আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) [শব্দাবলী আবূ বাকর এর] ... জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে আমার কোন খলীল বা একান্ত বন্ধু থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে মুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ ইবরাহীমকে যেমন খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সে রকমভাবে আমাকেও খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে আবূ বকরকেই তা করতাম। সাবধান থেকো তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরসমূহকে মাসজিদ (সাজদার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান তোমরা কবরসমূহকে সাজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করে যাচ্ছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ আল খাওলানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) যে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাসজিদ নির্মাণ করলেন এবং এ কারণে লোকজন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলো তখন উবায়দুল্লাহ খাওলানী উসমানকে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছ। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে মসজিদ নিৰ্মাণ করে। হাদীস বর্ণনাকারী বুকায়র বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন এর মাধ্যমে (মাসজিদ নির্মাণ) যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা করে তাহলে মহান আল্লাহ তা'আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইবনু ঈসা তার বর্ণনায় (জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭০, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ... মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) মাসজিদ নির্মাণ করতে মনস্থ করলে লোকজন তা করা পছন্দ করলো না। বরং মাসজিদ যেমন আছে তেমন রেখে দেয়াই তারা ভাল মনে করলো। তখন উসমান বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে কেউ মাসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তা'আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ একখানা ঘর তৈরি করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা আল হামদানী আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আসওয়াদ ও আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা (উভয়ে) বলেছেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর বাড়ীতে তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এসব আমীর-উমারাহ এবং তাদের অনুসারীগণ যারা তোমাদের পেছনে রয়েছে তারা কি সালাত আদায় করেছে? জবাবে আমরা বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে উঠে সালাত আদায় করে নাও। (কারণ সালাতের সময় হয়ে গিয়েছে)। কিন্তু তিনি আমাদেরকে আযান কিংবা ইকামাত দিতে বললেন না*। বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, সালাত আদায়ের জন্য আমরা তার পিছনে দাঁড়াতে গেলে তিনি আমাদের একজনকে ধরে তার ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং অপরজনকে বা পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন**। তিনি রুকূ’তে গেলে আমরাও রুকূ’তে গিয়ে হাঁটুর উপর আমাদের হাত রাখলাম। তখন তিনি আমাদের হাত ধরলেন এবং হাতের দু' তালু একত্রিত করে দু' উরুর মধ্যখানে স্থাপন করলেন। পরে সালাত শেষে বললেন, অচিরেই এমন সব আমীর-উমারাহ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটবে যারা সময়মত সালাত না পড়ে বিলম্ব করবে এবং সালাতের সময় এত সংকীর্ণ করে ফেলবে যে, সূর্য অস্তমিত প্রায় হয়ে যাবে। তাদেরকে এরূপ করতে দেখলে তোমরা সময়মত সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে পুনরায় নাফল হিসেবে পড়ে নিবে (ইমামকে মাঝখানে রেখে)। তিনের অধিকজন থাকলে একজন ইমাম হবে (সামনে দাঁড়াবে) আর রুকূ’ করার সময় দু হাত উরুর উপর রেখে রুকূ’তে যাবে এবং উভয় (হাতের) তালু একত্রিত করে দু' উরুর মাঝখানে রাখবে। (এসব কথা বলার পর তিনি বললেন, এ মুহুর্তে) আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক হাতের অঙ্গুলি অপর হাতের অঙ্গুলিতে ঢুকাতে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি তা তাদেরকে দেখালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭২, ইসলামীক সেন্টার)
মিনজাব ইবনুল হারিস আত তামীমী, উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আলকামাহ ও আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা (উভয়ে) আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) এর কাছে গেলেন। এরপর তারা মু'আবিয়াহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে ইবনু মুসহির ও জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরস্পর বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রাখা আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি রুকূ’ অবস্থায় আছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) আলকামাহ ও আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা (আলকমাহ ও আসওয়াদ) এক সময়ে আবদুল্লাহর কাছে গেলে 'আবদুল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, যারা (আমীর-উমারাগণ) থেকে গেল তারা কি সালাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি (আবদুল্লাহ) তাদের দু'জনের মাঝখানে দাঁড়ালেন। তখন তিনি তাদের দু'জনের একজনকে ডানে এবং অপরজনকে বামে দাঁড় করালেন। এরপর আমরা (তার সাথে) রুকূ’ করলাম। এতে তিনি আমাদের হাত আমাদের হাঁটুর উপর রাখলেন। তিনি আমাদের হাত ধরে তা পরস্পর মিলিয়ে (একত্রিত করে) দিয়ে দু’উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) [শব্দাবলী কুতায়বাহ-এর] ...... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ঐ সময় (পিতার সাথে সালাত আদায়ের সময়) আমি আমার হাত দুটি দু' হাঁটুর মাঝখানে রাখলে আমার পিতা আমাকে বললেন, তোমার হাত দুটি হাঁটুর উপর রাখো। কিন্তু আবারও ঐ রকম করলে তিনি আমার হাত দু'টি ধরে বললেন, আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাতের তালু হাটুর উপরে রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
খালাফ ইবনু হিশাম, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ ইয়া'ফুর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ একই সানাদে (উপরে বর্ণিত হাদীসটি) "ফানুহীনা আনহু" পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়েই এর (ফানুহীনা আনহু) পরবর্তী অংশটুকু বর্ণনা করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক সময়ে সালাত আদায় করতে) আমি রুকূ’তে গিয়ে হাত দু'টি একত্রে মিলিয়ে দু' উরুর মাঝে রাখলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন, আমরাও এরূপ করতাম। কিন্তু এরপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখতে আদেশ করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। রুকূ’তে গিয়ে আমি এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অন্য হাতের আঙ্গলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে হাত দু'টি হাঁটুর মাঝে রাখলে তিনি আমার হাতে মৃদু আঘাত করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, প্রথমে আমরা এরূপই করতাম। কিন্তু পরে আমাদেরকে হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৮, ইসলামীক সেন্টার)