সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাহ দিবসের সকালবেলা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিন আপনারা তালবিয়ার ক্ষেত্রে কী বলতেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি ও তার সাহাবীগণ এ পথ ভ্রমণ করেছি। আমাদের কতক 'আল্লা-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করেছে এবং কতক তালবিয়াহ্ (লাব্বায়কা আল্লা-হুম্মা লাব্বায়কা) উচ্চারণ করেছে। এতে আমাদের কেউ কারো দোষ ধরেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব থেকে উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন, পাহাড়ের সরু পথের নিকট পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন, এরপর হালকা ওযু করলেন, পূর্ণ ওযু নয়। আমি তাকে বললাম, সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। এরপর তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, মুযদালিফায় পৌছে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। এরপর সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং (এখানে) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর প্রত্যেকে নিজ নিজ উট বসাল (বিশ্রামের জন্য), এরপর ইশার সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং তিনি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। এ দুই সালাতের মধ্যে তিনি অন্য কোন সালাত আদায় করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য কোন এক গিরিপথে গেলেন। এরপর আমি তার ওযুর পানি ঢেলে দিলাম, এরপর বললাম, সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন কি? তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। তিনি গিরিপথের নিকটে পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন। উসামাহ্ এ কথা বলেননি যে, তিনি পানি ঢেলে দিয়েছেন। বরং বলেছেন, তিনি পানি চাইলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সালাত তো তোমার সম্মুখে রয়েছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলতে থাকলেন এবং মুযদালফায় পৌছলেন। এরপর মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার বাহনে আরোহণ করলেন, তখন 'আরাফাহ দিবসের সন্ধ্যায় আপনারা কী করেছিলেন? তিনি বললেন, যে উপত্যকায় লোকেরা মাগরিবের সময় নিজের উটকে (বিশ্রামের জন্য) বসায়, সেখানে এলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উট বসালেন এবং পেশাব করলেন। উসামাহ্ (রাযিঃ) পানি ঢেলে দেয়ার কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি চেয়ে আনলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন? তিনি বললেন, সালাত তোমার সম্মুখে। এরপর তিনি সওয়ার হয়ে রওনা করলেন। অবশেষে আমরা মুযদালিফায় আসলাম। মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। লোকেরা নিজ নিজ স্থানে উট বসাল কিন্তু মাল-সামান খুলল না, এমনকি ইশার সালাতে দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর লোকেরা মাল-সামান নামাল। আমি (কুরায়ব) বললাম, ভোর হওয়ার পর আপনারা কী করলেন? তিনি (উসামাহ) বললেন, ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার বাহনে (তার পিছনে) সওয়ার হলেন এবং আমি কুরায়শদের অগ্রভাগে পদব্রজে রওনা হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে উপত্যকায় মাক্কার (মক্কার) সম্রান্ত লোকেরা অবতরণ করত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবতরণ করে পেশাব করলেন। তিনি পানি ঢেলে দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি চাইলেন এবং হালকা ওযু করলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সালাত (সালাত/নামাজ/নামায)। তিনি বললেন, সালাত সামনে এগিয়ে আদায় করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীতে পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। উপত্যকায় পৌছে তিনি তাঁর উটনী বসলেন, এরপর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য গেলেন। তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি ওযু করলেন, এরপর সওয়ার হলেন এবং মুযদালিফায় পৌছে তিনি মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) একত্রে আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭০, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আরাফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তনের জন্য রওনা হলেন। উসামাহ (রাযিঃ) তার পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। উসামাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি মুযদালিফায় পৌছা পর্যন্ত অনবরত চলতে থাকলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3106 — Sahih Muslim 15:311
وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، - قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سُئِلَ أُسَامَةُ وَأَنَا شَاهِدٌ، أَوْ قَالَ سَأَلْتُ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْدَفَهُ مِنْ عَرَفَاتٍ قُلْتُ كَيْفَ كَانَ يَسِيرُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَفَاضَ مِنْ عَرَفَةَ قَالَ كَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ .
আবূ রবী' আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, উসামাহ্ (রাযিঃ) কে আমার উপস্থিতিতে জিজ্ঞেস করা হল অথবা (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) আমি উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে তার সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে ছিলেন, তখন তিনি কিভাবে চলেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি ধীর গতিতে সওয়ারী চালালেন, যখন খোলা জায়গা পেলেন, তখন দ্রুতগতিতে হাকালেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শয়বাহ্ (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হুমায়দের রিওয়ায়াতে আছে, রাবী হিশাম (রহঃ) বলেন, عَنَق এর চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে চলাকেنَّصُّ বলা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭৩, ইসলামীক সেন্টার)