মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে তার বর্ণনায় হাদীসের শেষাংশ এরূপঃ "যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, ত্বলহাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) এবং আরও এক ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তারা উভয়ে ইহরাম খুলে ফেলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন জাহিলী যুগে লোকেরা হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ পালন করাকে পৃথিবীর বুকে সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধ মনে করত এবং মুহাররম মাসকে ‘সফর মাস হিসেবে গণনা করত। তারা বলত, যখন উটের পিঠ ভালো হয়ে যাবে, হাজীদের পদচিহ্ন লুপ্ত হয়ে যাবে এবং সফর মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন যে ব্যক্তি উমরাহ করতে চায়, তার জন্য তা করা জায়িয হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে যিলহাজের চার তারিখে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে তিনি তাদের হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ তাদের কাছে গুরুতর কাজ বলে মনে হল। অতএব তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিরূপে ইহরামমুক্ত হব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আবূল আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন। তিনি যিলহাজ্জ মাসের ৪ তারিখের পর (মাক্কাহ (মক্কাহ) পৌছলেন এবং ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষে তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করতে চায়, সে তা করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3011 — Sahih Muslim 15:219
وَحَدَّثَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْمُبَارَكِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ أَمَّا رَوْحٌ وَيَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ فَقَالاَ كَمَا قَالَ نَصْرٌ أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ . وَأَمَّا أَبُو شِهَابٍ فَفِي رِوَايَتِهِ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُهِلُّ بِالْحَجِّ . وَفِي حَدِيثِهِمْ جَمِيعًا فَصَلَّى الصُّبْحَ بِالْبَطْحَاءِ . خَلاَ الْجَهْضَمِيَّ فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْهُ .
ইবরাহীম ইবনু দীনার, আবূ দাউদ আল মুবারাকী ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... শু’বাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাওহ ও ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) এর বর্ণনায় নাসর (রহঃ) এর অনুরূপ কথা আছেঃ “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন।" আবূ শিহাব (রহঃ) এর বর্ণনায় আছেঃ “আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম।" তাদের সকলের বর্ণনায় আছেঃ "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল বাত্বহা নামক স্থানে ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন।” কিন্তু আল জাহযামী (রহঃ) এর বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3012 — Sahih Muslim 15:220
وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ السَّدُوسِيُّ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَّاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ لأَرْبَعٍ خَلَوْنَ مِنَ الْعَشْرِ وَهُمْ يُلَبُّونَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً .
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে (যিলহাজ্জ মাসের প্রথম) দশ দিনের চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মাক্কায় (মক্কায়) উপনীত হন। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'যি তুওয়া' নামক স্থানে ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতিক্রান্ত হবার পর (মাক্কা (মক্কা)-য়) পৌছলেন এবং তার সাহাবীগণের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন নিজেদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করে- কিন্তু যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে ব্যতীত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই সে উমরাহ যা থেকে আমরা ফায়দাহ উঠিয়েছি। অতএব যার সাথে কুরবানীর পশু নেই- সে যেন সম্পূর্ণরূপে ইহরাম খুলে ফেলে। কেননা উমরাকে কিয়ামত পর্যন্ত হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ জামরাহ্ আয যুবাঈ (রহঃ) বলেন, আমি তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করলাম। কতিপয় লোক আমাকে তা করতে নিষেধ করল। আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা করার নির্দেশ দিলেন। এরপর আমি বায়তুল্লাহতে আসলাম এবং ঘুমালাম। স্বপ্নে আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, উমরা কবুল হয়েছে এবং হাজ্জও কবুল হয়েছে। আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ স্বপ্লের কথা বললাম। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! এতো আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফাহ নামক স্থানে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর নিজের (কুরবানীর) উষ্ট্রী নিয়ে আসতে বললেন এবং কুঁজের ডান দিক দিয়ে ফেড়ে দিলেন। ফলে রক্ত প্রবাহিত হল। অতঃপর তিনি এর গলায় দু'টি পাদুকার মালা পরিয়ে দিলেন। এরপর নিজের বাহনে আরোহণ করলেন। অতঃপর তা যখন তাকে নিয়ে আল বায়দায় পৌছল, তখন তিনি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) তালবিয়াহ পাঠ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3017 — Sahih Muslim 15:225
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمَعْنَى حَدِيثِ شُعْبَةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ . وَلَمْ يَقُلْ صَلَّى بِهَا الظُّهْرَ .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে শুবাহ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অবশ্য তিনি এখানে বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফাহ এলেন তবে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন" এ কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৩, ইসলামীক সেন্টার)