ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন (একাকি) সালাত আদায় করে সে যেন নিজের সামনে দিয়ে কাউকে চলাচল করতে না দেয়। সে সাধ্যমত তাকে বাধা দিবে। অতিক্রমকারী যদি এ থেকে বিরত হতে না চায় তবে সে (সালাত আদায়কারী) যেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু হিলাল অর্থাৎ- হুমায়দ (বাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক সাখী কোন একটি ব্যাপারে আলাপ রত ছিলাম। এমন সময় আবূ সালিহ "আস সাম্মান" বলে উঠলেন, আমি আবূ সাঈদ-এর কাছে যা শুনেছি এবং দেখেছি তা তোমাকে বলছি। এক জুমু'আর দিন আমি আবূ সাঈদ-এর সাথে ছিলাম। তিনি একটি জিনিস সামনে রেখে লোকেদের আড়াল করে সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় আবূ মু'আয়ত গোত্রের একটি যুবক সেখানে এসে উপস্থিত হলো। সে আবূ সাঈদ এর সামনে দিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করল। তিনি তার গলা ধরে ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু যুবকটি আবূ সাঈদ এর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। সে পুনরায় তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করল। তিনি পূর্বের চেয়ে অধিক জোরে গলা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিলেন। সে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে গেল। ইতিমধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে গেল। সে বের হয়ে সরাসরি মারওয়ানের কাছে উপস্থিত হয়ে (তার বিরুদ্ধে) অভিযোগ দায়ের করল। রাবী বলেন, ইতিমধ্যে আবূ সাঈদও মারওয়ানের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। মারওয়ান তাকে লক্ষ্য করে বলল, আপনার এবং আপনার ভাতিজার মধ্যে কি ঘটেছে? সে এসে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) উত্তরে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ যখন কোন কিছু দিয়ে লোকেদের আড়াল করে সালাত আদায় করে; এমতাবস্থায় যদি কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় সে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। যদি সে বিরত হতে অস্বীকার করে তবে সে (সালাত আদায়কারী) যেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদর কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন নিজের সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। যদি সে বিরত না হয়, তবে (সালাত আদায়কারী) তার (অতিক্রমকারীর) বিরুদ্ধে (লড়াই করবে) অস্ত্র ধারণ করবে। কেননা তার সাথে শয়তান রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1131 — Sahih Muslim 4:293
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ يَسَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ . بِمِثْلِهِ .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... বুসর ইবনু সা’ঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী তাকে আবূ জুহায়ম এর কাছে পাঠালেন। উদ্দেশ্য সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যা শুনেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা। আবূ জুহায়ম বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে চলাচলকারী যদি জানত সে কত বড় পাপ করছে; তাহলে সে তার সামনে দিয়ে চলাচল করার পরিবর্তে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা নিজের জন্য ভাল মনে করত। আবূ নাযর বলেন, তিনি কি চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর বলেছেন- তা আমার জানা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ইবনু হাইয়্যান আল আবদী (রহঃ) ..... জুহায়ম আল আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 1134 — Sahih Muslim 4:296
حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ كَانَ بَيْنَ مُصَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْجِدَارِ مَمَرُّ الشَّاةِ .
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা’দ আস্ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাতের স্থান এবং (তার সামনের) দেয়ালের মাঝখান একটি ছাগল চলাচল করার পরিমাণ প্রশস্ত ছিল। (অর্থাৎ- তিনি সুতরাহ এর খুব কাছাকাছি দাঁড়াতেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "মাসহ(মাসেহ)াফ" এর নিকটবর্তী স্থানটি খুঁজতেন। তিনি (সালামাহ) উল্লেখ করেছেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ স্থানটি (সালাতের জন্য) নির্দিষ্ট করে নিয়েছিলেন। এ স্থানটি ছিল মিম্বার এবং কিবলার মাঝখানে। স্থানটি একটি ছাগল চলাচল করার পরিমাণ প্রশস্ত ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবায়দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) "মুসহাফ" এর নিকটবর্তী স্তম্ভ সংলগ্ন জায়গাটি খুঁজে সেখানে সালাত আদায় করতেন। আমি তাকে বললাম, হে মুসলিমের পিতা; আমি আপনাকে এ খুঁটি সংলগ্ন জায়গাটি খুঁজে সেখানে সালাত আদায় করতে দেখছি। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ খুঁটির সাথে সংলগ্ন স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, সে যেন হাওদার খুঁটির ন্যায় একটি কাঠি তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। যদি সে তার সামনে হাওদার পিছনের খুঁটির ন্যায় একটি কাঠি দাঁড় না করায়- এমতাবস্থায় তার সামনে দিয়ে গাধা, মহিলা এবং কালো কুকুর চলাচল করলে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। ['আবদুল্লাহ ইবনু সীমিত (রাযিঃ) বলেন] আমি বললাম, হে আবূ যার (রাযিঃ) কালো কুকুরের কি অপরাধ, অথচ লাল ও হলুদ বর্ণের কুকুরও তা রয়েছে? তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করেছ, আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ রকম প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছেনঃ কালো কুকুর হলো একটি শয়তান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)