহ করল এবং আরেক ব্যক্তি এর চেয়ে কিছু বেশী নিয়ে আসল। মুনাফিকরা বলতে লাগল আল্লাহর কাছে সামান্য দানের কোন মূল্য নেই এবং তিনি এর মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি (আবূ আকীল) শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশেই দান করেছেন। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হলোঃ "যারা বিদ্রুপ করে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদাকাহ্ প্রদানকারী মুমিনদেরকে, আর তাদেরকে যাদের পরিশ্রমিক ছাড়া কোন আয় বা সামর্থ নেই”- (সূরা আত্ত্বওবা ৯ঃ ৭৯)। বিশরের বর্ণনায় مُطَّوِّعِينَ শব্দটি নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে এ হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সাঈদ ইবনু রবী এর বর্ণনায় আছেঃ আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা পিঠে করে বোঝা বহন করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৫, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ "যে ব্যক্তি কোন পরিবারকে এমন একটি উষ্ট্ৰী দান করে যা সকাল ও সন্ধ্যা বড় একটি পাত্র ভর্তি দুধ দেয়, এর বিনিময়ে তার অনেক সাওয়াব হয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৬, ইসলামীক সেন্টার)