ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন স্ত্রীলোক সুগন্ধি দ্রব্যের ধোয়া গ্রহণ করে, সে যেন আমাদের সাথে ইশার সালাতে শামিল না হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 999 — Sahih Muslim 4:161
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ . قَالَ فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَنِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُنِعْنَ الْمَسْجِدَ قَالَتْ نَعَمْ .
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কানাব (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান-এর কন্যা আমরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন। মহিলারা (সাজসজ্জার যেসব) নতুন পন্থা বের করে নিয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলো দেখলে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের মতো তাদেরকেও মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেন, আমি আমরাহকে জিজ্ঞেস করলাম, ইসরাঈল বংশের মহিলাদের কি মসজিদে আসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনুস্ সাব্বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলার বাণী- “নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং খুব নীচুস্বরেও পড়বে না, (এর মাঝামাঝি আওয়াজে পড়বে)"— (সূরাহ বনী ইসরাঈল/ইসরা ১৭ঃ ১১০)। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় (লোকচক্ষুর অন্তরালে) গোপন জীবন-যাপন করছিলেন। অতঃপর তিনি সাহাবাদের নিয়ে যখন সালাত আদায় করতেন উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা যখন তা শুনতে পেত তারা কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং এটা নিয়ে আগমনকারীকে গালি দিত। মহান আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেনঃ "তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করো না।" তাহলে মুশরিকরা তোমার কিরাআত শুনে ফেলবে। “আর নীচু স্বরেও পাঠ করবে না”— তাহলে তোমার সাহাবারা তোমার কুরআন পাঠ শুনতে পাবে না। অবশ্য উচ্চস্বরেও পাঠ করবে না, বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি আওয়াজে পাঠ করবে। অর্থাৎ- উচ্চৈঃস্বর ও নিম্নস্বরের মাঝামাঝি স্বরে পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী- “নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং নীচুস্বরেও পড়বে না"- এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দু'আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (অর্থাৎ- দু'আ খুব উচ্চস্বরেও করবে না এবং খুব নিম্নস্বরেও করবে না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণী- "তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওয়াহী আবূত্তি করবেন না"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিবরীল (আঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ করতেন তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা ও ঠোট নাড়তেন। এটা তার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ত। তার অবস্থা থেকেই এটা বুঝা যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “এ ওয়াহী খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়া আমারই দায়িত্ব"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। অর্থাৎ- এটা তোমার অন্তরে পুঞ্জিভূত করে দেয়া এবং তোমাকে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো”— (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। অর্থাৎ- এ ওয়াহী আমি অবতীর্ণ করছি, তুমি তা মনোযোগ সহকারে শুন। এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব। "তোমার মুখ দিয়ে তা বলানো আমার দায়িত্ব"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৯)। এরপর থেকে যখন জিবরীল (আঃ) তার কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতেন, তিনি মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মহান আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1005 — Sahih Muslim 4:167
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ { لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً كَانَ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ - فَقَالَ لِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا . فَقَالَ سَعِيدٌ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا . فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى { لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} قَالَ جَمْعَهُ فِي صَدْرِكَ ثُمَّ تَقْرَأُهُ { فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} قَالَ فَاسْتَمِعْ وَأَنْصِتْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَقْرَأَهُ .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ "এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না” – (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তিনি তা আয়ত্ব করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে তার ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার ঠোট নাড়ালেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) যেভাবে ঠোট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি সাঈদ (রহঃ) নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করলেনঃ “এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহবা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার" - (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। অর্থাৎ- তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। অর্থাৎ- "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তার অনুসরণ করতে থাকো" – (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো এবং চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।” এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) ওয়াহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল (আঃ) চলে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পাঠ হুবহু পড়তেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার একদল সাহাবাকে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওনা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শয়তানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা (জ্বলন্ত আগুনের টুকরা) নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। এদের মধ্যে একদল তিহামাহ প্রদেশের পথ ধরে উকায বাজারের উদ্দেশে বের হলো। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাখলাহ নামক স্থানে তার সাহাবাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলল, আমাদের এবং আসমানের খবরাদির মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, 'হে আমাদের জাতির লোকেরা! "আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ (কুরআন) শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শারীক করব না”— (সূরাহ জিন ৭২ঃ ১-২)। এ ঘটনার পর আল্লাহ তা'আলা তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ "বলো আমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে....."— (সূরাহ জিন ৭২ঃ ১) নাযিল করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি "আলকামাকে প্রশ্ন করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে ইবনু মাসউদ (রাঃ) কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলেন? রাবী বলেন, "আলকামাহ (রহঃ) বললেন, আমি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আপনাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ না, তবে আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা পাহাড়ের উপত্যকায় এবং গিরিপথে তাকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। আমরা মনে করলাম, হয় জিনেরা তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে অথবা কেউ তাকে গোপনে মেরে ফেলেছে। রাবী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, এ রাতটি আমাদের জন্য এতই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে, মনে হয় কোন জাতির উপর এমন রাত কখনো আসেনি। যখন ভোর হলো, আমরা তাকে হেরা পর্বতের দিক থেকে আসতে দেখলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেললাম এবং অনেক খোজাখুজি করেও আপনার কোন সন্ধান পেলাম না। তাই সারারাত আমরা চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি। মনে হয় এরূপ দুর্ভাগ্যজনক রাত কোন জাতির উপর আসেনি। তিনি বলেনঃ জিনদের পক্ষ থেকে এক আহবানকারী আমাকে নিতে আসে। আমি তার সাথে চলে গেলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম। রাবী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন নিদর্শন এবং আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তার কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা করল। তিনি বললেন, যে জন্তু আল্লাহর নামে যাবাহ করা হয়েছে তার হাড় তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হাতের স্পর্শে তা পুনরায় গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাদ্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমাদের) বললেনঃ এ দু’টাে জিনিস দিয়ে শৌচকার্য করো না। কেননা এ দু'টাে তোমাদের ভাইদের (জিনদের) খাদ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)