আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, "সিয়াম (রোজা/রোযা) আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিফল দান করব।” সিয়াম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফত্বর করে আনন্দিত হয়, অপরটি হলো যখন সে মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে আনন্দিত হবে। সে মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ তা'আলার কাছে মিশকের সুগন্ধের চেয়েও তীব্র।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু উমার ইবনু সুলায়ত্ব (সালীত্ব) আল হুযালী (রহঃ) ..... যিরার ইবনু মুররাহ (রহঃ) অর্থাৎ আবূ সিমান থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে আরো আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারী আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তাকে প্রতিদান দিবেন তখন সে আনন্দিত হবে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে রাইয়্যান' নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারীগণ ছাড়া অন্য কেউ তাদের সাথে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কিয়ামতের দিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারীদেরকে ডেকে বলা হবে, সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারীদের শেষ লোকটি প্রবেশ করার সাথে সাথে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। অতঃপর সে দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2711 — Sahih Muslim 13:217
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ، أَبِي صَالِحٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .
মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনুল মুহাজির (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধের সময়) একদিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে এ দিনের (সিয়ামের) বারাকাতে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর আল আবদী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে, আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “হে আয়িশাহ! তোমাদের কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তিনি বললেন, আমি সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারী। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে চলে গেলেন। পরে আমাদের জন্য হাদিয়াহ (হাদিয়া/উপহার) হিসেবে কিছু জিনিস আসলো এবং সাথে সাথে আমাদের কাছে কিছু সংখ্যক মেহমানও আসলো। তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফিরে আসলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে কিছু জিনিস এসেছে এবং কয়েকজন মেহমানও এসেছে (তাই হাদিয়্যার বেশীর ভাগ তাদেরকে খাইয়ে দিয়েছি)। আমি তা থেকে কিছু অংশ আপনার জন্য লুকিয়ে রেখেছি। তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম, তা হলো হায়স (খেজুর, পনির ও আটার সমন্বয়ে তৈরি হালুয়া)। তিনি বললেন, তা নিয়ে এসো। অতঃপর আমি তা নিয়ে আসলাম। তিনি তা খেয়ে বললেন, আমি ভোরে সিয়াম পালন করেছিলাম। ত্বলহাহ বলেন, আমি এ হাদীসটি মুজাহিদের কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বলেন, এটা (এভাবে নাফল সিয়াম ভেঙে ফেলা) এমন ব্যক্তির সাথে তুল্য যে নিজের সম্পদ থেকে সদাকাহ্ বের করে। অতঃপর সে ইচ্ছা করলে তা দিতেও পারে আর রেখেও দিতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে বললেন, তোমাদের কাছে কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে আমি সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করলাম। আর একদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে ‘হায়স' (ঘি বা পনির মিশ্রিত খেজুর) হাদিয়াহ দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আমাকে তা দেখাও; অবশ্য আমি সকালে সিয়ামের নিয়্যাত করেছি। অতঃপর তিনি তা খেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2716 — Sahih Muslim 13:222
وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ الْقُرْدُوسِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ " .
আমর ইবনু মুহাম্মাদ আন্ নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সিয়াম (রোজা/রোযা) অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়েছে বা পান করেছে সে যেন তার সিয়াম (রোজা/রোযা) পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2717 — Sahih Muslim 13:223
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ شَقِيقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ قَالَتْ وَاللَّهِ إِنْ صَامَ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ حَتَّى مَضَى لِوَجْهِهِ وَلاَ أَفْطَرَهُ حَتَّى يُصِيبَ مِنْهُ .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ মাস সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ তিনি আজীবন রমযান ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ এক মাস সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি অন্তত কিছু সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৪, ইসলামীক সেন্টার)