وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ شِنْظِيرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ . بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সালাত নষ্ট করার জন্য আমার ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছা হলো তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হলে আমার ভাই নবী সুলায়মানের দুয়া'র কথা তিনি (আঃ) দুয়া করেছিলেন رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي হে প্রভু, তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করে যা আমার পরে আর কারো জন্য যেন না হয়"- (সূরাহ সোয়াদ ৩৮ঃ ৩৫)। (অর্থাৎ- জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেঁধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবনু মানসূর, শু'বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ...... শু'বাহ থেকে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনু জাফার বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা فَذَعَتُّهُ অর্থাৎ "আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম" বর্ণিত হয়নি। আর আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা فَدَعَتُّهُ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবুদ দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমরা শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেনঃ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ "আউযু বিল্লা-হি-মিনকা" অর্থাৎ আমি তোমার (অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আমরা শুনলাম) এরপর তিনি বলছেনঃ أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ “আল আনুকা বি লা'নাতিল্লা-হি” (অর্থাৎ আমি তাকে লা'নাত করছি যেমন আল্লাহ লা'নাত করেছিলেন)। তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় (যে সময় তিনি লা'নাত করছিলেন) তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন। সালাত শেষ করলে আমরা তাকে বললামঃ হে আল্লাহ রসূল! (আজ) আমরা সালাতের মধ্যে আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি যা ইতিপূর্বে আর কোন দিন বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম যে আপনি হাতও বাড়িয়ে দিলেন। (এর কারণ কি?) তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীস আমার মুখের উপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নি-শিখা নিয়ে এসেছিল, তাই আমি أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ কথাটিও আমি তিনবার বললাম। এরপর তিনবারأَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ বললাম, এ কথাটিও আমি তিনবার বললাম, কিন্তু তবুও সে পিছু হটল না। অবশেষে আমি তাকে পাকড়াও করতে ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সুলায়মান যদি দু'আ না করে থাকতেন তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাঁধা থাকত। আর সকাল বেলা মাদীনাবাসীদের ছেলে সন্তানেরা তাকে নিয়ে আনন্দ করত বা মজা করে খেলত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1212 — Sahih Muslim 5:52
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قُلْتُ لِمَالِكٍ حَدَّثَكَ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ فَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا وَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ نَعَمْ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কানাব ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় তার নাতনী আবূল আস ইবনুর রাবী' এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ বিনতু যায়নাবকে কাঁধে উঠিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি যখন দাঁড়াচ্ছিলেন তাকে (উমামাহ বিনতু যায়নাবকে) উঠিয়ে নিচ্ছিলেন। আবার যখন সাজদাতে যাচ্ছিলেন তখন নামিয়ে রাখছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, (আমি এ হাদীসটি সম্পর্কে মালিককে জিজ্ঞেস করলে) মালিক বলেনঃ হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1213 — Sahih Muslim 5:53
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَابْنِ، عَجْلاَنَ سَمِعَا عَامِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّ النَّاسَ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ وَهْىَ ابْنَةُ زَيْنَبَ بِنْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَاتِقِهِ فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا رَفَعَ مِنَ السُّجُودِ أَعَادَهَا .
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ কতাদাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর তার নাতনী আবূল আস ইবনুর রাবী' এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ-কে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা যায়নাবের গর্ভজাত মেয়ে) তার কাঁধের উপর রেখে ইমামাতি করতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রুকূ’তে যাচ্ছেন তখন তাকে (কাঁধ থেকে) নামিয়ে রাখছেন, আবার সিজদা থেকে উঠার পর পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিচ্ছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূত তহির (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর (তার নাতনী) আবূল আস ইবনু রাবী' এর কন্যা উমামাহ (বিনতু যায়নাব) তার কাঁধে বসে আছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করার সময় তাকে নামিয়ে রাখছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা মসজিদে বসেছিলাম এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। এরপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সালাতে ইমামতি করেছেন সে কথা তিনি এ হাদীসে উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবূ হাযিম) বলেছেনঃ সাহল ইবনু সা'দ এর কাছে একদল লোক আসল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার কী কাঠের তৈরি তা নিয়ে ঝগড়া করতে শুরু করল। তখন সাহল ইবনু সা'দ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছিঃ মিম্বার কী কাঠের তৈরি ছিল এবং কে তা তৈরি করেছিল। তা আমি জানি। আর প্রথম যেদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মিম্বারের উপর বসেছিলেন সেদিন আমি তাকে দেখেছিলাম। আবূ হাযিম বলেন, আমি তখন তাকে বললামঃ হে আবূ আব্বাস (সাহল ইবনু সাদ) বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একজন মহিলাকে বলে পাঠালেন যে, তোমার কাঠ-মিস্ত্রি গোলামকে বল সে আমাকে কিছু কাষ্ঠ অর্থাৎ- কাষ্ঠ-নির্মিত আসন তৈরি করে দিক। এর উপর উঠে আমি মানুষের সামনে বক্তব্য পেশ করব। সে সময় আবূ হাযিম উক্ত মহিলার নামও উল্লেখ করেছিলেন। সুতরাং ঐ মহিলার গোলাম এ তিন স্তরবিশিষ্ট মিম্বারটি তৈরি করে দিয়েছিল। আসনটি ছিল (মাদীনার) গাবাহ নামক বনের বন্য-ঝাউ গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে তা এ স্থানে (মসজিদে) স্থাপন করা হলো। সাহল ইবনু সা'দ বলেনঃ আমি দেখলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন সালাতের জন্য। তার সাথে সাথে লোকেরাও তাকবীর বলল। এ সময় তিনি মিম্বারের উপরে ছিলেন। এরপর তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং পিছনের দিকে হেঁটে মিম্বার থেকে নামলেন এবং মিম্বারের গোড়াতেই (পাশেই) সিজদা করলেন। এরপর আবার গিয়ে মিমবারে উঠলেন এবং এভাবে সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ হে লোকজন। আমি এরূপ এজন্য করলাম যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পার এবং আমি কিভাবে সালাত আদায় করি তা শিখে নিতে পার। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেনঃ কিছু সংখ্যক লোক সাহল ইবনু সাদ-এর কাছে আসলো। (অন্য সানাদে) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহরর ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমার সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ এর মাধ্যমে আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেন যে, তারা সাহল ইবনু সাদ এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার তৈরি ছিল? এটুকু বর্ণনা করার পর ইবনু আবূ হাযিম পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৮, ইসলামীক সেন্টার)