حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ فَقَرَأَ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আবিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি তাতে সূরাহ আত তীন পাঠ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1039 — Sahih Muslim 4:201
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي الْعِشَاءِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ . فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا أَحْسَنَ صَوْتًا مِنْهُ .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ইশার সালাতে সূরাহ আত তীন পাঠ করতে শুনেছি। আমি তার মতো সুললিত কণ্ঠস্বর আর কারো কাছে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1040 — Sahih Muslim 4:202
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَأْتِي فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ فَصَلَّى لَيْلَةً مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَى قَوْمَهُ فَأَمَّهُمْ فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَانْحَرَفَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى وَحْدَهُ وَانْصَرَفَ فَقَالُوا لَهُ أَنَافَقْتَ يَا فُلاَنُ قَالَ لاَ وَاللَّهِ وَلآتِيَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأُخْبِرَنَّهُ . فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَصْحَابُ نَوَاضِحَ نَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَإِنَّ مُعَاذًا صَلَّى مَعَكَ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَى فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مُعَاذٍ فَقَالَ " يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِكَذَا وَاقْرَأْ بِكَذَا " . قَالَ سُفْيَانُ فَقُلْتُ لِعَمْرٍو إِنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ قَالَ " اقْرَأْ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا . وَالضُّحَى . وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى . وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى " . فَقَالَ عَمْرٌو نَحْوَ هَذَا .
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমাম হলেন। তিনি সূরাহ আল বাকারাহ পড়া শুরু করলেন। এক ব্যক্তি এতে বিরক্ত হয়ে পড়ল। সে সালাম ফিরিয়ে একাকি সালাত আদায় করে চলে গেল। লোকেরা তাকে বলল, হে অমুক তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলল, আল্লাহর শপথ আমি মুনাফিক হয়ে যাইনি। আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাব এবং তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করব। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা উট চালক, দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করি। আর মু'আয (রাযিঃ) আপনার সাথে ইশার সালাত আদায় করে ফিরে এসে আমাদের ইমামতি করলেন এবং সালাতে সূরাহ আল বাকারাহ পড়া শুরু করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুআয এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হে মুআয! তমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি এ রকম এ রকম সূরাহ পাঠ করবে। সুফইয়ান বলেন, আমি 'আমরকে বললাম, আবূ যুবায়র জাবির এর সূত্রে আমাদের বলেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি সূরাহ আশ শামস সূরাহ আয যুহা সূরাহ আল লায়ল এবং সূরাহ আল আ'লা পাঠ করবে। আমুর বললেন, হ্যাঁ, এ ধরনের সূরাই পাঠ করার কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল আল আনসারী (রাযিঃ) তার গোত্রের লোকেদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন। তিনি কিরাআত দীর্ঘায়িত করলেন। ফলে আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি (সালাত ছেড়ে দিয়ে) চলে গেল এবং একাকী সালাত আদায় করল। তার সম্পর্কে মুআযকে অবহিত করা হলে তিনি বললেন, সে তো মুনাফিক। লোকটি যখন এ কথা জানল- সে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেল এবং মুআয (রাযিঃ) যা বলেছেন তা তাকে জানাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ হে মুআয! তুমি কি ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী হতে চাও? তুমি যখন লোকেদের ইমামতি করবে তখন সূরাহ আশ শামস, সূরাহ আল আ'লা, সূরাহ ‘আলাক এবং সূরাহ আল লায়ল পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদেরকে নিয়ে পুনরায় ঐ সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আয (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি নিজ গোত্রের মসজিদে ফিরে এসে তাদেরকে নিয়ে পুনরায় সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1044 — Sahih Muslim 4:206
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي لأَتَأَخَّرُ عَنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ أَجْلِ فُلاَنٍ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا . فَمَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَضِبَ فِي مَوْعِظَةٍ قَطُّ أَشَدَّ مِمَّا غَضِبَ يَوْمَئِذٍ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ فَأَيُّكُمْ أَمَّ النَّاسَ فَلْيُوجِزْ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِهِ الْكَبِيرَ وَالضَّعِيفَ وَذَا الْحَاجَةِ " .
ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, অমুক লোকের কারণে আমি ফজরের সালাতে দেরীতে উপস্থিত হই। কারণ সে খুব লম্বা কিরাআত পাঠ করে। (রাবী বলেন) আমি সেদিনকার মতো আর কোন দিনের ওয়াজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এতোটা গোস্সা হতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মানুষকে ভাগিয়ে দেয়। তোমাদের যে কেউ ইমামতি করে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোকও রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকেদের ইমামতি করে- সে যেন সালাত হালকা এবং সংক্ষেপ কর। কেননা তাদের মধ্যে বালক, বৃদ্ধ, দুর্বল এবং রুগ্ন ব্যক্তিরাও রয়েছে। সে যখন একাকি সালাত আদায় করবে, তখন যত ইচ্ছা দীর্ঘ সূরাহ পড়তে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1047 — Sahih Muslim 4:209
حَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا مَا قَامَ أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفِ الصَّلاَةَ فَإِنَّ فِيهِمُ الْكَبِيرَ وَفِيهِمُ الضَّعِيفَ وَإِذَا قَامَ وَحْدَهُ فَلْيُطِلْ صَلاَتَهُ مَا شَاءَ " .
ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। এগুলোর মধ্যে একটি হাদীস এই- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি লোকেদের সালাতে ইমামতি করতে দাঁড়ালে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে যেমন বৃদ্ধরা রয়েছে তেমন দুর্বলরাও রয়েছে। যখন সে একাকি সালাত আদায় করে তখন নিজ ইচ্ছামত তার সালাত দীর্ঘ করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)