ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আলা ইবনুল হাযরামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অনুষ্ঠানাদি শেষ করার পর মুহাজিরগণ মাক্কায় (মক্কায়) তিনদিন অবস্থান করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন বলেছেনঃ হিজরাতের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত অব্যাহত থাকবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদের আহবান জানানো হয় তখন জিহাদে যোগদান কর। মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তা'আলা এ শহরকে সম্মানিত করেছেন- যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা এ শহরের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখবেন। তিনি এ শহরে আমার পূর্বে আর কারও জন্য যুদ্ধ বৈধ করেননি। আমার জন্য মাত্র এক দিনের কিছু সময় তিনি এখানে যুদ্ধ বৈধ করেছিলেন। অতএব তথায় যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম। আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক কিয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার কারণে এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ উপড়ানো যাবে না, এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তখন “আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির (লম্বা ঘাস) সম্পর্কে (অনুমতি দিন)। কারণ তা স্বর্ণকার ও তাদের ঘরের কাজে লাগে। তিনি বললেন, কিন্তু ইযখির (তোলার অনুমতি দেয়া হল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) মানসূর (রহঃ) থেকে এ সূত্রে সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে তিনি "যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন" কথাটুকুর উল্লেখ করেননি এবং কিতাল শব্দের পরিবর্তে কতল শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ শুরায়হ আল আদাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আমর ইবনু সাঈদ (ইবনুল আস ইবনু উমাইয়্যাহ) যখন মাক্কাহ (মক্কা) অভিযানের উদ্দেশে সৈন্য বাহিনীসহ রওনা করেন তখন আবূ শুরায়হ (রাযিঃ) তাকে বলেন, হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন একটি কথা বলতে যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন সকাল বেলা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- যা আমার দু' কান শুনেছে, আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে এবং উভয় চোখ সে দৃশ্য দেখেছে। যখন তিনি তা বলেছিলেন, প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই মাক্কা (মক্কা) কে আল্লাহ তা'আলা হারামে পরিণত করেছেন- কোন মানুষ তাকে হারামের মর্যাদায় উন্নীত করেনি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখেতার পক্ষে সেখানে রক্ত প্রবাহিত করা বা সেখানকার কোন গাছ উপড়ানো হালাল নয়। যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের উদাহরণ পেশ করে এখানে রক্তপাত বৈধ করতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তা'আলা তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এজন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তোমাদের জন্য কখনও অনুমতি দেননি। আর আমার জন্য তিনি তাও এক দিনের সামান্য সময় সেখানে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন। আজকে তার সে হুরমাত (মর্যাদা) গতকালের মতো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা যেন (এ কথা) অনুপস্থিতদের নিকট পৌছে দেয়। আবূ শুরায়হ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল- আমর আপনাকে কী জবাব দিল? তিনি বললেন, হে আবূ শুরায়হ! এ সম্পর্কে আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। নিশ্চয়ই হারাম (কাবাহ্) কোন পাপীকে, কোন হত্যাকারীকে এবং কোন অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭০, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও উবায়দুল্লাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা যখন তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাক্কাহ (মক্কা) বিজয় দান করলেন- তখন তিনি লোকদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চিত আল্লাহ তা'আলা হস্তী বাহিনীর মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশে বাধা প্রদান করেছেন এবং তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদেরকে মাক্কাহ (মক্কাহ) অভিযানে বিজয়ী করেছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত বৈধ ছিল না। আর আমার জন্যও একদিনের কিছু সময় এখানে যুদ্ধ করা হালাল করা হয়েছিল। আমার পরে আর কারও জন্য তা কখনও হালাল করা হবে না। অতএব এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার কাটাদার গাছও উপড়ানো যাবে না এবং এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী (তা তুলে নিতে পারবে)। কারও কোন আত্মীয় নিহত হলে তার জন্য দুটি অবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের অধিকার রয়েছেঃ হয় ফিদয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে নতুবা হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে। আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির ঘাস যা আমরা কবরে দিয়ে থাকি এবং আমাদের ঘরের চালায় ব্যবহার করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিন্তু ইযখির ঘাস (এর কাটার অনুমতি দেয়া হল)। ইয়ামানের অধিবাসী আবূ শাহ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে (এ কথাগুলো) লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। ওয়ালীদ (রহঃ) বলেন, আমি আওযাঈ (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ "হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন"-তাঁর এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, যে ভাষণ তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতে শুনলেন তা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭১, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু লায়স কর্তৃক বানু খুযাআর এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ শেষোক্ত গোত্রের লোকেরা মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের সময়ে প্রথমোক্ত গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি নিজ সওয়ারীতে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা হস্তী বাহিনীর মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ প্রতিরোধ করেন এবং তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদেরকে এর উপর বিজয়ী করেন। সাবধান আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কখনও কারও জন্য তা হালাল নয়। সাবধান! আমার জন্যও এক দিনের সামান্য সময় এখানে (রক্তপাত) বৈধ করা হয়েছিল। সাবধান! এ মুহুর্তে আবার তা (আমার জন্যও) হারাম হয়ে গেল। অতএব এখানকার কাঁটাযুক্ত বৃক্ষও উপড়ানো যাবে না, গাছপালাও কাটা যাবে না এবং পথে পড়ে থাকা বস্তুও তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি (তা তুলতে পারবে)। যার কোন আত্মীয় নিহত হয়েছে তার দুটি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। হয় ফিদয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে, নতুবা কিসাস স্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করতে হবে। রাবী বলেন, আবূ শাহ (রাযিঃ) নামক ইয়ামানের এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। কুরায়শ বংশের এক ব্যক্তি বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস- আমরা তো তা আমাদের ঘর তৈরির কাজে এবং কবরে ব্যবহার করে থাকি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3307 — Sahih Muslim 15:511
حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لأَحَدِكُمْ أَنْ يَحْمِلَ بِمَكَّةَ السِّلاَحَ" .
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো জন্য মাক্কায় (মক্কায়) অস্ত্র বহন করা হালাল নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৩, ইসলামীক সেন্টার)