মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ কাযা'আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ)-কালে বলে উঠলেন, আল্লাহ ইবনু যুবায়রকে ধ্বংস করুন- যেহেতু সে উম্মুল মু'মিনীন [আয়িশাহ (রাযিঃ)] এর উপর মিথ্যারোপ করেছে যে, সে তাকে নাকি বলতে শুনেছে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে ‘আয়িশাহ! তোমার সম্প্রদায় যদি অতীতে কুফুরী পরিত্যাগকারী না হতো তবে আমি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে তাতে হাতীমের অংশ যুক্ত করে দিতাম। কারণ তোমার সম্প্রদায় কা'বার আয়তন ছোট করে দিয়েছে।” (আবদুল মালিকের এ কথার উপর) হারিস ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রবী'আহ বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! এ কথা আর বলবেন না। কারণ আমি নিজে উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর আবদুল মালিক বললেন, কা'বাহ ঘর ভাঙ্গার পূর্বে যদি আমি তা শুনতে পেতাম, তাহলে ইবনু যুবায়রের ভিতের উপরই তা অটুট রাখতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৪, ইসলামীক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, হাতীমের দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তবে তারা কেন এটাকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করেনি? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের নিকট পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এর দরজা উচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী? তিনি বললেন, তাও তোমার সম্প্রদায়ের কাণ্ড, যাতে তাদের কাঙ্খিত ব্যক্তি তাতে প্রবেশাধিকার পায় এবং অবাঞ্ছিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। তোমার কওমের জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগের যুগ নিকটতম না হলে এবং আমার যদি এ আশংকা না হতো যে, তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে- তা হলে আমি অবশ্যই (হাতীমের) দেয়াল বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং কা'বার দরজা জমিনের সমতলে স্থাপন করার বিষয়ে বিবেচনা করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল হাজার (হাতীম) সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। এরপর পূর্বোক্ত আবূল আহওয়াস-এর হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আছে ['আয়িশাহ (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন] “এর দরজা উচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী যে, সিড়ি ব্যতীত তাতে উঠা যায় না?” এতে আরো আছেঃ "তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যাবার আশংকায়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সওয়ারীতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। এমতাবস্থায় খাস'আম গোত্রের এক মহিলা তার নিকট মাসআলাহ জিজ্ঞেস করতে আসলো। ফাযলও তার দিকে তাকাচ্ছিল এবং মহিলাটিও ফাযলের দিকে তাকাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল এর মুখমণ্ডল অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তার বান্দাদের উপর যে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ফারয (ফরয) করেছেন- তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপরও ফারয (ফরয) হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনের উপর অবস্থান করতে অক্ষম। আমি কি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এটা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সময়কার ঘটনা * (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৭, ইসলামীক সেন্টার)
‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে তার ভাই ফাযলের সূত্রে বর্ণিত খাস'আম গোত্রের এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং তার উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ ফারয (ফরয) হয়েছে। কিন্তু তিনি উটের পিঠে বসে থাকতে সক্ষম নন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাওহা নামক স্থানে একদল আরোহীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং তিনি বললেন, তোমরা কোন সম্প্রদায়ের লোক? তারা বলল, আমরা মুসলিম। তারা আরও জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল। এরপর এক মহিলা তার সামনে একটি শিশুকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, এর জন্য হাজ্জ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সাওয়াব রয়েছে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা তার শিশু পুত্রকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! এর জন্য হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ এবং তোমার জন্য রয়েছে সাওয়াব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা তার শিশুকে তুলে ধরে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সাওয়াব হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২১, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ হে জনগণ! তোমাদের উপর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ফারয (ফরয) করা হয়েছে। অতএব তোমরা হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! তা কি প্রতি বছর? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন এবং সে তিনবার কথাটি বলল। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি হ্যাঁ বললে তা ওয়াজিব হয়ে যাবে (প্রতি বছরের জন্য) অথচ তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা আমাকে ততটুকু কথার উপর থাকতে দাও যতটুকু আমি তোমাদের জন্য বলি। কারণ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং তাদের নবীদের সাথে বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতএব আমি তোমাদের যখন কোন কিছু করার নির্দেশ দেই- তোমরা তা যথাসাধ্য পালন কর এবং যখন তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি তখন তা পরিত্যাগ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৩, ইসলামীক সেন্টার)